
শাহিন মিয়া, বিশেষ প্রতিনিধি:
ঘুষ—একটি শব্দ, অথচ এর প্রভাব সমাজের প্রতিটি স্তরে। সরকারি কিংবা বেসরকারি বিভিন্ন দপ্তরে কোনো কাজ করতে গেলে ঘুষ দিতে হবে—এমন ধারণা যেন অনেক সাধারণ মানুষের মনে গেঁথে গেছে। কেউ কাজ দ্রুত শেষ করতে, কেউ হয়রানি এড়াতে, আবার কেউ নিজের ন্যায্য অধিকার আদায় করতেও বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত টাকা দিতে রাজি হন।
দীর্ঘদিনের এই চর্চায় একদিকে যেমন কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীর মধ্যে ঘুষ গ্রহণের প্রবণতা তৈরি হয়েছে, অন্যদিকে সাধারণ মানুষের মধ্যেও ঘুষ দিয়ে কাজ করিয়ে নেওয়ার মানসিকতা গড়ে উঠেছে।
প্রশ্ন হচ্ছে, এই ঘুষের সংস্কৃতি তৈরি করল কারা? যারা ঘুষ নেয়, তারা যেমন দায় এড়াতে পারেন না, তেমনি যারা স্বাভাবিকভাবে ঘুষ দেওয়াকে নিয়ম হিসেবে মেনে নিচ্ছেন, তাদের সচেতনতাও জরুরি।
তবে মনে রাখতে হবে, অনেক সাধারণ মানুষ বাধ্য হয়ে ঘুষ দেন। সেবা না পাওয়া, হয়রানি কিংবা কাজ আটকে যাওয়ার আশঙ্কা তাঁদের এমন পরিস্থিতিতে ঠেলে দেয়। তাই ঘুষদাতা ও ঘুষগ্রহীতার দায় একভাবে দেখার সুযোগ নেই।
ঘুষ বন্ধ করতে হলে প্রথমে প্রয়োজন প্রশাসনিক স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা। পাশাপাশি সাধারণ মানুষকেও অন্যায়ভাবে টাকা দেওয়া থেকে বিরত থাকার মানসিকতা গড়ে তুলতে হবে এবং প্রয়োজনে আইনসম্মতভাবে অভিযোগ জানাতে হবে।
ঘুষের প্রতিকার জনগণের হাতেও রয়েছে। জনগণ যদি অন্যায়ের সঙ্গে আপস না করে, ঘুষের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয় এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জবাবদিহি নিশ্চিত করে, তাহলেই পরিবর্তনের পথ তৈরি হতে পারে।
আমাদের প্রশ্ন—ঘুষের এই সংস্কৃতি থেকে মুক্তি পেতে আর কত দিন অপেক্ষা করতে হবে?




























