
গুরুদাসপুর (নাটোর) প্রতিনিধি.
নাটোরের গুরুদাসপুরে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে সংঘর্ষে উভয়পক্ষের ১৪ জন আহত হয়েছেন। শনিবার সকাল ১০টার দিকে উপজেলার বিয়াঘাট ইউনিয়নের কুমারখালি গ্রামে এ ঘটনা ঘটেছে। এঘটনায় এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।
সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, কুমারখালি মৌজার ৮১৬ ও ৮১৭ দাগে ১৬ শতাংশ জমি প্রায় ৩২ বছর ধরে ভোগদখল করে আসছেন স্থানীয় ময়নাল মন্ডল। বিবাদমান ওই জায়গায় বাঁশের বেড়া দিচ্ছিলেন তিনি। এসময় প্রতিবেশী আশকান আলীর ছেলে সাইদুল ইসলামের নেতৃত্বে হাকিম উদ্দিন ও নজরুল ইসলাম হাসুয়া, কুড়ালসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। এতে ময়নাল মন্ডল গুরুতর জখম হন। তাকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিতে চাইলেও বাঁধা দেয় প্রতিপক্ষরা। এসময় ময়নালের ছেলে চ্যানেল এস এর সাংবাদিক সোহেল রানাসহ ১০ জন গুরুতর আহত হন। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় ময়নালকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (রামেক) চিকিৎসাধীন নেওয়া হয়। এতে উভয়পক্ষের অন্তত ১৪ জন গুরুতর আহত হয়েছে।
আহত সাংবাদিক সোহেল রানা বলেন, প্রতিপক্ষরা এই জমিতে প্রথমে আমাদের বিরুদ্ধে ১৪৪ ধারা জারি করে আনলেও পরবর্তী আদালত সেটাকে খারিজ করে দেন। আমাদের ১৪৪ ধারা বর্তমানে চলমান আছে। তারা ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে এখানে কাজ করতে বাধা দিয়ে আমাদের ১০ জনকে কুপিয়ে জখম করেছে।
আহতরা হলেন- ময়নাল মন্ডল, নাজিম মন্ডল, জাহিদুল ইসলাম, শরিফা খাতুন, সুলতান আলী, ডাবলু, রাব্বি, জাহানারা, সনে খাতুন ও সোহেল রানা। তাদের মধ্যে ময়নাল, জাহিদুল, সুলতান, সোহেল ও ডাবলুকে রামেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন নেয়া হয়েছে।
অন্যদিকে প্রতিপক্ষের সাইদুল ইসলাম, রফিক ও রঞ্জু, হাকিম আহত হন।
তবে স্থানীয় শামসুল প্রামাণিক জানান, হাকিমের পূর্বপুরুষেরা আগে থেকেই কলহপ্রিয়। বিক্রিত জমিজমা নিয়ে কলহ করা ঠিক না। বিষয়টি নিয়ে মিমাংসার কথা হচ্ছিলো।
এ ব্যাপারে গুরুদাসপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল হান্নান বলেন- 'পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। উভয়পক্ষের বিরুদ্ধে মামলা ও আইনি প্রক্রিয়া চলমান আছে।'




























