
নারায়ণগঞ্জের বন্দরে প্রবাসীর স্ত্রী নিশা বেগম হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি মো. আব্দুর রহমানের সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে তাঁকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। তবে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত হওয়ার পর থেকে তিনি কারাগারের কনডেম সেলে রয়েছেন।
রোববার (১ নভেম্বর) বিচারপতি জাফর আহমেদ ও বিচারপতি সাথিকা হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ ডেথ রেফারেন্স ও আসামির আপিলের শুনানি শেষে এ রায় দেন।
রাষ্ট্রপক্ষের সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল আল আমীন সিদ্দিকী আদালতে মামলাটি পরিচালনা করেন। রায়ের প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, রাষ্ট্রপক্ষ আসামির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছে। নিম্ন আদালতের দেওয়া মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকবে বলে রাষ্ট্রপক্ষের প্রত্যাশা ছিল। তাই হাইকোর্টের এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাষ্ট্রপক্ষ।
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০১৪ সালের ৮ ডিসেম্বর সন্ধ্যা ৭টার দিকে বন্দরের নবীগঞ্জ এলাকায় নিশা বেগমকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়। তিনি ওই এলাকার কাতারপ্রবাসী তাজুল ইসলামের স্ত্রী। হত্যাকাণ্ডের দায়ে দণ্ডিত আব্দুর রহমান ছিলেন তাজুল ইসলামের ভগ্নিপতি। অর্থাৎ নিশা বেগমের ননদের স্বামী।
মামলার এজাহারে বলা হয়, আব্দুর রহমান বিভিন্ন সময়ে নিশা বেগমকে অনৈতিক প্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন। ঘটনার দিন সন্ধ্যায় তাঁকে একা পেয়ে আবারও কুপ্রস্তাব দেন। একপর্যায়ে জড়িয়ে ধরলে নিশা বেগম চিৎকার করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে আব্দুর রহমান তাঁর বুকে ধারালো ছুরি দিয়ে আঘাত করেন। পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসকের কাছে নেওয়া হলে তাঁকে মৃত ঘোষণা করা হয়।
এ ঘটনায় হত্যাকাণ্ডের দুই দিন পর, ২০১৪ সালের ১০ ডিসেম্বর নিহতের ছোট ভাই মো. রাব্বি মিয়া বাদী হয়ে বন্দর থানায় আব্দুর রহমানের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন।
দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে ২০১৯ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালত আব্দুর রহমানকে মৃত্যুদণ্ড দেন। পরে মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের জন্য মামলাটি ডেথ রেফারেন্স হিসেবে হাইকোর্টে পাঠানো হয়। পাশাপাশি ওই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেন আসামি।
উভয় আবেদনের শুনানি শেষে হাইকোর্ট মৃত্যুদণ্ডের পরিবর্তে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। তবে রাষ্ট্রপক্ষ এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে যাওয়ার কথা জানিয়েছে।




























