
মোঃ কাওছার আহম্মেদ, গাইবান্ধা ঃ দীর্ঘ ৪৫ বছরের আইনি লড়াইয়ের অবসান ঘটিয়ে অবশেষে আদালতের রায় বাস্তবায়নের মাধ্যমে গাইবান্ধা শহরের আদর্শপাড়ায় অবস্থিত আব্দুল হাই আকবর আলী খান উচ্চ বিদ্যালয়-সংলগ্ন প্রায় ১৫ বিঘা (প্রায় ৫.৫ একর) জমির দখল ফিরে পেয়েছেন মরহুম আকবর আলী খানের ওয়ারিশরা। বুধবার আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট রোমেন পালের উপস্থিতিতে জেলা ও দায়রা জজ আদালতের নাজির মাহমুদ কলির নেতৃত্বে এবং গাইবান্ধা সদর থানার পুলিশের সার্বিক নিরাপত্তায় দখল হস্তান্তর কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়। কার্যক্রম চলাকালে আদালতের নির্দেশ অনুসারে জমির সীমানা পুনর্নির্ধারণে জরিপ পরিচালনা করা হয়। জরিপ শেষে পুকুরের পানির মধ্যেও লাল নিশান স্থাপন করে সীমানা চিহ্নিত করা হয়। পরে ঢোল পিটিয়ে আদালতের দখল কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়, যা উপস্থিত জনসাধারণের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। দখল বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে জমিতে নির্মিত বাউন্ডারির একটি অংশ অপসারণ করা হয়। পরবর্তীতে ভেকু (এক্সকাভেটর) দিয়ে জমির সীমানা পরিষ্কার করে আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রকৃত মালিকপক্ষের কাছে জমির দখল বুঝিয়ে দেওয়া হয়। আদালত সূত্রে জানা গেছে, মূল ৫৫/৮১ নম্বর মামলার ধারাবাহিকতায় মহামান্য হাইকোর্টের সিভিল ডিভিশনের ৮৫৩/২০১১ ও ৩২৫৯/২০১৩ নম্বর মামলার রায় এবং ১৪/২০১১ নম্বর মিস মামলার আদেশের আলোকে এ দখল কার্যক্রম পরিচালিত হয়। দখল কার্যক্রমে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, জেলা ও দায়রা জজ আদালতের নাজির, গাইবান্ধা সদর থানার পুলিশ, সাংবাদিক, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং আকবর আলী খানের ওয়ারিশরা উপস্থিত ছিলেন। চার দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা এ ভূমি-বিরোধের অবসান ঘটিয়ে আদালতের রায় বাস্তবায়নের মাধ্যমে জমিটি শান্তিপূর্ণভাবে প্রকৃত দাবিদারদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর আদালতের এই রায় বাস্তবায়নকে স্থানীয়রা ন্যায়বিচারের প্রতিফলন এবং গাইবান্ধার অন্যতম আলোচিত ভূমি-বিরোধের সফল নিষ্পত্তি হিসেবে দেখছেন।





























