
মির্জা শহীদুজ্জামান টাঙ্গাইল জেলা প্রতিনিধি:
টাঙ্গাইল জেলার কয়েকটি উপজেলায় সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি কোথাও কোথাও অপরিবর্তিত থাকলেও যমুনা ঘেষা উপজেলার চরাঞ্চলে প্রায় ৩৬ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে আছে। বাড়ি-ঘর, হাট-বাজার, মসজিদ,ফসলি জমিসহ অন্যান্য স্থাপনা বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। গরু ছাগল নিয়ে অনেকই বিপাকে পড়েছে।এতে চরম দুর্ভোগে আছে চরাঞ্চলের হাজার হাজার মানুষ।
টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা যায়, ঝিনাই ও যমুনা নদীর পানি সামান্য কমলেও অন্য সব নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। ঝিনাই নদীর পানি জোকারচর পয়েন্টে ৩ সেন্টিমিটার কমে বিপৎসীমার ৯৭ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে ও যমুনা নদীর পানি পোড়াবাড়ি পয়েন্টে ৩ সেন্টিমিটার কমে বিপৎসীমার ৩৩ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ধলেশ্বরী নদীর পানি এলাসিন পয়েন্টে ৫ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার ২৪ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
এছাড়াও ফটিকজানি নদীর পানি নলচাপা ব্রীজ পয়েন্টে ১৭ সেন্টিমিটার, বংশাই নদীর পানি কাউলজানী পয়েন্টে ৮ সেন্টিমিটার, মির্জাপুর পয়েন্টে ৯ সেন্টিমিটার এবং মধুপুর পয়েন্টে ১২ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি।
যমুনা তীরের মানুষদের কথা বলে জানা যায় তাদের দুর্ভোগের কথা। রহিমা খাতুন, নাছরিন বেগম, খালেক মিয়া বলেন, প্রতিবছরই বন্যার সময় আমরা আতঙ্কে থাকি একদিকে যমুনা নদীর ভাঙ্গন অন্যদিকে পানিবন্দি। এবারের বন্যায় আমাদের অনেক ক্ষতি করেছে। বন্যার পানির স্রোতে আমাদের কারো করো বাড়ির আসেপাশে ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। গত পাঁচ-সাতদিন ধরে পানিতে বন্দি হয়ে আছি।
এ বিষয়ে টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক মো. কায়ছারুল ইসলাম জানান, জেলায় ৩৬ হাজার মানুষ পানিবন্দি রয়েছেন। বন্যা কবলিত এলাকায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর মানবিক সহায়তা সামগ্রী হিসেবে চাল, ডাল, তেল, চিনি মসলাসহ সাড়ে চৌদ্দ কেজি ওজনের প্যাকেট, পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট ও পানির পাত্র বিতরণ করা হয়েছে।বন্যা মোকবেলায় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক প্রস্ততি নেয়া হয়েছে।





























