
কবিহীন রাষ্ট্র হয় না
মো. সেলিম হাসান দুর্জয়
খুব ইচ্ছে ছিল...
কবিতা লিখবো
গল্প লিখবো
উপন্যাস লিখবো
নতুন সৃষ্টিসম্ভারে...সাজাবো আত্মপরিচয়।
বৈধতা যেখানে স্বপ্ন...
পরিচয়হীন কেউ কী
সেখানে...
লিখার অধিকার রাখে?
বেশ্যার ঔরসজাত শিশুটিও
মা ডাকার অধিকার পায়
বাবা?
সে হয়তো ইতিহাসের অন্ধগলিতে লুকানো—
তবু আছে।
আর আমার শব্দেরা?
তারা দাঁড়িয়ে থাকে কফিনবন্দি প্রশ্নে—
তোমার কবিতার মা কে?
তোমার উপন্যাসের পিতা কে?
আমার কবিতার প্রতিটি পঙক্তি... তখন
থরথর করে কাঁপে... পরিচয়!
মা... বাবা... সে তো বহদূর
জন্ম হয়েছে কি?... সেটা নিয়েই
মৌসুমে মৌসুমে প্রশ্ন তুলে
শকুনিমামা...
মঞ্চে, টকশোতে
ব্যানারে আর সমাবেশে।
আমার কবিতার শব্দরা
নুইয়ে পড়ে
ভয়ে...
ঘৃণায়...
আর বিশ্রী আতঙ্কে
কখন... এই বুঝি টুঁটি চেপে
শ্বাসরুদ্ধ করে
কোনো এক পোষা কুকুর।
আমার উপন্যাসের বুকে
বহমান তারুণ্য স্রোত
চিৎকারহীন আক্ষেপে
জমাট বাধে... কালচে রক্তের আভায়।
আমি লিখতে পারিনি
পারি না
কারণ... আমার জন্মের জরায়ুতে
ওরা কলঙ্ক এঁটে দিয়েছে
কালান্তরের জারজ ভূমে।
পরিচয়হীন...
ভূমিহীন... এক কলম
কবি হয়ে উঠে না।
আর... সত্যি বলছি
কবিহীন এক শ্মশানঘাট
রাষ্ট্র হয় না।







































