
মো. মুরাদ মৃধা রাণীনগর নওগাঁর রানীনগরে আবাদপুকুর গরু-ছাগলের হাটে নুরুজ্জামান (৪২) নামের এক ক্রেতার কাছ থেকে এক লাখ টাকা চুরির ঘটনা ঘটেছে। বুধবার (১৩মে) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার ঐতিহ্যবাহী ওই হাটে কুরবানির গরু কিনতে গেলে এই চুরির শিকার হন তিনি।এদিকে ঘটনাকে কেন্দ্র করে হাটে আসা ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের মাঝে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। অপরদিকে ভুক্তভোগী নুরুজ্জামান হাট কর্তৃপক্ষ ও প্রশাসনের উপস্থিতি না থাকায় নিরাপত্তাহীনতাকে দায়ী করেছেন।ভুক্তভোগী নুরুজ্জামান পার্শ্ববর্তী বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার সান্তাহার ঘোড়াঘাট এলাকার মৃত নাজমুলের ছেলে বলে জানা গেছে।জানা যায়, সামনে ঈদকে কেন্দ্র করে ভুক্তভোগী নুরুজ্জামান বুধবার সকাল আনুমানিক ১১টার দিকে সান্তাহার নিজ বাড়ি থেকে কুরবানির গরু কেনার উদ্দেশ্যে রানীনগর উপজেলার আবাদপুকুর গরু-ছাগলের হাটে যান। এসময় তিনি হাটে অবস্থানকালে তার প্যান্টের পকেটে থাকা নগদ এক লাখ টাকা কে বা কারা কৌশলে চুরি করে নিয়ে যায়।ভুক্তভোগী নুরুজ্জামান জানান, হাটে অতিরিক্ত ভিড় ও বিশৃঙ্খলার সুযোগে আমার টাকাটা খোয়া গেছে। এছাড়া প্রশাসনের উপস্থিতি না থাকায় সংঘবদ্ধ চোরচক্র তার টাকা হাতিয়ে নেওয়ার সাহস পেয়েছে। তিনি অভিযোগ করে বলেন, “হাটে কোনো নিরাপত্তা ব্যবস্থা চোখে পড়েনি। সংশ্লিষ্টরা যদি পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতো, তাহলে এমন ঘটনা ঘটতো না। তবে আশা করছি ভবিষ্যতে তারা নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেবে।ভুক্তভোগী নুরুজ্জামান বিষয়টি হাট কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয়দের অবগত করেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমি ঘটনার পর হতাশায় ভুগছি। হয়তো প্রশাসনের নজরদারি থাকলে এমন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটতো না । তবে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত চুরির সঙ্গে জড়িত কাউকে শনাক্ত বা আটক করা সম্ভব হয়নি বলেও জানান তিনি।স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, কুরবানির পশুর হাটগুলোতে প্রশাসনের নজরদারি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার না করলে এ ধরনের চুরি ও প্রতারণার ঘটনা আরও বাড়তে পারে। এদিকে ঘটনাটি জানাজানি হলে হাটজুড়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও ক্রেতারাও হাটের নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানান। তাদের অভিযোগ, হাটে নিয়মিত বিপুল পরিমাণ নগদ লেনদেন হলেও নিরাপত্তা ব্যবস্থা অত্যন্ত দুর্বল। প্রতি হাটবারে যেখানে কয়েক কোটি টাকা লেনদেন হয় সেখানে নিরাপত্তাহীনতায় ভোগা দুঃখজনক। এ ঘটনায় সঠিক তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করার জন্য প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করছেন হাটে আসা সাধারণ ক্রেতা এবং বিক্রেতারা। জানতে চাইলে রাণীনগর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোসারব হোসেন মুঠোফোনে বলেন, যদিও আমি হাটের সাথে জড়িত নেই, তবে তদারকি করি। তারপরও জড়িত থাকা ছেলেদের বলা আছে হাটের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে এবং ভবিষ্যতে যেন এমন অনাকাঙ্খিত ঘটনা না ঘটে সেই বিষয়ে সজাগ থাকতে।জানতে চাইলে রানীনগর থানার অফিসার ইনচার্জ জাকারিয়া মন্ডল মুঠোফোনে বলেন, বিষয়টি শুনেছি। হাটের নিরাপত্তার জন্য আমাদের পুলিশ ছিল। তবে আজ বেশি মানুষের চাপ থাকার কারণে এই ঘটনা ঘটতে পারে। এছাড়া এতোগুলো টাকা নুরুজ্জামান হাটুর ওখানে মোবাইলে পকেটে রেখেছিল। তারপরও আমরা চোরকে ধরার জন্য কাজ শুরু করে দিয়েছি। এবং আগামীতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হবে।জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী অফিসার রাকিবুল হাসান বলেন, ঈদকে সামনে রেখে হাটের সাথে জড়িত এবং পুলিশকেও নিরপত্তার বিষয়টি জানানো হয়েছিল। তবে বিশৃঙ্খলা এড়াতে হাটের কিছু উন্নয়ণমূলক শেড করে দেওয়া হবে। আশা করছি ভবিষ্যতে হাটটটিতে শৃঙ্খলা ফিরবে।





























