
আতিক ফারুকী, নিজস্ব প্রতিবেদক:
খাল পারাপারে প্রতিবার গুনতে হতো টাকা, অপেক্ষা করতে হতো নৌকার জন্য। দুই উপজেলার মানুষের দীর্ঘদিনের এই ভোগান্তি কমাতে নিজ অর্থায়নে বাঁশ-কাঠের সেতু নির্মাণ করে দিয়েছেন সুনামগঞ্জের মধ্যনগর উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মিজানুর রহমান মিনু। তাঁর উদ্যোগে এখন বিনা মূল্যে খাল পারাপারের সুযোগ পাচ্ছেন মধ্যনগর ও নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলার মানুষ। একই স্থানে গত বছরও সেতু নির্মাণ করে দিয়েছিলেন তিনি।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) বিকেলে সুনামগঞ্জের মধ্যনগর ও নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলার মধ্যে যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ সড়কের জোরখলা এলাকার একটি খালের ওপর নির্মিত সেতুটি সর্বসাধারণের চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কয়েক বছর ধরে ওই স্থানে ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে ইজারা দিয়ে গোদারা (নৌকায় পারাপারের ব্যবস্থা) পরিচালনা করা হতো। খাল পারাপারে প্রতিটি মোটরসাইকেল থেকে ২০ টাকা করে নেওয়া হতো। কখনো কখনো এর চেয়েও বেশি টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। ফলে প্রতিদিন একাধিকবার এই পথে যাতায়াত করা মোটরসাইকেলচালকদের বাড়তি অর্থ ব্যয় করতে হতো। ভোগান্তিতে পড়তেন সাধারণ যাত্রীরাও।
একবার পারাপারের খরচ সামান্য মনে হলেও প্রতিদিন কয়েকবার যাতায়াত করা মানুষের জন্য তা নিয়মিত বাড়তি ব্যয়ে পরিণত হয়েছিল। বিশেষ করে শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী ও কর্মজীবী মানুষের জন্য বিষয়টি ছিল দুর্ভোগের। এমন পরিস্থিতিতে বাঁশ-কাঠের সেতু নির্মাণ করে বিনা মূল্যে পারাপারের সুযোগ তৈরি করেছেন মিনু।
স্থানীয়দের ভাষ্য, মধ্যনগর ও কলমাকান্দা উপজেলার মধ্যে যোগাযোগের ক্ষেত্রে সড়কটি বেশ গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিদিন শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী, চাকরিজীবী ও পথচারীসহ অসংখ্য মানুষ এই পথে চলাচল করেন। শতাধিক মোটরসাইকেলও সড়কটি ব্যবহার করে দুই উপজেলার মধ্যে যাতায়াত করে। সেতুটি নির্মাণের ফলে নিয়মিত যাতায়াতকারীদের অর্থ সাশ্রয়ের পাশাপাশি চলাচল সহজ হয়েছে।
মোটরসাইকেলচালক হারুন মিয়া বলেন, ‘আমরা এই রাস্তা দিয়ে দিনে পাঁচ-ছয়বার যাওয়া-আসা করি। গত বছর থেকে আমাদের কোনো টাকা লাগছে না। এর আগে প্রতিদিন এই গোদারায় দুই-তিন শ টাকা দিতে হতো। এখন বিনা মূল্যে পার হতে পারছি। এতে আমাদের অনেক সুবিধা হয়েছে।’
মধ্যনগর প্রেসক্লাবের সভাপতি এমএ মান্নান বলেন, ‘এটি নিঃসন্দেহে একটি ভালো উদ্যোগ। গত বছরও মানুষ এখানে বিনা মূল্যে পারাপারের সুযোগ পেয়েছেন। এবারও মিনু নিজের অর্থায়নে সেতু নির্মাণ করে দেওয়ায় এলাকার শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী ও দূরদূরান্ত থেকে আসা পথচারীরা উপকৃত হবেন।’
নিজের উদ্যোগ সম্পর্কে মিজানুর রহমান মিনু বলেন, ‘আমার বাবা মধ্যনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ছিলেন। তিনি সব সময় এলাকার মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করেছেন। তাঁর সেই আদর্শ ও মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকেই আমিও মানুষের উপকারে আসার চেষ্টা করছি। দুই উপজেলার মানুষের যাতায়াত আরও সহজ করতে এখানে একটি স্থায়ী কালভার্ট নির্মাণের জন্য স্থানীয় সংসদ সদস্যকে অনুরোধ জানিয়েছি। মাননীয় সংসদ সদস্যও শিগগিরই এখানে একটি স্থায়ী কালভার্ট নির্মাণের আশ্বাস দিয়েছেন। সামান্য একটি উদ্যোগের মাধ্যমেও যদি মানুষের উপকার করা যায়, সেটিই আমাদের পরিবারের পক্ষ থেকে করার চেষ্টা করেছি। আল্লাহ তায়ালা যত দিন সামর্থ্য দেবেন, তত দিন মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করব।’




























