
আহম্মদ কবির স্টাফ রিপোর্টার তাহিরপুরঃ "ভরবো মাছে মোদের দেশ, গড়বো স্মার্ট বাংলাদেশ" এবারের মৎস্য সপ্তাহের এই স্লোগান যেন ম্লান হতে যাচ্ছে, মা মাছের অভয়ারণ্য খ্যাত গুরুত্বপূর্ণ জলাভূমি সুনামগঞ্জের টাঙ্গুয়ার হাওরে।এই হাওরের প্রতিটি নদীনালা খালবিলে অবাধে নিষিদ্ধ কোনাজাল,কারেন্ট জাল,চায়না দুয়ারি জাল ও হাওরের পরিবেশ ধ্বংসাত্মক প্লাস্টিকের ছাই দিয়ে বিভিন্ন প্রজাতির মাছের পোণা নিধনে মেতে উঠেছে স্থানীয় কিছু অসাধু জেলেরা।হাওর রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকা টাঙ্গুয়ার হাওর সমিতির দায়িত্বশীল লোকজন ও আনসার সদস্যদের সামনে জেলেদের এমন অপকর্ম হচ্ছে তবুও তারা অদৃশ্য কারণে নিরবতা পালন করছেন। এতে এই হাওরে দেশীয় প্রজাতির মাছ বিলুপ্ত হয়ে যাবার আশঙ্কা করছে স্থানীয় সচেতন মহল।সরেজমিন টাঙ্গুয়ার হাওরের তেকুইন্যা,বেরবেরিয়া,বালুয়ারডুবা,রৌয়া রূপাবুই সহ কয়েকটি বিল ঘুরে দেখাযায়,এসব বিল গুলোতে নিষিদ্ধ কোনাজাল,কারেন্ট জাল,চায়না দুয়ারি জাল,ও হাওরের পরিবেশ ধ্বংসাত্মক প্লাস্টিকের ছাই দিয়ে অবাধে জেলেরা বিভিন্ন প্রজাতির মাছের পোণা নির্বিঘ্নে নিধন করছে। এসব নিষিদ্ধ জাল দিয়ে মৎস্য নিধন ঠেকাতে তাহিরপুর ও মধ্যনগর উপজেলা প্রশাসন মাঝেমধ্যে অভিযান পরিচালনা করলেও স্থানীয়দের তথ্যমতে জানাযায় টাঙ্গুয়ার হাওর সমিতির দায়িত্বশীল লোকজন ও আনসার সদস্যরা এসব অসাধু জেলেদের সাথে আঁতাত থাকার কারণে। এই অসাধু জেলেদের নিষিদ্ধ জাল দিয়ে অবৈধভাবে মৎস্য নিধন ঠেকানো সম্ভব হচ্ছে না। যদিও মাছের বংশ বৃদ্ধির লক্ষ্যে এই সময়ে টাঙ্গুয়ার হাওরে মৎস্য আহরণ নিষিদ্ধ রয়েছে। কিন্তু স্থানীয় কিছু চিহ্নিত অসাধু লোক টাঙ্গুয়ার হাওর সংগঠনের দায়িত্বশীল লোক ও আনসার সদস্যদের সহায়তায় বাহির হতে কোনাজাল ও জেলে এনে টাঙ্গুয়ার হাওরে পোনামাছ নিধনের এই অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে।জানাযায় কোনাজালের ছিদ্র মশারির ছিদ্রের চেয়েও ছোট হওয়ায় এই জালে মাছের একেবারে ছোট পোনাটিও উঠে আসে।অনেক সময় মাছের ডিমও আটকা পড়ে যায়। এই কোনাজাল নিষিদ্ধ কারেন্ট জালের চেয়েও ভয়ংকর।টাঙ্গুয়ার হাওর সুনামগঞ্জ জেলায় অবস্থিত একটি হাওর প্রায় ১২৬ বর্গকিলোমিটার এলাকা জুড়ে বিস্তৃত এ হাওর দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম মিঠা পানির জলভূমি। স্থানীয় লোকজনের কাছে হাওরটি নয়কুড়ি কান্দার ছয়কুড়ি বিল নামে পরিচিত। হাওরটি কে দেশের দ্বিতীয় রামসার সাইট হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।