
মোতালেব হোসেন(কুমিল্লা)।। প্রতিবছর সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যাচ্ছে প্রায় সাড়ে ৪ হাজারের মতো মানুষ। এটা আমাদের রাষ্ট্রের ব্যর্থতা, আমরা তা নিয়ন্ত্রণ করতে পারিনি। কিন্তু পারতে হবে এবং সেজন্যই সরকার, সেজন্যই আমাদের দায়িত্ব পালন এবং চেষ্টা।শুক্রবার (২২ মে ) সকাল ১১ টায় কুমিল্লা শিল্পকলা একাডেমিতে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) ট্রাস্টি বোর্ড ও বাংলাদেশ রেলওয়ের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি ও তাদের পরিবারের সদস্যদের আর্থিক সহায়তা প্রদান এবং সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে জনসচেতনতা মূলক অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।তিনি বলেন, যেকোনো সমস্যাই রাষ্ট্রের সমস্যা, এবং তার সমাধান করা ও সরকারের দায়িত্ব। এটা আমরা বিশ্বাস করি এবং এই আঙ্গিকেই জবাবদিহী থেকে রাষ্ট্র পরিচালনা করতে চায় বিএনপি'র সরকার। রাষ্ট্র থেকে যত দায়িত্ব আছে আমরা তা ধারণ করি এবং সরকার ও দল তা ধারণ করে।মন্ত্রী বলেন, সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুর জন্য রাষ্ট্রের ব্যর্থতার দায় অবশ্যই আছে, আমরা তা অস্বীকার করছি না। যেসব ভাই-বোন স্বজন হারিয়ে এসেছেন, তাদের ক্ষতি কোনো রাষ্ট্রই পূরণ করতে পারবে না। নিহতদের পরিবারের যেকোনো প্রয়োজনে রাষ্ট্র সজাগ থাকবে। কর্মসংস্থান, শিক্ষা ও সেবার ক্ষেত্রে নিহতদের পরিবার যাতে অগ্রাধিকার পায়, সেটি সরকার নিশ্চিত করবে।সাম্প্রতিক সময়ে কুমিল্লার পদুয়ার বাজার এলাকায় ঘটে যাওয়া ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে মন্ত্রী জানান, সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে সরকার প্রায় ২ হাজার ৮০০ কোটি টাকার একটি বৃহৎ প্রকল্প হাতে নিয়েছে। এর আওতায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক আট লেনে উন্নীত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি পদুয়ার বাজার এলাকায় আন্ডারপাস ও ওভারপাস নির্মাণ করা হবে।বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিবকে উদ্দেশ্য করে মন্ত্রী বলেন, বাস মালিকরা আনফিট বাস রাস্তায় আনবেন না সেটা আমি দেখতে চাই, আমরা দেখতে চাই দক্ষ এবং যোগ্য ড্রাইভারের হাতে আপনারা বাসটা তুলে দিয়েছেন। এ সময় বাস মালিকদের সচেতনতা ও ড্রাইভারদের প্রশিক্ষণের বিষয়ে নজর দেওয়ার কথা ও জানান তিনি।বিশেষ অতিথির বক্তব্যে রেলপথ মন্ত্রণালয় এবং সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ(এমপি) বলেন, যেখানেই দুর্ঘটনা ঘটছে, সাথে সাথেই সেই দুর্ঘটনার কারণ আমরা উদঘাটনের চেষ্টা করছি এবং সে দুর্ঘটনার সাথে যারা জড়িত তাদের বিরুদ্ধে শাস্তি মূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। এসকল দায়িত্বে যারা রয়েছে তাদেরকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে কোথাও দুর্ঘটনা ঘটার আগেই দুর্ঘটনা যেহেতু না ঘটে সে ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করার। সে কারণেই দুর্ঘটনার সংখ্যা কমে এসেছে।কুমিল্লার জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মু. রেজা হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মো. মনিরুল হক চৌধুরী এবং সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব ড. মোহাম্মদ জিয়াউল হক।এছাড়া অনুষ্ঠানে বিআরটিএ চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান, বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক মো. আফজাল হোসেন, কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান , হাইওয়ে পুলিশের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শাহিনুর আলম খান, কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. ইউসুফ মোল্লা, জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. মোস্তাক মিয়া, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব সাইফুল আলম এবং বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবির খানসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।অনুষ্ঠানে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ও আহত ব্যক্তিদের পরিবার এবং ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে আর্থিক সহায়তার চেক বিতরণ ও একই সঙ্গে সড়ক দুর্ঘটনা হ্রাসে সচেতনতামূলক কার্যক্রম ও নিরাপদ সড়ক ব্যবস্থাপনা বিষয়ে বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়।



























