
সোহেল রানা তালতলী প্রতিনিধ:
বরগুনার তালতলীতে বাড়ির সীমানায় দেওয়া জাল নিয়ে মানসিক প্রতিবন্ধী যুবক ও তার মাকে মারধর করাসহ আদালতে দায়ের করা হয়েছে একধিক মামলা। ঘটনাটি উপজেলার বড়বাগী ইউনিয়নের ছোটভাইজোড়া গ্রামের। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে মামলা দিয়ে প্রতিপক্ষ কে হয়রানি ও জব্দ করার কৌশল ভালো করেই জানা আছে ধূর্ত শামসুল হকের।
বরগুনা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যনালে দায়ের করা একটি ধর্ষণ চেষ্টা মামলার সূত্র ধরে ঘটনার বিষয়ে খোঁজ খবর নিতে গিয়ে উঠে আসে শামসুল হকের ঘৃণ্য এসব অপকর্ম।
চলতি বছরের ২৫ মার্চ দুপুরে প্রবাসীর স্ত্রীকে ধর্ষণ চেষ্টা অভিযোগের রহস্য জানতে তালতলীর উপজেলার ছোট ভাইজোড়া গ্রামে গিয়ে স্থানীয়দের সাথে কথা হলে তারা জানান, ৫০/৫২ বছরের আনোয়ারা বেগম যৌবনে স্বামী হানিফের সাথে রাজধানী ঢাকায় শ্রমিকের কাজ করতেন। স্বামী-স্ত্রী দুজনে কঠোর পরিশ্রম করে কিছু টাকা জমিয়ে তালতলীর ছোট ভাইজোড়া গ্রামের জনৈক শামসুল হকের দখলে থাকা সরকারি জমির দখল স্বত্ত্ব নিয়ে মানসিক প্রতিবন্ধী ছেলে আনোয়ার, ৪বছর বয়সী অসুস্থ নাতনীকে নিয়ে স্থানীয় এনজিওতে রাস্তা মেরামত প্রকল্পে কাজ করে বেশ ভালোভাবেই বসবাস করে আসছিলেন আনোয়ারা।
আনোয়ারার ভালো থাকাটা সইতে পারেনি ধূর্ত শামসুল হক। আনোয়ার দখলীয় সরকারি জমির কার্ড ঠিকঠাক করে দেওয়াসহ নানা বাহানায় পূর্ব থেকেই গরীব আনোয়ারার কাছে পঞ্চাশ হাজার টাকা দাবী করে আসছিলো শামসুল হক। টাকা না দেওয়ায় আনোয়ারা ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে ফন্দি আটতে থাকে শামসুল হক ও তার পরিবারের লোকজন।
অত:পর চলতি বছরের ২৫ মার্চ দুপরের দিকে ভুক্তভোগী আনোয়ারার অসুস্থ নাতনী ও শামসুল হকের নাতী বাড়ীর পাশে পকুরের পাশে খেলতে গিয়ে আনোয়ার নাতনীকে পানিতে ফেলে দেয়। পরে আনোয়ারা গিয়ে তার নাতনীকে পানি থেকে উদ্ধার করে ঘরে নিয়ে যায়। এঘটনার পরপরই আনোয়ারা ও শামসুল হকের বসত বাড়ীর সীমানায় দেওয়া নেটের জাল তুলে দিতে যায় শামসুল হকের স্ত্রী হালিমা ও পুত্রবধূ আকলিমা। তখন বারান্দায় থাকা মানসিক প্রতিবন্ধী আনোয়ার বার বার তাদের জাল তুলে দিতে নিষেধ করে এবং বলে আমাদের জাল আমরা তুলে দিবো। এসময় এক কথা-দুকথায় শামসুল হকের পুত্রবধূ আকলিমার সাথে মানসিক প্রতিবন্ধী আনোয়ারের সাথে বাক-বিতন্ডা ও ধস্তাধস্তি শুরু হলে আনোয়ারা গিয়ে নিজের ছেলেকে ঝাপটে ধরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করে। এসময় ঘরে থাকা শামসুল হক ও তার ১৭ বছর বয়সী মেয়ের ঘরের নাতিকে সাথে নিয়ে দৌড়ে এসে লাঠি দিয়ে আনোয়ারা ও তার মানসিক প্রতিবন্ধী ছেলেকে বেদম মারধর করে। মারধরে আনোয়ারার ডান হাতের দুটি আঙ্গুল ভেঙে যায় ও ছেলে আনোয়ারের মাথা ফেটে রক্তাক্ত জখম হয়। রাস্তা থেকে এ ঘটনা দেখে প্রতিবেশী কয়েকজন যুবক আনোয়ারা ও ছেলেকে উদ্ধার করে হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠায়। মারধরের ঘটনার বিষয় শুনে আনোয়ারার ভাইয়ের ছেলে তারেক ও বোনের ছেলে লিমন আনোয়ারার বাড়িতে এসে শামসুল হক ও পরিবারের লোকজনকে গালমন্দ করে এবং কয়েকটি ইটের টুকরা শামসুল হকের বসত ঘরে ছুড়ে মারে। এসময় শামসুল হক জাতীয় সেবা নম্বর ৯৯৯নম্বরে ফোন করে পুলিশের সাহায্য চাইলে তালতলী থানা থেকে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে উভয় পক্ষই তালতলী থানায় যোগাযোগ করে।
