
কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি: কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বোয়ালিয়া, তেলিচাড়া, কাহেতেরটেকী ও নামা বোয়ালিয়া এলাকার বাসিন্দারা দীর্ঘদিন ধরে ড্রেনেজ ব্যবস্থার অভাবে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। সামান্য বৃষ্টিতেই এলাকার বিভিন্ন সড়ক ও বসতবাড়ির আশপাশে পানি জমে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। দিনের পর দিন সেই পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় দুর্ভোগ যেন এসব এলাকার মানুষের নিত্যসঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে।স্থানীয়দের অভিযোগ, কটিয়াদী পৌরসভা প্রতিষ্ঠার পর থেকেই ৬ নম্বর ওয়ার্ড উন্নয়নের ক্ষেত্রে অবহেলিত। নিয়মিত পৌরকর পরিশোধ করলেও সড়ক, ড্রেনেজ ব্যবস্থা, জলাবদ্ধতা নিরসনসহ মৌলিক নাগরিক সুবিধা থেকে তারা বঞ্চিত। ফলে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে।সরেজমিনে দেখা যায়, বোয়ালিয়া মহল্লার ভেতরের ইটের সলিং করা সড়কটি কটিয়াদী ও বাজিতপুর উপজেলার একাংশের মানুষের গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগপথ। প্রতিদিন শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী, কৃষক, রোগীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এই সড়ক ব্যবহার করেন। কিন্তু কার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় সামান্য বৃষ্টিতেই সড়ক পানিতে তলিয়ে যায়। দিনের পর দিন পানি জমে থাকায় বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। পানির নিচে গর্তগুলো দেখা না যাওয়ায় প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে।একই চিত্র তেলিচাড়া, কাহেতেরটেকী ও নামা বোয়ালিয়া এলাকাতেও। অনেক সড়কের পাশে কোনো ড্রেন নেই। কোথাও আবার অপরিকল্পিত ও অকার্যকর ড্রেন থাকলেও তা দিয়ে বৃষ্টির পানি নিষ্কাশন সম্ভব হয় না। ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই পুরো এলাকা জলাবদ্ধ হয়ে পড়ে। অনেক বাড়ির উঠান ও প্রবেশপথ পানিতে তলিয়ে যায়। এতে শিশুদের স্কুলে যাওয়া, রোগীদের হাসপাতালে নেওয়া এবং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।স্থানীয়দের ভাষ্য, বছরের পর বছর ধরে একই সমস্যার কথা জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও স্থায়ী কোনো সমাধান হয়নি। তাদের দাবি, পৌরসভার অন্য ওয়ার্ডে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়িত হলেও ৬ নম্বর ওয়ার্ডে প্রয়োজনের তুলনায় উন্নয়ন খুবই কম হয়েছে।একজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “আমরা নিয়মিত পৌরকর দিই। কিন্তু নাগরিক হিসেবে যে মৌলিক সুবিধা পাওয়ার কথা, তা পাই না। মনে হয় পৌরসভার শেষ প্রান্তে থাকায় আমাদের দিকে কারও নজর নেই। ট্যাক্স আদায়ের সময় সবাই সমান, কিন্তু উন্নয়নের সময় আমরা অবহেলার শিকার।”আরেক বাসিন্দা বলেন, “একটু বৃষ্টি হলেই পুরো এলাকা পানির নিচে চলে যায়। পানি নামতে কয়েকদিন লেগে যায়। ছোট ছোট বাচ্চারা স্কুলে যেতে পারে না। বয়স্ক মানুষ ও অসুস্থ রোগীদের চলাচলও কষ্টকর হয়ে পড়ে।”একজন পথচারী বলেন, “পানির নিচে কোথায় গর্ত আছে বোঝা যায় না। মোটরসাইকেল ও অটোরিকশা নিয়ে চলাচল খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। দ্রুত ড্রেন নির্মাণ না হলে এই দুর্ভোগ কোনোদিন কমবে না।”স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন পানি জমে থাকায় এলাকায় মশা-মাছির উপদ্রবও বেড়েছে। তবে পৌরসভার পক্ষ থেকে নিয়মিত মশক নিধন কার্যক্রম পরিচালনা করা হয় না। এতে ডেঙ্গুসহ বিভিন্ন রোগের ঝুঁকি বাড়ছে বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন।বাসিন্দারা আরও বলেন, দীর্ঘসময় পানি জমে থাকায় সড়কের ইট উঠে যাচ্ছে এবং বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হচ্ছে। দ্রুত ড্রেনেজ ব্যবস্থা নির্মাণ না করলে ভবিষ্যতে সড়কগুলো আরও বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।স্থানীয়দের মতে, শুধু ৬ নম্বর ওয়ার্ড নয়, কটিয়াদী পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের ভোগপাড়া এলাকার একটি সড়কও প্রায় ২৬ বছর ধরে উন্নয়নের অপেক্ষায় রয়েছে। এতে প্রশ্ন উঠেছে, প্রতিবছর কোটি কোটি টাকার পৌর বাজেট ঘোষণা হলেও কেন অনেক এলাকায় এখনও মৌলিক নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।এলাকাবাসীর দাবি, আসন্ন যেকোনো সরকারি বা পৌর উন্নয়ন বরাদ্দে ৬ নম্বর ওয়ার্ডকে অগ্রাধিকার দিয়ে বোয়ালিয়া, তেলিচাড়া, কাহেতেরটেকী ও নামা বোয়ালিয়া এলাকায় আধুনিক ড্রেনেজ ব্যবস্থা নির্মাণ, স্থায়ীভাবে জলাবদ্ধতা নিরসন, ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক সংস্কার এবং নিয়মিত মশক নিধন কার্যক্রম চালু করা হোক।এ বিষয়ে কটিয়াদী পৌর বিএনপির সভাপতি মো. আশরাফুল হক দাদন এবং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. শাহজাহান সিরাজীর সঙ্গে কথা হলে তারা বলেন, ৬ নম্বর ওয়ার্ডের দীর্ঘদিনের ড্রেনেজ সংকট ও জলাবদ্ধতার বিষয়টি তারা অবগত রয়েছেন। সমস্যার স্থায়ী সমাধানের জন্য কটিয়াদী–পাকুন্দিয়া আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মো. জালাল উদ্দিন এবং কটিয়াদী পৌরসভার প্রশাসক ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) লাবনী আক্তার তারানার সঙ্গে আলোচনা করা হবে। তারা জানান, সামনে যেকোনো সরকারি বা পৌর উন্নয়ন বরাদ্দ এলে ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সড়ক ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেওয়ার চেষ্টা করা হবে। দীর্ঘদিনের এই নাগরিক দুর্ভোগ নিরসনে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাসও দেন তারা।এ বিষয়ে কটিয়াদী পৌরসভার প্রশাসক ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) লাবনী আক্তার তারানার বক্তব্য জানতে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে এ বিষয়ে তাঁর কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।স্থানীয়দের আশা, দীর্ঘদিনের এই অবহেলা ও বৈষম্যের অবসান ঘটিয়ে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তাদের ভাষায়, “আমরা বিশেষ সুবিধা চাই না; পৌরসভার নাগরিক হিসেবে নিরাপদ সড়ক, কার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থা এবং ন্যায্য নাগরিক সেবাই আমাদের একমাত্র দাবি।”





























