
ফজলুল করিম, শেরপুর প্রতিনিধি :
নিউজিল্যান্ডে উচ্চ বেতনের চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে শেরপুর ও ময়মনসিংহের দুই যুবকের কাছ থেকে ৫৪ লাখ ৪০ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়েছে একটি সংঘবদ্ধ মানবপাচারকারী চক্র। শুধু বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নিয়েই ক্ষান্ত হয়নি চক্রটি, ভুক্তভোগী দুই যুবককে আফ্রিকার দেশ ইথিওপিয়ায় নিয়ে এক নির্মম মাফিয়া চক্রের কাছে বিক্রি করে দেওয়ার মারাত্মক অভিযোগ উঠেছে।
ভুক্তভোগী যুবকেরা হলেন - শেরপুর সদর উপজেলার ঘুঘুরাকান্দি নিছামপুর গ্রামের মোঃ খোরশেদ আলমের ছেলে মোঃ সালমান শাহ এবং ময়মনসিংহ জেলার কোতোয়ালী থানার রেহায় তারাপুর গ্রামের মোঃ আব্দুল আওয়াল সর্দারের ছেলে মোঃ নাইম।
মামলার এজাহার ও ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা যায়, শেরপুর সদর উপজেলার ভাতশালা ইউনিয়নের সাপমারী গ্রামের একই পরিবারের ৭ সদস্যের একটি মানবপাচারকারী চক্র সক্রিয় রয়েছে। চক্রের মূল হোতা মোঃ মারুফ খান ওরফে পিয়াস (২৫), ইমরান খান (২৮), আল আমীন হোসেন ওরফে উদয় (২৪), পূর্ণিমা খানম (২৭) ও আইভি খানমসহ অভিযুক্তরা সালমান ও নাইমকে নিউজিল্যান্ডের একটি দুগ্ধ প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানায় আকর্ষণীয় বেতনে চাকরি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়।
প্রথমে নিউজিল্যান্ড পাঠানোর কথা বলে তাদের প্রত্যেকের কাছ থেকে ১৮ লাখ ২০ হাজার টাকা করে আদায় করা হয়। পরবর্তীতে তাদের কৌশলে নেপাল নিয়ে যাওয়া হয় এবং সেখান থেকে ইথিওপিয়ায় অবস্থানরত এক পাকিস্তানি মাফিয়া চক্রের হাতে বিক্রি করে দেওয়া হয়।
ইথিওপিয়ায় পৌঁছানোর পর ওই পাকিস্তানি মাফিয়া চক্র সালমান শাহ ও নাইমকে একটি বদ্ধ ঘরে আটকে রেখে হাত-মুখ বেঁধে নির্মম শারীরিক নির্যাতন চালায়। নির্যাতনের সেই রোমহর্ষক ভিডিও ধারণ করে বাংলাদেশে থাকা যুবকদের পরিবারের কাছে পাঠিয়ে দেওয়া হয় এবং মুক্তিপণ দাবি করা হয়। স্বজনদের জীবন বাঁচাতে পরিবার দুটি মাফিয়া চক্রের দাবি করা ৯ লাখ টাকা পাঠাতে বাধ্য হয়।
এদিকে, শেরপুরের মূল পাচারকারী চক্রটি অপহৃতদের দেশে ফিরিয়ে আনার নাটক সাজিয়ে পরিবারের কাছ থেকে আরও ৯ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়। সব মিলিয়ে দুই যুবকের পরিবারের কাছ থেকে সর্বমোট ৫৪ লাখ ৪০ হাজার টাকা লুটে নেয় এই প্রতারক চক্র।
এ ঘটনায় চরম নিঃস্ব হয়ে পড়া ভুক্তভোগী সালমান শাহের মা মোছাঃ হালিমা বেগম বাদী হয়ে গত ২ জুলাই ২০২৬ তারিখে শেরপুর সদর থানায় একটি মানবপাচার মামলা দায়ের করেন (মামলা নম্বর-০৬)।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা, শেরপুর সদর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মোঃ আশিকুল হাসান জানান, ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে এজাহারনামীয় ৬ নম্বর আসামি কামাল খানকে গ্রেফতার করা হয়েছে। চক্রের অন্যান্য সদস্যদের গ্রেফতার ও অপহৃতদের উদ্ধারে পুলিশের তদন্ত ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।





























