
মোঃ সোহরাব উদ্দিন মন্ডলগাজীপুরের কাশিমপুরে এসএসসি পরীক্ষার্থী সন্তানকে স্থানীয় প্রভাবশালীদের নির্যাতন থেকে বাঁচাতে গেলে ষাটোর্ধ্ব শহীদুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তিকে খুনের অভিযোগ তুলেছে পরিবার। কিন্তু মৌখিকভাবে খুনের অভিযোগ তুললেও নিহতের পরিবারের সদস্যদের আচরণে জন্ম দিচ্ছে নানা প্রশ্নের।গত মঙ্গলবার (১৯ই মে) গাজীপুর মহানগরীর কাশিমপুর থানাধীন ২নং ওয়ার্ডের চক্রবর্তী মাটির মসজিদ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।নিহতের পরিবারের দাবি, 'মঙ্গলবার দুপুরের দিকে চক্রবর্তী এলাকায় ১৮ বছর আগে তৈরি নিজ বাড়ির সামনে প্রতিবেশী স্থানীয় মোর্শেদা বেগমের সাথে কথা-কাটাকাটি হয় শহীদুলের। কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে মোর্শেদা তার ছোট ভাই আবু বক্কর কে মুঠোফোনে কল দিয়ে নিয়ে আসে,পরে আবু বক্কর তার রুবেল নামের আরেকজন বোন জামাইকে কল দিয়ে নিয়ে আসে। এসময় রুবেলের সাথে রাকিবসহ আরও কয়েকজন ছিলো। বাকবিতন্ডার এক পর্যায়ে প্রধান আসামী রুবেল নিহত শহীদুলের এসএসসি পরীক্ষার্থী ছোট ছেলেকে মারধর শুরু করেন, এক পর্যায়ে টেনে হিচরে পাশের এক বিল্ডিংয়ের ছাদে নিতে চাইলে বাবা শহীদুলসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা এতে বাধা প্রদান করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে অভিযুক্তরা শহীদুলকে ঝাড়ুর গোড়ার শক্ত অংশ দিয়ে ঘাড়ে কয়েকবার আঘাত করেন এবং কিল-ঘুষিও মারতে থাকেন। মারধর করা হয় বাডির নারী সদস্যকেও। এক পর্যায়ে শহীদুল মাটিতে পরে গেলে তাকে দ্রুত পাশের কেপিজে বিশেষায়িত হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।'এদিকে এ ঘটনার পর ৫ দিন অতিবাহিত হলেও পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় কোন লিখিত অভিযোগ না দেয়ায় পরিবারের এহেন আচরণে সন্দেহের সৃষ্টি করেছে বলেও জানিয়েছে এলাকাবাসী। ৫ দিনেও থানায় কোন লিখিত অভিযোগ না জানানোর বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে নিহতের ছেলে রায়হান জানান, 'আমার বোন জামাইয়ের সাথে এ বিষয়ে পরামর্শ করছি, তার সাথে আলোচনা করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে অভিযোগ করবো কি করবো না।'এদিকে ঘটনার বিষয়ে জানতে একাধিকবার ঘটনাস্থলে গিয়ে আশপাশের বাসিন্দা ও দোকানদার ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বললে তারা জানান, তারা কেউই সেদিন দোকানে ছিলেন না বা দোকান খোলেন নাই। এবং কথা কাটাকাটির ঘটনার সম্পর্কে জানলেও মারধরের বিষয়ে কিছুই শোনেন নি বলেও জানান তারা। শহিদুল ইসলামের মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে জানতে চাইলে জানান, নিহত ব্যক্তি আগেও একাধিকবার স্ট্রোক করেছিলেন, মংগলবারও স্ট্রোকেই মারা গেছেন বলে শোনেছেন তারা।'এলাকার স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি নিজেদের নাম পরিচয় গোপন রাখার শর্তে জানান, 'নিহত শহীদুলের পরিবার ষ্ট্রোকের এ ঘটনাকে ভিন্নখাতে নিয়ে নিজেদের ফায়দা হাসিলের চেষ্টা করছে। থানায় অভিযোগ বা মামলা দিবো না এমন শর্তে চলছে গোপনে দরদাম ও লেনদেনের প্রক্রিয়া।' এ বিষয়ে নিহতের ছেলে রায়হান বলেন, 'এলাকার প্রভাবশালী ও বিএনপি নেতা আরফান মেম্বার ও আসুরুদ্দিন এ বিষয়ে লিয়াজুর চেষ্টা করছেন।'লিয়াজুর অভিযোগের বিষয়ে জানতে আরফান মেম্বার ও আসুরুদ্দিনের সাথে কথা বলার চেষ্টা করা হলেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।এদিকে ঘটনার বিষয়ে কাশিমপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মোল্লা খালিদ হোসেন বলেন, ঘটনার বিষয়ে জানতে পেরে সাথে সাথেই আমি থানা থেকে অফিসার পাঠিয়েছি। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ তাজউদ্দিন মেডিকেলে পাঠানো হয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবার ঘটনার দিন থানায় আসলেও অভিযোগ দেয়ার জন্য পরে বার বার বললেও তারা এখনো পর্যন্ত থানায় আসে নাই। তারা হুমকিধামকি পেয়েছেন বলেও কিছুই জানাননি। নিহতের পরিবারের লিখিত অভিযোগ পেলে ময়নাতদন্ত রিপোর্ট পাওয়া স্বাপেক্ষে দ্রুততম সময়ে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে।





























