
মোঃ সোহরাব উদ্দিন মন্ডল, গাজীপুর গাজীপুরের কাশিমপুরে আদালতে রুল জারি থাকা ব্যক্তিমালিকানাধীন জমির ওপর নির্মিত স্থাপনা সিটি করপোরেশনের এক্সকাভেটর দিয়ে ভেঙে রাস্তা নির্মাণের চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বুধবার (১৪ অক্টোবর) সকাল ১১টার দিকে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বারেন্ডা পূর্বপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। ভুক্তভোগী মো. হেলাল উদ্দিন মন্ডলের অভিযোগ, পতিত আওয়ামী লীগের নেতা মীর আসাদুজ্জামান তুলার সঙ্গে যোগসাজশ করে বর্তমান সরকারদলীয় নেতাদের ইন্ধনে নকশাবহির্ভূতভাবে তাঁর পৈতৃক সম্পত্তির ওপর নির্মিত স্থাপনা ভাঙার উদ্যোগ নেওয়া হয়। এ সময় ৩ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি ও কাশিমপুর থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক তাহাজ উদ্দিন মোল্লা সিটি করপোরেশনের এক্সকাভেটর দিয়ে স্থাপনা ভাঙার নির্দেশ দেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। ঘটনাস্থলে কাশিমপুর থানা বিএনপির নেতা গিয়াস সরকার এবং ৫ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের নেতা শাহাদাৎ সরকারসহ ১৫ থেকে ২০ জন উপস্থিত ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ সময় সিটি করপোরেশনের প্রকৌশল বিভাগের কয়েকজন কর্মীও সেখানে উপস্থিত ছিলেন। তবে স্থাপনা ভাঙার উদ্যোগে তাঁদের ভূমিকা কী ছিল, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। হেলাল উদ্দিন মন্ডলের আইনজীবীর দেওয়া রুলসংক্রান্ত সনদ অনুযায়ী, জমি নিয়ে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে রিট পিটিশন নম্বর ১৪০১৯/২০২৬ দায়ের করা হয়। গত ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে বিচারপতি মোহাম্মদ উল্লাহ ও বিচারপতি কাজী ওয়ালিউল ইসলামের সমন্বয়ে গঠিত একটি ডিভিশন বেঞ্চ রুল জারি করেন বলে সনদে উল্লেখ রয়েছে। রুলে বিদ্যমান জরিপকৃত ও সীমানা নির্ধারিত রাস্তার অ্যালাইনমেন্ট পরিবর্তন করে জনসাধারণের রাস্তা নির্মাণ বা প্রশস্ত করার উদ্দেশ্যে আবেদনকারীর তফসিলভুক্ত সম্পত্তিতে অননুমোদিত প্রবেশ, সেখানে থাকা স্থাপনা ভাঙা এবং জমি ব্যবহারের উদ্যোগ আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ও আইনগত কার্যকারিতাহীন ঘোষণা করা হবে না কেন, তা জানতে চাওয়া হয়েছে বলে সনদে উল্লেখ রয়েছে। এ মামলায় স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব, গাজীপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও প্রধান প্রকৌশলীসহ সংশ্লিষ্টদের বিবাদী করা হয়েছে। আইনজীবীর সনদে উল্লেখিত সম্পত্তির তফসিল অনুযায়ী, জমিটি গাজীপুরের বারেন্ডা মৌজায় অবস্থিত। এর জেএল নম্বর ৪৫৪, এসএ খতিয়ান নম্বর ১৫৩, এসএ দাগ নম্বর ২১২, আরএস খতিয়ান নম্বর ৭৫ এবং আরএস দাগ নম্বর ৮০১। সম্পত্তির মোট পরিমাণ আনুমানিক ৮ দশমিক ৫৪ শতাংশ বলে সনদে উল্লেখ রয়েছে। এর মধ্যে নিবন্ধিত এওয়াজ দলিলের মাধ্যমে অর্জিত এজমালি অংশ আনুমানিক ৪ দশমিক ২৭৮ শতাংশ এবং পরবর্তী সাফ-কবলা দলিলের মাধ্যমে অর্জিত অংশ আনুমানিক ৪ দশমিক ২৭ শতাংশ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এ অবস্থায় আদালতে বিচারাধীন জমিতে স্থাপনা ভাঙার উদ্যোগের আইনগত ভিত্তি এবং সিটি করপোরেশনের নকশা ও রাস্তার নির্ধারিত অ্যালাইনমেন্ট অনুসরণ করা হয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এদিকে, নকশার বাইরে গিয়ে স্থাপনা ভাঙার উদ্যোগের উদ্দেশ্য, ঘটনাস্থলে দলীয় নেতাদের উপস্থিতি এবং সিটি করপোরেশনের কর্মীদের সীমানাপ্রাচীর ভাঙার নির্দেশ দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে ৫নং ওয়ার্ড যুবদল নেতা শাহাদাৎ সরকার গণমাধ্যমকর্মীদের হুমকি দেন বলে অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি বলেন, “সাংবাদিকতা আমার সঙ্গে দেখাতে আসবা না, সাংবাদিক মেরে সোজা করতে সময় লাগবে না। এমন সাংবাদিক অনেক সোজা করেছি।” এ ঘটনায় গণমাধ্যমকর্মীদের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। ভুক্তভোগী হেলাল উদ্দিনের অভিযোগ, গত সেপ্টেম্বর মাসেও একই ব্যক্তিরা একই জমির ওপর নির্মিত স্থাপনা ভাঙতে এসেছিলেন। বারবার নকশার বাইরে গিয়ে ব্যক্তিমালিকানাধীন জমিতে স্থাপনা ভাঙার উদ্যোগ নেওয়ার পেছনে কী কারণ রয়েছে এবং এর নেপথ্যে কারও ব্যক্তিগত স্বার্থ কাজ করছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। এ সময় সিটি করপোরেশনের প্রকৌশল বিভাগের তদারকি কর্মকর্তা মাসুদের কাছে নকশাবহির্ভূতভাবে রাজনৈতিক নেতাদের নির্দেশে আদালতে রুল জারি থাকা জমির স্থাপনা ভাঙার উদ্যোগ নেওয়ার কারণ জানতে চান গণমাধ্যমকর্মীরা। তবে এ বিষয়ে তিনি কোনো সদুত্তর না দিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, জমি নিয়ে আদালতে মামলা চলমান থাকা অবস্থায় এ ধরনের উদ্যোগ নতুন বিরোধের সৃষ্টি করতে পারে। তাঁরা জমির মালিকানা, রাস্তার নকশা ও অ্যালাইনমেন্ট, এক্সকাভেটর ব্যবহারের অনুমোদন এবং স্থাপনা ভাঙার উদ্যোগে জড়িত ব্যক্তিদের ভূমিকা নিরপেক্ষভাবে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।





