স্থানীয়রা জানান নিষিদ্ধ কোনাজাল দিয়ে প্রতিদিন ভোর ৫টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত বিকাল ৫টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত পালাক্রমে চলে পোনামাছ শিকার। একেকটা কোনাজালের সাথে ৮-১০ জন করে দল গঠন করে ১৫-২০টি জালের সংঘবদ্ধ জেলেরা প্রতিটি কোনাজালে কমপক্ষে ৩০-৪০ কেজি করে পোনামাছ নিধন করে। শুধু টাঙ্গুয়ার হাওরেই নয় আশপাশের সবকটি হাওরেই এসব পোনামাছ নিধন হচ্ছে। এইসব পোনামাছ এলাকার বিভিন্ন হাট-বাজারে বিক্রি সহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে প্রেরণ করা হয়। হাওর পাড়ের সচেতন মহল জানান টাঙ্গুয়ার হাওর নিয়ে সরকারের দায়িত্বশীলগণ কাগজে কলমে অনেক পরিকল্পনা ও সিদ্ধান্ত করে যাচ্ছেন বহু আগতেকেই কিন্তু এর বিন্দুমাত্র বাস্তবায়ন হতে দেখিনি বরং যতদিন যাচ্ছে হাওরটি হুমকির মুখে পড়ছে, বর্তমানে হাওরটি মুমূর্ষু আবস্থায়।তারা জানান কোন একজন ব্যক্তি যদি হাওরকে সংরক্ষণ করে রাখতে পারে সরকার কেন পারবে না।এখনো সময় আছে হাওরে এইসব পোনামাছ নিধন বন্ধ করে,হাওরের ক্ষতিকর সকল প্রকার কর্মকাণ্ড চিহ্নিত করে এগুলো বন্ধ করতে পারলে । এই এলাকার হাওর বিল নদী-খাল পূর্বের ন্যায় দেশীয় মাছে ভরপুর হয়ে যাবে । এবং টাঙ্গুয়ার হাওর তার পূর্ণতা ফিরে পাবে ।এ অঞ্চলের মানুষের ভাগ্যের উন্নয়ন হবে।টাঙ্গুয়ার হাওর কেন্দ্রীয় সার্বিক গ্রাম উন্নয়ন সমবায় সমিতির সম্মানিত সদস্য অখিল তালুকদার জানান আমাদের এই সমিতি করার উদ্দেশ্যেই হচ্ছে টাঙ্গুয়ার হাওরের জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ করা ও হাওর পাড়ের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কাজ করা।কিন্তু আমাদের মধ্যে কোন সমন্বয় নেই। কমিটির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও কোষাধ্যক্ষ মিলে তারা তাদের মনগড়া চলছেন, উনারা সমিতির নিয়মনীতি কে কোন তোয়াক্কা না করে তাদের পকেট ভর্তি করার ধান্দায় মেতে উঠেছেন।তারা প্রশাসনের ভয়ভীতি দেখিয়ে জেলেদের কাছ থেকে টাকা মাসোহারা পাওয়ার জন্য কাজ করে যাচ্ছেন। যারা তাদের চাহিদামতো টাকা দেন তাদের অবৈধভাবে মৎস্য নিধনের বিভিন্ন সুবিধা দিয়ে থাকেন,যাহা এলাকায় জিজ্ঞাসাবাদ করলেই প্রমাণিত হবে।আমরা কি করবো আমাদের কমিটির মধ্যে কোন সমন্বয় নেই,কমিটির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও কোষাধ্যক্ষ মিলে কী করছেন একমাত্র তারাই ভাল জানেন।আমাদের সাথে তাদের কোন সমন্বয় নেই।শুনলাম অবৈধভাবে মৎস্য নিধনকারী জেলেদের সাথে গোপনে তাদের আঁতাত রয়েছে, এইভাবে টাঙ্গুয়ার হাওরের জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে না। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের সদয় দৃষ্টি কামনা করিএ ব্যাপারে সমিতির কোষাধ্যক্ষ্য আবুল কালাম জানান আমরা প্রতি দুমাস পরপর সভা করি,সভায় সভায় অখিল উপস্থিত থাকে না।তাহলে কীভাবে সমন্বয় হবে।





























