
আরাফাত আলী,স্টাফ রিপোর্টার:
সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার চলমান টিআর ও কাবিখা প্রকল্পের ২০২৫-২৬ অর্থবছরের ১২টি ইউনিয়নের উন্নয়ন কাজের তথ্য দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মফিজুর রহমান। রবিবার সকালে স্থানীয় একজন সাংবাদিক প্রকল্পসংক্রান্ত তথ্য চাইতে গেলে তিনি তথ্য দিতে অপারগতার কথা জানান।
অভিযোগ রয়েছে, এ সময় তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "আমি কোনো তথ্য দেব না। সচিব বললেও তথ্য না দিলে আমার কিছু হবে না। ইউএনও, ডিসি—যাকে খুশি জানান, আমি কারও কাছে তথ্য দিতে বাধ্য নই।
বর্তমানে মফিজুর রহমান কালিগঞ্জ উপজেলার দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি দেবহাটা উপজেলার প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার অতিরিক্ত দায়িত্বও পালন করছেন। তার বিরুদ্ধে দুই উপজেলাতেই বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়ম ও ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ তুলেছেন জনপ্রতিনিধিদের একাংশ।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কালিগঞ্জ উপজেলার কয়েকজন ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান দাবি করেন, টিআর ও কাবিখা প্রকল্পের বিল ছাড়ের আগে পিআইও মফিজুর রহমান প্রায় ২০ শতাংশ অর্থ কেটে রাখেন। তাদের ভাষায়, "এত ঘুষখোর পিআইও আগে দেখিনি। টাকা ছাড়া তিনি কিছুই বোঝেন না।"
একই ধরনের অভিযোগ করেছেন দেবহাটা উপজেলার কয়েকজন চেয়ারম্যানও। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তারা বলেন, "আগে টেলিভিশনে 'মফিজ ভাড়া বিশ' বিজ্ঞাপন দেখতাম, এখন দেখছি পিআইও মফিজের ঘুষের রেটও ২০ শতাংশ। টিআর, কাবিখাসহ বিভিন্ন প্রকল্পে কাজ করতে হলে তাকে ২০ শতাংশ ঘুষ দিতেই হয়।
উল্লেখ্য,পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলায় দায়িত্ব পালনকালেও মফিজুর রহমানের বিরুদ্ধে উন্নয়ন প্রকল্পের বরাদ্দ থেকে ৫ থেকে ১০ শতাংশ পর্যন্ত অর্থ "অফিস খরচ" হিসেবে কেটে রাখার অভিযোগ উঠেছিল। পাশাপাশি ভিজিএফ চাল বিতরণে অনিয়ম এবং প্রকল্প তদারকিতে গাফিলতির অভিযোগও স্থানীয়ভাবে আলোচিত হয়েছিল।
পরবর্তীতে সাতক্ষীরা সদর উপজেলায় দায়িত্ব পালনকালে দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য বরাদ্দকৃত ঢেউটিন ও গৃহনির্মাণ সহায়তা বিতরণে স্বজনপ্রীতি ও অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। বিভিন্ন গণমাধ্যমে এসব অভিযোগ প্রকাশিত হলেও তার বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে কালিগঞ্জ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মফিজুর রহমান বলেন, "যদি ২০ শতাংশ কমিশন দেওয়ার কোনো নিয়ম থেকে থাকে, তাহলে চেয়ারম্যানরাই আমাকে দেন। সে কারণে আমি নিই।"
এ সময় তাকে প্রশ্ন করা হয়, "তাহলে কি আপনি অবৈধভাবে ঘুষ গ্রহণ করছেন?" জবাবে তিনি বলেন, "আমি কোনো অবৈধ অর্থ গ্রহণ করি না। কোনো চেয়ারম্যানের এ ধরনের অভিযোগ করলে সেটা তাদের ব্যাপার।
অন্যদিকে, তথ্য অধিকার আইন অনুযায়ী সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের তথ্য চাওয়া হলে তা প্রদানের বিধান রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান। এ অবস্থায় একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তার তথ্য দিতে অস্বীকৃতি এবং তার বিরুদ্ধে ওঠা ঘুষের অভিযোগ নিয়ে স্থানীয় মহলে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।




























