
কোটা আন্দোলনের মধ্যে নরসিংদী কারাগারে হামলা চালিয়ে যেসব কয়েদিকে পালাতে সুযোগ করে দেওয়া হয়, তারা দুই দিন ধরে পুলিশের বিপক্ষে ফায়ার (গুলি) করেছে বলে জানিয়েছেন পুলিশের ঢাকা রেঞ্জের উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) সৈয়দ নুরুল ইসলাম।
তিনি বলেন, নরসিংদীতে জেল লুট করা হয়েছে। ৮২৬ জন কয়েদিকে চলে যেতে বাধ্য করা হয়েছে। জেলে যেসব দুর্ধর্ষ আসামি ছিল, তাদের হাতে অস্ত্র তুলে দেওয়া হয়েছে। ৮ হাজার রাউন্ডের বেশি গুলি তাদের হাতে তুলে দেওয়া হয়। তারা পুলিশের বিপক্ষে দুই দিন ধরে ফায়ার করেছে।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুলাই) বিকালে সাভারের বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন শেষে সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন ডিআইজি নুরুল ইসলাম।
শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে সম্পৃক্ত হয়ে দুটি রাজনৈতিক দল সক্রিয়ভাবে নৈরাজ্য চালিয়েছে উল্লেখ করে নুরুল ইসলাম বলেন, পুলিশের হাতে সহিংসতার যেসব ভিডিওচিত্র এসেছে, তাতে শিক্ষার্থীদের অস্তিত্ব নেই। সহিংসতার সঙ্গে কোটা আন্দোলনের কোনো সম্পর্ক নেই। আন্দোলনে অংশ নেওয়া ছাত্ররা জ্বালাও-পোড়াও করেনি। দেশের কোথাও তারা এ ধরনের কর্মকাণ্ডে অংশ নেয়নি।
তিনি বলেন, নৈরাজ্য সৃষ্টিতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, বিশেষ করে দুটি রাজনৈতিক দল সক্রিয়ভাবে অংশ নেয়। সম্প্রতি মহাসড়কে চলাচল নির্বিঘ্ন করতে হকারদের উচ্ছেদ করা হয়েছিল। সেই হকাররাও জ্বালাও-পোড়াওতে অংশ নেয়। এ সম্মিলিত গোষ্ঠীর উদ্দেশ্য ছিল রাষ্ট্রকে অকার্যকর করা এবং সরকার উচ্ছেদ করা। অর্থাৎ রাষ্ট্রদ্রোহিতার কাজটাই তারা করেছে।
ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি আরও বলেন, ভিডিওতে যাদের দেখেছি, তারা দুষ্কৃতকারী, নৈরাজ্যকারী। তারা রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে, সরকারের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করেছিল। সরকার পতনের মধ্য দিয়ে তারা ফায়দা লুটতে চেয়েছিল।
তিনি বলেন, সাভারে দেখলাম অনেক প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, লুটপাট হয়েছে। পশুসম্পদ অফিসে দেখলাম সব রুম তছনছ করা হয়েছে। এসিগুলো পর্যন্ত খুলে নিয়ে লুট করা হয়েছে। এমনকি টয়লেটের কমোড পর্যন্ত লুট করে নিয়ে গেছে। সহিংসতায় শুধু ভাঙচুরকারীরা নয়, লুটেরারাও অংশ নিয়েছিল। মানুষের জানমাল রক্ষায় পুলিশ দাঁড়িয়েছে, সাধ্যমত আইন প্রয়োগ করার চেষ্টা করেছে। ভবিষ্যতেও আইন প্রয়োগ করে যাবে।
নুরুল ইসলাম বলেন, সাভারে ২০টির বেশি প্রতিষ্ঠান তছনছ করা হয়েছে, ভাঙচুর করা হয়েছে। সড়কে অনেকগুলো গাড়ি পোড়ানো হয়েছে। ডিবি কার্যালয় তছনছ করা হয়েছে। ট্রাফিক পুলিশ বক্স নিশ্চিহ্ন করা হয়েছে। সিটি সেন্টারসহ শপিং মল, দোকানপাট ভাঙচুর করা হয়েছে। তিন দিন ধরে এই নৈরাজ্য চালিয়েছে তারা।
তিনি বলেন, ঢাকা জেলায় ১৯টি মামলা হয়েছে। আড়াই শতাধিক আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। হতাহতের তথ্য বর্তমানে পুলিশের কাছে নেই।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন, ঢাকা রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি মারুফ হোসেন সরদার, ঢাকা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও তদন্ত) আবদুল্লাহিল কাফি, সাভার সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার সাহিদুল ইসলাম, সাভার মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) শাহজামান ও আশুলিয়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) এএফএম সায়েদ প্রমুখ।







































