
মোঃ সোহরাব উদ্দিন মন্ডল,গাজীপুর গাজীপুরে মাদক সিন্ডিকেটের আতঙ্কের নাম ‘বাবা শামিম’। বাবা শামিমের নেতৃত্বে রবি ও শুভ নামের দুই মাদক কারবারি পাড়া-মহল্লায় মাদকের বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে। তিন জনের এক সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রণে অর্ধশতাধিক তরুণ ও যুবকেরা সরাসরি মাদক সরবরাহ কাজে নিয়োজিত আছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।যা পাড়া- মহল্লার মাদক সেবিদের ঘরে ঘরে সহজে পৌঁছে যাচ্ছে বিভিন্ন ধরনের মাদক। মাদকের বিরুদ্ধে একের পর এক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান হলেও থামছেনা মাদক কারবারিদের দৌরাত্ম। খুচরা ব্যবসায়িরা পুলিশের জালে ধরা পরলেও বরাবরের মতো ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে মাদক সিন্ডিকেটের গডফাদার, ডিলার ও মূল মাফিয়ারা। ফলে গাজীপুর জুড়ে বিস্তার ঘটছে ভয়ংকর এক মাদক সাম্রাজ্যের। কিশোর বয়সের তরুণরা টাকার বিনিময়ে গাজীপুরের বিভিন্ন উপজেলার পাড়া-মহল্লায় মাদকের চালান পৌঁছে দেয়। কিন্তু চালানের ভাগবাঁটোয়ারা, সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ এবং কোটি টাকার এই মাদক ব্যবসার মূল হোতারা থেকে যাচ্ছে অধরাই। জানা যায়, গাজীপুর মহানগরীর বাসন, কোনাবাড়ি ও কালিয়াকৈর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় তিন মাদক কারবারির নিয়ন্ত্রণে মাদক সরবরাহ করে থাকেন অর্ধশতাধিক তরুণ ও যুবকেরা। মাদক বিক্রি করে আংগুল ফুলে কলাগাছ বনে যাওয়া বাবা শামিম গত চার-পাঁচ বছরে মাদক বিক্রি করে কালিয়াকৈর উপজেলার চা-বাগান এলাকায় জায়গা ক্রয় করে বসত বাড়ি নির্মাণ ও গাড়ি ক্রয় করেছেন। অভিযোগ উঠেছে, গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার চা-বাগান এলাকার বাসিন্দা শামিমের নেতৃত্বে একটি শক্তিশালী মাদকচক্র গড়ে ওঠে। আর তার সহযোগী হিসেবে রবি নামের একজন কোনাবাড়ি থানার আমবাগ, নছের মার্কেট, বাইমাইল নদীপাড়, কড্ডা ও নাওজোড়সহ আশপাশের এলাকায় মাদক সরবরাহ নিয়ন্ত্রণ করে।অপরদিকে কড্ডা দিঘলটেক এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা মো. শুভ বাসন থানাধীন নাওজোড়, কড্ডা বাজার, কড্ডা নান্দন ও ইসলামপুর এলাকায় মাদক ব্যবসা দীর্ঘদিন ধরে পরিচালনা করে আসছে।স্থানীয়দের অভিযোগ, এই চক্র অল্প বয়সী তরুণ ও যুবকদের ব্যবহার করে মাদক সরবরাহের শক্তিশালী নেটওয়ার্ক পরিচালনা করে আসছে। এদিকে মাদকের মূল হোতারা অধিকাংশ সময় ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যায়। ফলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানেও পুরো নেটওয়ার্ক ভাঙা সম্ভব হচ্ছে না বলে জানান সংশ্লিষ্টরা। এছাড়াও যুব সমাজকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে এই তিন জনের সিন্ডিকেটের ভূমিকা বেশি মনে করেন স্থানীয়রা। অল্প বয়সের তরুণদের কাজে লাগিয়ে মাদকের সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করেন শামিম, রবি ও শুভ নামের তিন জনের এক সিন্ডিকেট। রাজনৈতিক নেতাদের ইন্ধনে তাদের ভয়ে মুখ খুলতে সাহস পায় না মাদকাসক্ত পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা। তবে মহানগরীর কোনাবাড়ি থানাধীন বাইমাইল নদীরপাড় এলাকায় ডজন খানেক তরুণ ও যুবকেরা সরাসরি মাদক সরবরাহ করে এবং অর্ধশতাধিক ক্রেতা আছে বলে জানা যায়। জানা যায়, মাদক মামলাসহ বিভিন্ন অপকর্মের দায়ে গাজীপুরের বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে শামিম ও রবির বিরুদ্ধে। মাদক বিক্রির অপরাধে গ্রেফতার হলেই কয়েকদিন পর জামিনে বের হয়ে ফের মাদক বিক্রিতে মনোযোগী হন তারা। যা-কিনা যুবসমাজকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়ি করিয়ে দিচ্ছে কারবারিরা। স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের ম্যানেজ করে দীর্ঘদিন যাবৎ মাদক বিক্রি করছে তারা।নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক একজন বলেন, গত কয়েকদিন আগে রবির কাছে মাল (ইয়াবা) আছে বলে কড্ডা বাজারে আসতে বলে দিঘলটেকের শুভকে। তার কিছুক্ষনের মধ্যে ডিবি পুলিশ আইশা রবিরে ধইরা মাল (ইয়াবা) সহ আটকিয়ে ফালায়। তারপর লক্ষাধিক টাকা দিয়ে রবি ছাড়া পায়। এখন প্রশ্ন হলো শুভ আর রবি এরা দুজনই মাল (ইয়াবা) বেচে আবার একজন আরেকজনকে পুলিশ দিয়ে ধরিয়ে দেয়।সচেতন মহলের একজন বলেন, মাঝে মধ্যে মাদকের খুচরা ব্যবসায়ীরা পুলিশের জালে গ্রেফতার হলেও ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যায় মাদক সিন্ডিকেটের কর্তাব্যক্তিরা। যা-কিনা সমাজের যুবকেরা মেধা ও ভবিষ্যৎ ধ্বংসের জন্য দারপ্রান্তে চলে যাচ্ছে ঘটনার দায় স্বীকার করে অভিযুক্ত মাদক করবারি রবি জানান, এক সময় আমি মাদক ব্যবসা করেছি। এখন টুকিটাকি খাই। শুভ না বুঝে আমারে ধরিয়ে দিছে। আমি অপরাধী বলেই আমাকে ধরছে। একসময় শামীম ব্যবসা করেছে জেল খাটার পর আমরা ভালো হইয়া গেছি। ঘটনা অস্বীকার করে মাদক করবারি শামিম জানান, মানুষ তো অনেকে অনেক কথা বলে সব কি সত্য বলে। সব মিথ্যা কথা বলছে তারা। মিথ্যা কথা বলে হয়রানি করা আমারে ঠিক হবে না। সবাই মিথ্যা বলছে।এবিষয়ে জানতে শুভর মোবাইলে একাধিকবার ফোন ও ক্ষুদেবার্তা দিয়েও কোন সাড়া পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে জানতে জিএমপি বাসন থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হারুন অর রশিদ বলেন, মাদক ব্যবসায়ীদের উপর আমাদের নজর আছে। আমরা তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা দ্রুত সময়ের মধ্যে নিব।এ বিষয়ে জানতে জিএমপি কোনাবাড়ি থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: ইফতেখার হোসেন বলেন, খোঁজখবর নিয়ে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।এ বিষয়ে জানতে কালিয়াকৈর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, অন্যায়কারীকে কোন ছাড় নয় আমরা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আইনগত ব্যবস্থা নিব।





























