
মোঃ কাওছার আহম্মেদ, গাইবান্ধা ঃ ফ্যামিলি কার্ডের শুমারিতে তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার পদে জনবল নিয়োগের ফল প্রকাশের পর অনিয়মের অভিযোগে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে গাইবান্ধার ফুলছড়ি। নিয়োগের ফল বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভের একপর্যায়ে মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। উপজেলা পরিষদ ভবনের দ্বিতীয় তলায় ইউএনওর কার্যালয়ে এ ভাঙচুরের ঘটনায় চেয়ার-টেবিল, ফুলের টব ও জানালার কাচ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগের সত্যতা এবং কারা ইউএনও কার্যালয়ে ভাঙচুর করেছে—দুই বিষয়ই এখনো তদন্তাধীন। ফুলছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান ভাঙচুরের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, দুপুরের দিকে একদল বিক্ষুব্ধ যুবক তাঁর কার্যালয়ে ভাঙচুর চালিয়েছে। তবে কারা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এ ধরনের কোনো অভিযোগ তাঁর জানা নেই। আনুষ্ঠানিক বা অনানুষ্ঠানিকভাবেও তাঁকে বিষয়টি জানানো হয়নি। তাঁর দাবি, স্বচ্ছতার সঙ্গে নিয়োগ কার্যক্রম সম্পন্ন করার চেষ্টা করা হয়েছে। অন্যদিকে ফুলছড়ি ছাত্রদলের আহ্বায়ক জয়নাল আবেদিন জয় দাবি করেন, প্রকাশিত নিয়োগের ফলাফলে অনিয়মের প্রতিবাদেই তাঁরা শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ করেছেন। তবে ইউএনও কার্যালয়ে ভাঙচুরের সঙ্গে বিএনপি বা অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলে দাবি করেন তিনি। গাইবান্ধার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বি সার্কেল) শেখ মুত্তাজুল ইসলাম বলেন, প্রাথমিকভাবে নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ এবং পরে ইউএনও কার্যালয়ে ভাঙচুরের কথা জানা গেছে। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে। বিষয়টি তদন্ত করে পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ফুলছড়ি থানার ওসি দুরুল হোদার বক্তব্য জানতে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। এদিকে সোমবার সন্ধ্যায় গাইবান্ধার সাত উপজেলায় ফ্যামিলি কার্ডের শুমারিতে তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার পদে নিয়োগের ফল প্রকাশ করা হয়। এরপর পলাশবাড়ী, সাদুল্লাপুর ও সুন্দরগঞ্জেও অনিয়মের অভিযোগ তুলে প্রতিবাদ কর্মসূচি পালিত হয় বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে। ফুলছড়িতেও একই অভিযোগে সোমবার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘেরাও কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হয়। এর পরদিন মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলা চত্বরে বিক্ষোভ এবং পরে ইউএনও কার্যালয়ে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।





