পরে চলতি বছরের ২৮ মার্চ তারিখে আনোয়ারা ও তার ছেলেকে মারধরের কথা উল্লেখ করে আমতলী জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে একটি মামলা দায়ের করে। ওই একই তারিখে বরগুনা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগ এনে লিমন ও তারেককে আসামী করে একটি মামলা দায়ের করে শামসুল হকের প্রবাসী পুত্র ইব্রাহীমের স্ত্রী আকলিমা বেগম @ আখি। আখির দায়ের করা মামলাটি জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) অধিনে তদন্তের জন্য দিয়েছে আদালত। পরে স্থানীয় লোকজন শামসুল হকের স্ত্রী হালিমার কাছে ধর্ষণ চেষ্টা ঘটনা ও মামলার বিষয়ে জানতে চাইলে আনোয়ারা ও তার পরিবারের লোকজন শালিশ বৈঠকে না বসে কেন তার ঘরে পিটান দিলো? তার জেরেই তাদের বিরুদ্ধে এ মামলা দেওয়া হয়েছে বলে জানান হাালিমা। ( রেকর্ড সংরক্ষিত আছে)। এছাড়াও আর একটি রেকর্ডে চাচার বিরুদ্ধে ভাতিজিকে দিয়ে ধর্ষণ মামলা দিয়ে জব্দ করার হুমকি দিতে শোনা যায়।
আখির দায়ের করা ধর্ষণ চেষ্টার মামলার ৪জন সাক্ষীর তিন জনই তাদের পরিবারের লোক। বাকি ৪নম্বর সাক্ষী দুলালের সাথে কথা হলে, ঘটনার বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না বলে জানান।
ভুক্তভোগী আনোয়ারা বেগম কান্না জড়িত কন্ঠে বলেন, আমাকে ও আমার ছেলেকে ইচ্ছেমত পিটাইছে। মারধরে আমার ডান হাতের দুটি আঙ্গুল ভেঙেগেছে। আমার ছেলের মাথা ফাটিয়ে ফেলেছে। এখন আমার বোনের ছেলে ও ভাইয়ের ছেলেকে আসামি করে ধর্ষণ চেষ্টা মিথ্যা অভিযোগে একটি মামলা করেছে। আমি এ ঘটনার বিচার চাই। মারধরের পরে আমার ছেলেটাকে অনেক খুজে পাইনি, অনেক দিন পরে খবর পেয়েছি যে ঢাকায় আছে।
মারধরের কথা স্বীকার করে শামসুল হকের স্ত্রী হালিমা বলেন, যার ছেলে তার কাছে পাগল, আমাদের কাছে না। আমার পুত্রবধূকে থাপ্পড় দিয়েছে আমরাও চারপাঁচটা পিটান দিয়েছি। তারা মামলা করছে আমরাও তাই মামলা করছি। শালিশী হইছে আনোয়ারাকে ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হইছে, সে টাকা না দিয়ে মানষের বুদ্ধিতে এদিক সেদিক ঘোরে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে আরো জানা গেছে, সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের ইউপি সদস্যের প্রভাবে ও মদদে দীর্ঘদিন ধরে শামসুল হক এরকম বেপরোয়া আচারণ করে আসছেন। এছাড়াও শামসুল হকের বেপরোয়া আচারণের বিরুদ্ধে কেহ কথা বলতে গেলে তাকে হুমকি-ধমকি দেয় শামসুল হক। শামসুল হকের এ বেপরোয়া আচারণ থেকে রেহাই পেতে ও নিজেদের পরিবার পরিজন নিয়ে একটু শান্তিতে বসবাস করতে জেলার প্রশাসনের কর্তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছেন এই এলাকার সাধারণ মানুষ।





























