
মোঃ কাওছার আহম্মেদ, গাইবান্ধা
দিনের বেলায় ইউনিয়ন পরিষদে বসে সাধারণ মানুষের কথা শুনছেন, সরকারি বিভিন্ন ভাতা সঠিকভাবে প্রকৃত উপকারভোগীদের মধ্যে পৌঁছে দেওয়ার বিষয়ে নজর রাখছেন। জন্মনিবন্ধনসহ নাগরিক সেবা দ্রুত দেওয়ার তাগিদ দিচ্ছেন। আর সন্ধ্যা নামলেই শুরু হয় অন্য এক ব্যস্ততা—ইউনিয়নের অসহায় ও দরিদ্র মানুষের চিকিৎসাসেবা। রাত গড়িয়ে গেলেও থামে না সেই সেবা। এভাবেই গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার কচুয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান লিয়াকত স্থানীয় মানুষের কাছে পরিচিত হয়েছেন ‘গরিবের ডাক্তার’ হিসেবে।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি অসহায় মানুষের চিকিৎসাসেবায় দীর্ঘদিন ধরে সময় দিয়ে আসছেন লিয়াকত। অর্থের অভাবে চিকিৎসা করাতে না পারা দরিদ্র রোগীরা তাঁর কাছে এলে সামর্থ্য অনুযায়ী বিনামূল্যে চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেন তিনি। দিনের পরিষদীয় কার্যক্রম শেষ করে সন্ধ্যা থেকে অনেক রাত পর্যন্ত দরিদ্র রোগীদের চিকিৎসাসেবা দেওয়ার কারণে স্থানীয়দের মধ্যে তাঁর এই পরিচিতি তৈরি হয়েছে।
কচুয়া ইউনিয়ন পরিষদে নিয়মিত বসে নাগরিকদের বিভিন্ন সমস্যা ও অভিযোগ শুনছেন চেয়ারম্যান লিয়াকত। সরকারি বিভিন্ন ভাতা যাতে প্রকৃত উপকারভোগীদের মধ্যে সঠিকভাবে বিতরণ হয়, সে বিষয়েও নজর দেওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি।
জন্মনিবন্ধনসহ প্রয়োজনীয় নাগরিক সেবা পেতে ইউনিয়নবাসীকে যাতে দীর্ঘদিন অপেক্ষা করতে না হয়, সেজন্য সংশ্লিষ্টদের দ্রুত সেবা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
ইউনিয়নের পরিবেশ রক্ষায় বৃক্ষরোপণের পাশাপাশি পরিষদ প্রাঙ্গণকে দৃষ্টিনন্দন করতে করা হয়েছে ফুলের বাগান। পরিষদের নিরাপত্তা ও সার্বিক কার্যক্রম পর্যবেক্ষণের জন্য স্থাপন করা হয়েছে সিসি ক্যামেরা।
স্থানীয়দের মতে, পরিষদ প্রাঙ্গণের পরিবেশ সুন্দর করার পাশাপাশি নিরাপত্তার বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে এসব উদ্যোগে।
কচুয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় ভাঙাচোরা রাস্তাঘাট নিয়ে মানুষের দুর্ভোগ রয়েছে। এসব রাস্তা সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া এবং পর্যায়ক্রমে প্রয়োজনীয় উন্নয়নকাজ বাস্তবায়নের কথা জানিয়েছেন চেয়ারম্যান।
একজন সেবা প্রত্যাশী বলেন, “চেয়ারম্যানকে পরিষদে পাওয়া যায়। মানুষের কথা শোনেন। সরকারি সেবা ও ভাতার বিষয়ে খোঁজ নেন। তবে ইউনিয়নের যেসব রাস্তা নষ্ট হয়ে আছে, সেগুলো দ্রুত সংস্কার হলে সাধারণ মানুষ আরও উপকৃত হবে।”
চিকিৎসাসেবা নেওয়া এক দরিদ্র রোগী বলেন, “টাকার অভাবে অনেক সময় ডাক্তার দেখানো সম্ভব হয় না। চেয়ারম্যানের কাছে গেলে তিনি বিনামূল্যে চিকিৎসা দেন এবং প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেন। আমাদের মতো গরিব মানুষের জন্য এটি অনেক বড় সহায়তা।”
আরেক ইউনিয়নবাসী বলেন, “দিনে তিনি পরিষদের মানুষের সেবা করেন, আবার সন্ধ্যার পরও দরিদ্র রোগীদের চিকিৎসা দেন। এ কারণে এলাকার অনেক মানুষ তাঁকে ‘গরিবের ডাক্তার’ বলে ডাকেন।”
চেয়ারম্যান লিয়াকত বলেন, “জনপ্রতিনিধি হিসেবে মানুষের পাশে থাকা আমার দায়িত্ব। বিশেষ করে অসহায় ও দরিদ্র মানুষ যেন অর্থের অভাবে চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত না হন, সে জন্য আমি সামর্থ্য অনুযায়ী বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা দিয়ে যাচ্ছি।”
তিনি আরও বলেন, “ইউনিয়ন পরিষদে নিয়মিত বসে মানুষের সমস্যা শোনার চেষ্টা করি। সরকারি বিভিন্ন ভাতা যাতে সঠিক মানুষের কাছে পৌঁছায়, সেদিকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। জন্মনিবন্ধনসহ নাগরিক সেবাগুলোও নির্ধারিত সময়ে দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।”
কচুয়া ইউনিয়নের উন্নয়ন প্রসঙ্গে চেয়ারম্যান লিয়াকত বলেন, “বৃক্ষরোপণ, পরিষদ প্রাঙ্গণে ফুলের বাগান, সিসি ক্যামেরা স্থাপনসহ বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইউনিয়নের যেসব রাস্তাঘাট সংস্কার প্রয়োজন, সেগুলোও পর্যায়ক্রমে সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।”
আবারও চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলে অসমাপ্ত কাজগুলো শেষ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি বলেন, “ইউনিয়নবাসী আমাকে আবারও দায়িত্ব দেওয়ার সুযোগ দিলে চলমান ও অসমাপ্ত উন্নয়নকাজগুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শেষ করার চেষ্টা করব। মানুষের প্রয়োজনকে গুরুত্ব দিয়ে কচুয়া ইউনিয়নকে আরও সুন্দর, নিরাপদ ও জনবান্ধব ইউনিয়ন হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করে যাব।”
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, কচুয়া ইউনিয়নের ভাঙাচোরা রাস্তাঘাট সংস্কার, নাগরিক সেবা আরও দ্রুত করা এবং চলমান উন্নয়নকাজগুলো সম্পন্ন হলে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ কমবে। পাশাপাশি অসহায় মানুষের জন্য বিনামূল্যের চিকিৎসাসেবাও অব্যাহত থাকবে এমনটাই প্রত্যাশা তাদের।




























