
মোঃ সোহরাব উদ্দিন মণ্ডল,গাজীপুর
গাজীপুর মহানগরের কাশিমপুর থানায় বিভিন্ন সড়কে দুর্ঘটনা, অপরাধ ও মামলার ঘটনায় জব্দ করা যানবাহন বছরের পর বছর খোলা আকাশের নিচে অযত্ন-অবহেলায় পড়ে থেকে নষ্ট হচ্ছে। যথাযথ সংরক্ষণের অভাবে অটোরিকশা, ইজিবাইক, ট্রাক, মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহনের মূল্যবান যন্ত্রাংশ নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি ব্যাটারি, মোটর, কন্ট্রোলার, হেডলাইট, চাকাসহ বিভিন্ন যন্ত্রাংশ চুরির অভিযোগও দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয়দের মুখে মুখে ঘুরছে। এতে থানার আলামত সংরক্ষণ ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
সম্প্রতি সরেজমিনে কাশিমপুর থানা এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, থানার সামনে ও পাশের সড়কের একটি অংশ জুড়ে স্তূপ করে রাখা হয়েছে জব্দ করা অসংখ্য যানবাহন। অনেক যানবাহনের ওপর ধুলাবালু জমে গেছে, কোথাও মরিচা ধরেছে, কোথাও আবার আগাছা জন্মেছে। কিছু যানবাহনের চাকা, ব্যাটারি ও অন্যান্য যন্ত্রাংশও নেই বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে খোলা স্থানে পড়ে থাকায় রাতের আঁধারে কিংবা সুযোগ বুঝে অসাধু ব্যক্তিরা এসব যানবাহনের ব্যাটারি ও বিভিন্ন যন্ত্রাংশ খুলে নিয়ে যায়। একাধিকবার এমন অভিযোগ উঠলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে তারা জানেন না। ফলে রাষ্ট্রের হেফাজতে থাকা আলামতই নিরাপত্তাহীন অবস্থায় পড়ে রয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন স্থানীয় ব্যবসায়ী বলেন, "থানার জব্দ করা যানবাহন যদি নিরাপদ না থাকে, তাহলে সাধারণ মানুষের জব্দকৃত সম্পদের নিরাপত্তা কোথায়?" তাদের দাবি, নিয়মিত পাহারা ও সিসিটিভি নজরদারি নিশ্চিত না করায় এ ধরনের চুরির ঘটনা ঘটছে।
এদিকে, থানার পাশের সড়কে দীর্ঘদিন ধরে জব্দ যানবাহন পড়ে থাকায় সড়কের জায়গাও সংকুচিত হয়ে পড়েছে। এতে যান চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে এবং পথচারীদের চলাচলে প্রতিনিয়ত দুর্ভোগ বাড়ছে। বিশেষ করে ব্যস্ত সময়ে যানজটেরও সৃষ্টি হচ্ছে।
আইন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, জব্দ করা যানবাহন আদালতে বিচারাধীন মামলার গুরুত্বপূর্ণ আলামত। এসব আলামত নষ্ট হওয়া বা যন্ত্রাংশ চুরি হয়ে যাওয়া তদন্ত ও বিচার কার্যক্রমকে প্রভাবিত করতে পারে। তাই এসব যানবাহন নিরাপদ স্থানে সংরক্ষণ করা এবং মামলা নিষ্পত্তির পর আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী দ্রুত মালিকের কাছে হস্তান্তর বা নিলামের মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা প্রয়োজন।
সচেতন নাগরিকদের অভিযোগ, বছরের পর বছর একই স্থানে যানবাহন ফেলে রাখার কারণে একদিকে যেমন সরকারি জায়গা দখল হয়ে থাকছে, অন্যদিকে রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপচয় হচ্ছে। এ অবস্থায় জব্দ যানবাহনের সঠিক তালিকা প্রণয়ন, নিরাপদ সংরক্ষণ, যন্ত্রাংশ চুরি রোধে কঠোর নজরদারি এবং দ্রুত আইনানুগ নিষ্পত্তির দাবি জানিয়েছেন তারা।
এ বিষয়ে কাশিমপুর থানার দায়িত্বশীল এক পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, থানায় স্থান সংকুলান না হওয়ায় বাধ্য হয়েই সড়কের উপর গাড়ি রাখতে হচ্ছে। পাশাপাশি নির্ধারিত ছাউনি না শেড না থাকায় খোলা আকাশের নিচে রাখতে হচ্ছে এসব যানবাহন।
স্থানীয়দের দাবি, রাষ্ট্রের হেফাজতে থাকা আলামত যদি অযত্নে নষ্ট হয় এবং সেখান থেকে যন্ত্রাংশ চুরির অভিযোগ ওঠে, তবে তা শুধু প্রশাসনিক ব্যর্থতাই নয়, বিচারিক প্রক্রিয়ার জন্যও একটি উদ্বেগজনক বিষয়। তাই সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ এখন সময়ের দাবি।



























