
সাআদ মাহমুদ। হালুয়াঘাট (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধিময়মনসিংহের হালুয়াঘাটে ১১ নম্বর আমতৈল ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান মো. শফিকুর রহমান (শফিক)-এর নাগলা ফিশারীজ অ্যান্ড প্রজেক্ট লিমিটেড ও বাউশী ফিশারীজ অ্যান্ড প্রজেক্ট লিমিটেডের প্রায় ১০০ একর জমির ভূমি উন্নয়ন কর বাবদ ৯২ লাখ ১৯ হাজার ৫০০ টাকা বকেয়া রয়েছে। বকেয়া ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধের জন্য সংশ্লিষ্ট ভূমি অফিস থেকে প্রতিষ্ঠান দুটির ব্যবস্থাপনা পরিচালকের কাছে পৃথক দুটি নোটিশ জারি করা হয়েছে।১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে জারি করা নোটিশে তফসিলভুক্ত জমির বিপরীতে ভূমি উন্নয়ন কর বাবদ বকেয়া ও হাল সনের মোট ৯২ লাখ ১৯ হাজার ৫০০ টাকা পাওনার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে একটি তফসিলে পাওনা ৮৫ লাখ ১৫ হাজার ৬৯০ টাকা এবং অপর তফসিলে ৭ লাখ ৩ হাজার ৮১০ টাকা। দুটি তফসিলের হিসাব অনুযায়ী মোট বকেয়া দাঁড়ায় ৯২ লাখ ১৯ হাজার ৫০০ টাকা।নোটিশের তথ্য অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট জমিগুলোর শ্রেণি ‘বাণিজ্যিক’ এবং এসব জমি পুকুর হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। বিভিন্ন দাগের আওতাভুক্ত জমির পরিমাণ প্রায় ১০০ একর বলে নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।নোটিশে প্রতিষ্ঠান দুটিকে নোটিশ প্রাপ্তির সাত দিনের মধ্যে বকেয়া ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সরকারি পাওনা পরিশোধ না করলে সরকারি পাওনা আদায় আইন, ১৯১৩-এর বিধান অনুযায়ী সার্টিফিকেট মোকদ্দমাসহ আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে নোটিশে সতর্ক করা হয়েছে।এদিকে একজন বর্তমান জনপ্রতিনিধির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ফিশারীজের বিপরীতে এত বড় অঙ্কের সরকারি রাজস্ব বকেয়া থাকার বিষয়টি সামনে আসায় স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা ও প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, সরকারি রাজস্ব আদায়ের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের প্রভাব বা পক্ষপাতের সুযোগ না রেখে আইন অনুযায়ী দ্রুত বকেয়া অর্থ আদায় করতে হবে।সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন রফিকুল্লাহ চৌধুরী মানিক। তিনি বলেন, একজন জনপ্রতিনিধির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নামে এত বড় অঙ্কের সরকারি পাওনা থাকলে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা প্রয়োজন। সরকারি অর্থের ক্ষেত্রে জনপ্রতিনিধিসহ সংশ্লিষ্ট সবার জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি।অন্যদিকে মুসতাকিম বিল্লাহ বকেয়া সরকারি রাজস্ব দ্রুত আদায়ের পাশাপাশি হালুয়াঘাটে দুর্নীতি ও কালোবাজারির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে অবৈধ সম্পদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে বেকার যুবকদের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির আহ্বান জানান তিনি।তবে নোটিশে বকেয়া ভূমি উন্নয়ন করের পরিমাণ ও পরিশোধের নির্দেশনার কথা উল্লেখ থাকলেও, বকেয়া সৃষ্টির কারণ এবং এ বিষয়ে চেয়ারম্যান মো. শফিকুর রহমান (শফিক) বা প্রতিষ্ঠান দুটির পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাঁদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যথাযথ গুরুত্ব দিয়ে প্রকাশ করা হবে।সংশ্লিষ্ট ভূমি অফিসের দুটি নোটিশের হিসাব অনুযায়ী, নাগলা ও বাউশী ফিশারীজের ভূমি উন্নয়ন কর বাবদ মোট বকেয়া ৯২ লাখ ১৯ হাজার ৫০০ টাকা।


























