
গাজীপুর জেলা সংবাদদাতাঃ গাজীপুর সিটি করপোরেশন এর কোনাবাড়ীতে ১০ বিঘা জমি বর্গা নিয়ে কৃষি কাজ করে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন কালু হিজড়া। এক সময় চাঁদাবাজি ও বিভিন্ন ব্যক্তিদের কাছ থেকে টাকা এবং বাড়ী বাড়ীগিয়ে চাউল তুলতো তারা। তাই দিয়েই কনোমতো চলতো তাদের জীবন। খবর পেয়ে পরিদর্শনে আসেন গাজীপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো.রফিকুল ইসল খান। কথা বলেন কালু হিজড়ার সঙ্গে। দিলেন বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় গত ৫ বছর আগে যেখানে ছিলো ইটের ভাটা। সেখানেই ফলছে সোনার ফসল ধানসহ অন্যান্য শাক সবজি।চলতি বছরে তারা বাইমাইল এলাকায় ১০ বিঘা জমি বর্গা নিয়ে ধান,পিঁয়াজ, মিষ্টি কুমড়া,লাল শাক,মুলা,কলমি শাক,টমেটোসহ বিভিন্ন কৃষির আবাদ করেছেন। কয়েক বছর ধরে তারা অন্যেরজমি বর্গা নিয়ে কৃষি কাজ করে আসছেন বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসী। এলাকাবাসী জানান, গাজীপুর সিটি করপোরেশনের কোনাবাড়ী থানাধীন বাইমাইল এলাকায় বাঁশতলা এলাকায় ৩০ জনের এক দলহিজড়া রুম ভাড়া নিয়ে বসবাস করে। তাদের গুরুমা কালু হিজড়া। তার দেওয়া দিক নির্দেশনা মেনেচলে অন্যরা। তারা বিভিন্ন বাড়ি বাড়ি, দোকান পাটে গিয়ে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র তুলতো। এতে সাধারণ মানুষ ও বিরক্ত হতো। তাদের নিজের কাছেও খারাপ লাগতো। তাই তারা কৃষি কাজের উপর মনোনিবেশ করেছেন।কালু হিজড়া বলেন,দেশের মানুষ দেখুক। আমাদের সহযোগিতা করলে আমরাও কিছু করতে পারি। সমাজের মানুষ সুযোগ দিলে আমরানিজের পায়ে দাঁড়াতে পারি। তিনি বলেন, সরকারি ভাবে যদি আমাদের সাহায্য সহযোগিতা করা হয় তাহলে আমরা কৃষি কাজে লাভবান হবো।এছাড়াও তিনি সরকারের কাছে বাসস্থানের জন্য আহবান জানান। বিভিন্ন জায়গায় হিজড়ারা প্রধানমন্ত্রীর দেয়া উপহারের ঘর পেয়েছে। তাদেরকেও যেন প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া উপহারের ঘর দেওয়া হয়। গাজীপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো.রফিকুল ইসল খান বলেন,সমাজের অবহেলিত হিজড়া সম্প্রদায় কৃষিকে পেশা হিসেবে নিয়েছে এটি একটি ভালো উদ্যোগ। আমরা কালু হিজড়াসহ যারা আছে তাদের কৃষি কাজে সহযোগিতা করতে চাই। তাদেরকে নিয়ে কৃষি কাজের উপর প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে। প্রশিক্ষণ শেষে যেন তারা নিজেরাই চাষআবাদ করতে পারে। তিনি বলেন,আগামী বছর থেকে তাদেরকে ধান বীজ,সার কীটনাশক দেওয়া হবে। যেন কৃষি কাজ করে তারা স্বাবলম্বী হয় সেই ব্যবস্থা করা হবে। এসময় উপস্থিত ছিলেন গাজীপুর সদর উপজেলা কৃষি অফিসার মো.হাসিবুল হাসান,উপ-সহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ অফিসার মুহিদুল ইসলাম, উপ-সহকারী কৃষি অফিসার (কোনাবাড়ী জোন) শরমিন আক্তার ও কোনাবাড়ী থানা কৃষকলীগের সভাপতি মোঃ দেলোয়ার হোসেন মুন্না।




































