
মোঃ কাওছার আহম্মেদ, গাইবান্ধা ঃ গাইবান্ধা সদর উপজেলার কুপতলা ইউনিয়ন–এর খামার গোবিন্দ গ্রামের ঐতিহ্যবাহী বকুলতলাকে ঘিরে এখন সৃষ্টি হয়েছে ভিন্ন এক প্রাণচাঞ্চল্য। প্রতিদিন বিকেল হলেই দূর-দূরান্ত থেকে ছেলেসহ নানা বয়সী মানুষ সেখানে ভিড় করছেন। কেউ বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটাচ্ছেন, আবার কেউ মোবাইল ফোনে ছবি ও ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দিচ্ছেন গ্রামের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য। স্থানীয়দের মতে, দীর্ঘদিন ধরে দাঁড়িয়ে থাকা এই বকুলগাছটি এখন শুধু একটি গাছ নয়, বরং এলাকাবাসীর আবেগ ও সৌন্দর্যের প্রতীক হয়ে উঠেছে। চারদিকে ছায়াঘেরা পরিবেশ, বকুল ফুলের মিষ্টি সুবাস আর গ্রামীণ নিরিবিলি আবহ দর্শনার্থীদের আকৃষ্ট করছে। বিকেলের দিকে সবচেয়ে বেশি ভিড় লক্ষ্য করা যায়। তরুণরা দল বেঁধে এসে ছবি তুলছেন, কেউ আবার ভিডিও তৈরি করছেন। অনেকেই বলছেন, শহরের কোলাহল ছেড়ে এমন প্রাকৃতিক পরিবেশে কিছুটা সময় কাটাতে পেরে তারা স্বস্তি অনুভব করছেন। স্থানীয় ইউনিয়ন চেয়ারম্যান মো. আবুল কালাম আজাদ খামার গোবিন্দ গ্রামের এই বকুলতলা এখন মানুষের কাছে একটি বিশেষ আকর্ষণ হয়ে উঠেছে। প্রতিদিন বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ এখানে আসছেন। আমরা চাই, জায়গাটি পরিচ্ছন্ন ও নিরাপদ পরিবেশে সংরক্ষণ করা হোক। ভবিষ্যতে এটি গ্রামীণ পর্যটনের একটি সুন্দর কেন্দ্র হতে পারে।” শহর থেকে ঘুরতে আসা দর্শনার্থী আফসানা মিমি বলেন,সোশ্যাল মিডিয়ায় কয়েকটি ছবি দেখে এখানে আসার আগ্রহ তৈরি হয়। বাস্তবে এসে আরও বেশি ভালো লাগছে। গ্রামের এমন সুন্দর ও শান্ত পরিবেশ সত্যিই মন ছুঁয়ে যায়। এখানে এসে অনেকটা প্রশান্তি অনুভব করছি। স্থানীয় কৃষক অজিজল ইসলাম বলেন, “আগে এই জায়গায় গ্রামের কয়েকজন ছাড়া তেমন কেউ আসত না। এখন প্রতিদিন অনেক মানুষ আসছে। এতে গ্রামের পরিচিতি বাড়ছে, মানুষ আমাদের গ্রামকে চিনতে পারছে। আমরা চাই জায়গাটির সৌন্দর্য যেন নষ্ট না হয়। স্থানীয় সচেতন মহল বলছেন, যথাযথ পরিকল্পনা ও পরিচর্যার মাধ্যমে বকুলতলাকে কেন্দ্র করে একটি ছোট পরিসরের গ্রামীণ পর্যটন এলাকা গড়ে তোলা সম্ভব। এতে যেমন গ্রামের সৌন্দর্য সংরক্ষণ হবে, তেমনি স্থানীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।





























