
আজিজুল হাকিম তুহিন, লামা
বান্দরবানের লামা উপজেলার ফাইতং ইউনিয়নে প্রায় ৩ কোটি ৮৪ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন ২ কিলোমিটার সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পে ফের ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, কাজের শুরু থেকেই নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার ও প্রকল্প বাস্তবায়নে নানা অনিয়মের কারণে তারা একাধিকবার প্রতিবাদ জানিয়েছেন। এমনকি গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ এবং জনসাধারণের প্রতিবাদের মুখে গত ১৭ এপ্রিল একটি প্রতিবাদ সভাও অনুষ্ঠিত হয়েছিল। কিন্তু সেই সভায় দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবে রক্ষা করা হয়নি বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ১৭ এপ্রিল অনুষ্ঠিত প্রতিবাদ সভায় উপস্থিত ছিলেন লামা উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী আবু হানিফ, ঠিকাদার ফরিদ, ফাইতং পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ, স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং সাধারণ জনগণ। সভায় ঠিকাদার ফরিদ কাজের গুণগত মান নিশ্চিত করে নিয়ম অনুযায়ী নির্মাণকাজ সম্পন্ন করার আশ্বাস দেন।
তবে এলাকাবাসীর অভিযোগ, আশ্বাসের পরও বাস্তবে নির্মাণকাজে কোনো পরিবর্তন আসেনি। বরং নির্ধারিত মান বজায় না রেখে কাজ চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে। স্থানীয়দের দাবি, যেখানে বালু ব্যবহার করার কথা, সেখানে মাটি দিয়ে কাজ সম্পন্ন করা হচ্ছে। এতে সড়কের স্থায়িত্ব ও গুণগত মান নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি জানান, কাজের শুরু থেকেই অনিয়ম নিয়ে আমরা আপত্তি জানিয়ে আসছি। কিন্তু ঠিকাদার তার ইচ্ছামতো কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। এভাবে নিম্নমানের কাজ হলে রাস্তা বেশি দিন টিকবে না। সরকারের কোটি কোটি টাকা অপচয় হবে।
তারা আরও অভিযোগ করেন, প্রকল্পে অনিয়মের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অজানা নয়। লামা এলজিইডি অফিসের কর্মকর্তারা বিষয়টি জানার পরও কার্যকর ব্যবস্থা নিচ্ছেন না। এলাকাবাসীর ভাষ্য, দায়িত্বপ্রাপ্ত ইন্জিনিয়ার রেজাউল করিম অনিয়মের বিষয়ে অবগত থাকলেও কোনো ধরনের বাধা বা ব্যবস্থা গ্রহণ করছেন না।
একজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, ঠিকাদার ফরিদ এলাকায় প্রভাবশালী হওয়ায় তার বিরুদ্ধে কেউ কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে না। এলজিইডির নীরবতায় তিনি আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন।
এ বিষয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত ইন্জিনিয়ার রেজাউল করিমের বক্তব্য জানতে একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে উপজেলা প্রকৌশলী আবু হানিফের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য বারবার ফোন করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি। ফলে অভিযোগের বিষয়ে তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত তদন্ত করে প্রকল্পের কাজের মান যাচাই এবং অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক। অন্যথায় সরকারের কোটি টাকার এই উন্নয়ন প্রকল্প জনগণের কোনো কাজে আসবে না এবং অল্প সময়ের মধ্যেই সড়কটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।




























