
বুধবার (৩-রা জুলাই ২০২৪) বেলা ১১ টা ৩০ মিনিটে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ব্যানারে কোটা পুনর্বহাল প্রত্যাহার চেয়ে সমাবেশ করেন শিক্ষার্থীরা।
শিক্ষার্থীরা শহিদ মিনারে কিছুক্ষণ অবস্থান করে ভার্সিটির জিরো পয়েন্ট হয়ে ১ নাম্বার গেট এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে এগিয়ে যায়। বেলা ১২ টার দিকে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা চট্টগ্রাম-রাঙ্গামাটি মহাসড়ক অবরোধ করে এতে অন্তত ১০ কিলোমিটার যানজটের সৃষ্টি হয়।
সমাবেশে ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আব্দুর রহমান বলেন, "এইরকম বৈষম্যমূলক কোটা প্রথা আমরা মানবোনা। পৃথিবীর আর কোথাও এমন বৈষম্যমূলক কোটা প্রথা নাই, আমরা ৫৬% কোটা বৈষম্যের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছি। আগামীকাল চার জুলাই আপিল বিভাগের রায় ঘোষণা পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন চলমান থাকবে। দাবী না মানলে দীর্ঘমেয়াদী কর্মসূচী ঘোষণা করা হবে, ইনশাআল্লাহ।"
সমাবেশে নাট্যকলা বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী খান তালাত মাহমুদ রাফি শিক্ষার্থীদের ৪ দফা দাবি তুলে ধরে বলেন, "আজকে চার দফা দাবীতে আমরা দাঁড়িয়েছি।আমাদের প্রস্তাবনাগুলো হলো: এক. ২০১৮ সালে ঘোষিত সরকারি চাকুরিতে কোটা পদ্ধতি বাতিল ও মেধাভিত্তিক নিয়োগের পরিপত্র বহাল রাখতে হবে। দুই. ২০১৮ এর পরিপত্র বহাল সাপেক্ষে কমিশন গঠন করে দ্রুত সময়ের মধ্যে সরকারি চাকুরিতে (সকল গ্রেডে) অযৌক্তিক ও বৈষম্যমূলক কোটা বাদ দিতে হবে এবং সংবিধান অনুযায়ী কেবল অনগ্রসর ও সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর কথা বিবেচনা করা যেতে পারে। তিন. সরকারি চাকরির নিয়োগ পরীক্ষায় কোটা সুবিধা একাধিকবার ব্যবহার করা যাবে না এবং কোটায় যোগ্য প্রার্থী না পাওয়া গেলে শূন্য পদগুলোতে মেধা অনুযায়ী নিয়োগ দিতে হবে। চার. দূর্নীতিমুক্ত, নিরপেক্ষ ও মেধাভিত্তিক আমলাতন্ত্র নিশ্চিত করতে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।"
আন্দোলনে শিক্ষার্থীরা বলেন, সরকারি চাকরিতে কোটা পদ্ধতি বাতিল করতে হবে। আমরা আজ তৃতীয় দিনের মত আন্দোলন করছি। শিক্ষার্থীরা জেগেছে উঠেছে। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ হয়েছিল বৈষম্যের বিরুদ্ধে, তাহলে মুক্তিযুদ্ধ করে দেশ স্বাধীনের পর আমাদের সাথে কেন বৈষম্য করা হচ্ছে? আমরা ৫৬ শতাংশ কোটা ব্যবস্থার বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছি। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত রাজপথ ছাড়বো না।
এসময়ে শিক্ষার্থীরা ‘বৈষম্যের বিরুদ্ধে, লড়াই হবে একসাথে', ‘সারা বাংলা খবর দে, কোটা প্রথার কবর দে’, ‘মেধা না কোটা? মেধা- মেধা’, ‘মেধাবীদের কান্না, আর না, আর না’, ‘আপোষ না সংগ্রাম, সংগ্রাম-সংগ্রাম’, কোটার প্রথার বিরুদ্ধে-লড়াই হবে একসাথে’ ইত্যাদি স্লোগান দেন।
সরকারি চাকরিতে কোটা পদ্ধতি বাতিলের দাবিতে আজ তৃতীয় দিনের মত একযোগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের ১৩ টি বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্দোলন চলমান রয়েছে।





























