
টিপু সুলতান।। সরকারি নির্দেশনা উপেক্ষা করে এবং অভিভাবকদের চোখে ধুলে দিয়ে ভোলা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ক্লাস বন্ধ রাখার অভিযোগ উঠেছে । একদিকে এসএসসি ব্যবহারিক পরীক্ষার অজুহাত, অন্যদিকে আঞ্চলিক শিক্ষা কর্মকর্তার নির্দেশ অমান্য করায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন শিক্ষার্থীরা।সুত্রে জানা গেছে, এসএসসি ব্যবহারিক পরীক্ষা আগ পিছ করে নেওয়ার নির্দেশনা থাকলেও বিদ্যালয়ের প্রশাসন তা সকালে আয়োজন করেন । এর ফলে ওই সময় বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক পাঠদান কার্যক্রম বিঘ্নিত হয় । এ বিষয়ে বরিশাল অঞ্চলের উপ-পরিচালক জাহাঙ্গীর আলম বিদ্যালয়টিতে যথাযথ নিয়ম মেনে ক্লাস চলমান রাখার সুস্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছিলেন । কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, কর্তৃপক্ষ সেই নির্দেশনা তোয়াক্কা করেনি। কোরবানির ঈদের দীর্ঘ ছুটির পর বিদ্যালয় ৭ জুন খোলার কথা থাকলেও বাস্তবে তা কার্যকর হয়নি। কর্তৃপক্ষ অভিভাবকদের জানিয়েছে বিদ্যালয় খোলা আছে, অথচ বাস্তবে ক্লাস বন্ধ রাখায় শিক্ষার্থীরা দুই দিনের গুরুত্বপূর্ণ পাঠদান থেকে বঞ্চিত হয়েছে। আগামী ২৮ জুন থেকে শিক্ষার্থীদের অর্ধবার্ষিক পরীক্ষা শুরু হতে যাচ্ছে । এমন গুরুত্বপূর্ণ সময়ে প্রায় ৭ দিন ক্লাস বন্ধ থাকার বিষয় জানতে পেরে পাঠ্যসূচি সম্পন্ন করা নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা । এছাড়াও বেশিরভাগ সময়ে এই স্কুলগুলো সরকারি ছুটিতে থাকতেও দেখা যায় । পরীক্ষার আগ মুহূর্তে এমন অগোছালো কার্যক্রমে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সচেতন অভিভাবকবৃন্দ।এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এ, কে, এম ছালেহ উদ্দিন’র সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কল রিসিভ না করার কারণে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসরর জি,এম, শহীদুল ইসলাম জানান, এসএসসি ব্যবহারিক পরীক্ষা নেওয়ার জন্য কোনো নির্ধারিত সময় বাধ্যতামূলক করা হয়নি । আমরা বোর্ড থেকে ২১ মে থেকে উন্মুক্ত রেখেছি যাতে যে কোনো দিন প্রতিষ্ঠানগুলো পরীক্ষা নিতে পারবে । পরীক্ষার অজুহাতে এই বিদ্যালয় ১ সপ্তাহ ক্লাস বন্ধ রেখেছে কিনা এটা আমি অবগত নই।এ বিষয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের আঞ্চলিক উপপরিচালক মো. জাহাঙ্গীর আলম জানান, আমি প্রতিটি বিদ্যালয়ে ফোন করে বলেছি, পরীক্ষা আগ পিছ করে হলেও যেন ক্লাস যেন চলমান রাখে এই বিষয়ে নির্দেশ দিয়েছি । তবে তারা কেন বন্ধ রেখেছে আমি আপনাদের কাছ থেকে জেনেছি, বিষয়টি অবহিত হয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবো।সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে এবং অভিভাবকদের বিভ্রান্ত করে কেন বিদ্যালয় বন্ধ রাখা হলো, তা নিয়ে এখন তোলপাড় চলছে জেলার শিক্ষা প্রশাসনে।





























