
আরাফাত আলী,স্টাফ রিপোর্টার:
সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলায় পারিবারিক বিরোধকে কেন্দ্র করে এক নারী, তাঁর অন্তঃসত্ত্বা ভাগনি ও পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের ওপর সংঘবদ্ধ হামলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্বর্ণালংকার ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়া, শ্লীলতাহানি এবং হত্যাচেষ্টার অভিযোগ এনে থানায় এজাহার দায়ের করেছেন এক নারী।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, উপজেলার মথুরেশপুর ইউনিয়নের দুদলী গ্রামের মোছা. নিরালা খাতুন (২৯) গত ১৯ জুন বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে তাঁর ব্যবহৃত কাপড়চোপড় নেওয়ার জন্য স্বামীর বাড়ির সামনে যান। এ সময় পূর্ববিরোধের জেরে অভিযুক্তরা সংঘবদ্ধ হয়ে ধারালো অস্ত্র, লোহার রড, শাবল ও লাঠিসোঁটা নিয়ে তাঁর ওপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
নিরালা খাতুনের দাবি, ঘটনার ভিডিও ধারণ করার সময় তাঁর ব্যবহৃত প্রায় ৭৫ হাজার টাকা মূল্যের মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়া হয়। পরে তাঁকে বেধড়ক মারধর করে শরীরের বিভিন্ন স্থানে আহত করা হয়। একই সময় তাঁর কানে থাকা প্রায় ৪৫ হাজার টাকা মূল্যের স্বর্ণের দুল খুলে নেওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে।
এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, নিরালা খাতুনকে উদ্ধার করতে গেলে তাঁর অন্তঃসত্ত্বা ভাগনি মাছুরা খাতুন, বাবা পিয়ার আলী গাজী, ভাই সজীব, বড় বোন জাহানারা ও মেজ বোন আনোয়ারা পারভীনকেও মারধর করা হয়। হামলার একপর্যায়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে মাছুরা খাতুনের মাথায় কোপ মারা হলে তিনি গুরুতর আহত হন বলে অভিযোগে বলা হয়েছে।
এছাড়া নিরালার দুই বোনের শ্লীলতাহানি করা হয় এবং তাঁদের গলায় থাকা মোট প্রায় ৩ লাখ টাকার স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগও আনা হয়েছে।
স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে এসে আহতদের উদ্ধার করে কালিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। বর্তমানে আহতরা চিকিৎসা নিয়েছেন বলে জানা গেছে।
নিরালা খাতুন অভিযোগ করেন, এর আগেও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হলেও তাঁরা বিভিন্ন সময়ে হুমকি-ধমকি দিয়ে আসছিলেন। ঘটনার পর অভিযুক্তরা পুনরায় হামলা ও প্রাণনাশের হুমকি দিয়েছে বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় ১১ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে আসামি করে কালিগঞ্জ থানায় এজাহার দায়ের করা হয়েছে।
তবে অভিযুক্তরা সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, নিরালার আত্নীয় স্বজন তাদের মারধর করেছে। এছাড়া তাদের মারধরের শিকার হয়ে কয়েক জন মহিলা কালিগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এবিষয়ে কালিগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ শহিদুল ইসলাম বলেন, ভুক্তভোগী নিরালা খাতুন বাদী হয়ে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।




























