
স্টাফ রিপোর্টার: খাতার পাতায় যেখানে স্বপ্নের অক্ষর বসানোর কথা ছিল,সেখানে আজ বসেছে শোকের ভার।বইয়ের ব্যাগ কাঁধে নিয়ে যে কিশোর ভবিষ্যতের পথে হাঁটার প্রস্তুতি নিচ্ছিল,সেই পথই থেমে গেল নির্মাণাধীন ভবনের পাশে লুকিয়ে থাকা বিদ্যুতের নির্মম ছোবলে।ফলাফলের অপেক্ষা আর নতুন জীবনের আশা সবকিছুই এক মুহূর্তে রূপ নিল নিস্তব্ধতায়।সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার বাদাঘাট ইউনিয়নের কামড়াবন্দ মধ্যহাটি গ্রামে নির্মাণাধীন একটি বহুতল ভবনে কাজ করার সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে আহসানুল মিয়া (১৬) নামে এক এসএসসি পরীক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে।বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় আরও এক নির্মাণ শ্রমিক গুরুতর আহত হয়েছেন।নিহত আহসানুল বড়দল উত্তর ইউনিয়নের চন্দ্রপুর গ্রামের আলী রহমানের ছেলে। তিনি বাদাঘাট পাবলিক উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এবারের এসএসসি পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগে অংশ নিয়েছিলেন এবং ফলাফলের অপেক্ষায় ছিলেন।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কামড়াবন্দ মধ্যহাটি এলাকায় একটি তিনতলা ভবনের নির্মাণকাজ চলছিল। ভবনটির পাশ দিয়ে যাওয়া পল্লী বিদ্যুতের ১১ কেভি লাইনের নিকটে কাজ করার সময় অসাবধানতাবশত তিনি বিদ্যুতায়িত হন। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। পরে সহকর্মীরা তাকে উদ্ধার করার চেষ্টা করলেও ব্যর্থ হন। আহত অপর শ্রমিককে স্থানীয়ভাবে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।দুর্ঘটনার পর পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। সহপাঠী, শিক্ষক ও স্বজনদের কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ। পরীক্ষার ফলাফলের অপেক্ষায় থাকা একটি সম্ভাবনাময় জীবনের এমন পরিণতি মেনে নিতে পারছেন না কেউই।তাহিরপুর সাব-জোনাল অফিসের এজিএম মোহাম্মদ আলাউল হক সরকার জানান, নির্মাণাধীন ভবনের পাশে থাকা ১১ কেভি বিদ্যুৎ লাইনের বিষয়ে আগে থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক অবহিতকরণ বা বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধের আবেদন করা হয়নি।অন্যদিকে ভবনের মালিক সাজু আহমেদ দাবি করেন,প্রায় চার মাস আগে বিদ্যুতের লাইন সরানোর জন্য আবেদন করা হয়েছিল,কিন্তু সময়মতো ব্যবস্থা না নেওয়ায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।এ বিষয়ে বাদাঘাট পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র-এর ইনচার্জ নাজমুল ইসলাম জানান,মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হচ্ছে। আইনগত প্রক্রিয়া শেষে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া





























