
আবু রায়হান টাঙ্গাইল বুরো:
টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার সাগরদিঘী ইউনিয়নের শুকতার বাইত এলাকায় জমি নিয়ে বিরোধের জেরে প্রায় ৭০০টি ফলজ গাছ কেটে ফেলার অভিযোগ উঠেছে মনসুর নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় প্রায় ২৫ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগী কৃষক মো. দেলোয়ার হোসেন।
সোমবার (২ নভেম্বর) টাঙ্গাইল প্রেসক্লাব অডিটোরিয়ামে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব অভিযোগ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে মো. দেলোয়ার হোসেন জানান, মনতলা মৌজার ৪৫৭ নম্বর দাগে প্রায় ১০ একর ৩০ শতাংশ জমি তাঁদের পৈতৃক সম্পত্তি। তাঁর দাবি, ১৯৪৮ সালে তাঁর দাদার নামে ৩৬৯ নম্বর সাফ-কবলা দলিলের মাধ্যমে জমিটি রেজিস্ট্রি করা হয়। পরবর্তী সময়ে আরএস ও বিএস রেকর্ড এবং ১১৮ নম্বর হোল্ডিংয়ে নাম অন্তর্ভুক্ত করে নিয়মিত ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধের মাধ্যমে তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে জমিটি ভোগদখল করে আসছেন।
তিনি অভিযোগ করেন, পূর্বশত্রুতার জেরে একই এলাকার মনসুর (পিতা: আব্দুর রাজ্জাক) বিভিন্ন সময়ে তাঁর কাছে চাঁদা দাবি ও হুমকি দিয়ে আসছিলেন। গত ২৩ অক্টোবর জমিতে চাষাবাদ ও ফসল তোলার সুযোগ দিতে দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন মনসুর। টাকা না দিলে জমি থেকে কোনো ফসল নিতে দেওয়া হবে না বলেও হুমকি দেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
দেলোয়ার হোসেনের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার দিন বিকেলে জমিতে গেলে মনসুর দলবল নিয়ে তাঁর ওপর হামলা চালান। এ সময় তিনি ও তাঁর ভাই প্রাণভয়ে দৌড়ে পালিয়ে যান। পরে তাঁর নির্দেশে জমিতে থাকা প্রায় ৩০০টি লেবু গাছ, ২০০টি কলাগাছ ও ২০০টি পেঁপে গাছ কেটে ফেলা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। এতে আনুমানিক ২৫ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি তাঁর।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, তাকে ও তার পরিবারের সদস্যদের প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি স্থানীয় একটি সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধির মাধ্যমে মিথ্যা তথ্য দিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর সংবাদ প্রচার করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে দেলোয়ার হোসেন ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। একই সঙ্গে তাঁর বিরুদ্ধে করা মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারেরও দাবি জানান। এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন মোহাম্মদ হায়দার আলী,হোসেন মিয়া,বাবুল মিয়া।
তবে উল্লিখিত অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত মনসুরের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।



























