
ইয়ার রহমান আনানঃকক্সবাজার ব্যুরো কক্সবাজারের চকরিয়ায় জমি জবরদখল ও হত্যার হুমকির অভিযোগে দায়ের করা মামলায় বিএনপি নেতা শাহেদুল মোস্তাফার গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি এবং পরে মুচলেকায় জামিন পাওয়ার সংবাদ প্রকাশের জেরে ১০ কোটি টাকার মানহানি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় পূর্বের মামলার বাদী নুর হোসেনকে প্রধান আসামি করে তিন সাংবাদিককে আসামি করা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলাটি প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটি ও চকরিয়া প্রেসক্লাব।সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) চকরিয়া জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলাটি দায়ের করেন ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শাহেদুল মোস্তাফা। মামলায় নুর হোসেন ছাড়াও সাংবাদিক তৌহিদুল ইসলাম, তানবীরুল ইসলাম ও ইয়ার রহমান আনানকে আসামি করা হয়েছে।মামলার সূত্রে জানা গেছে, ফাঁসিয়াখালীতে জমি জবরদখল ও হত্যার হুমকির অভিযোগে শাহেদুল মোস্তাফার বিরুদ্ধে নুর হোসেন আদালতে নালিশি মামলা করেন। ওই মামলায় আদালত শাহেদুল মোস্তাফার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন। পরে গত ৩ সেপ্টেম্বর আদালতে হাজির হয়ে মুচলেকা দিয়ে জামিন পান তিনি।বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট ফয়জুল কবির বলেন, শাহেদুল মোস্তাফা আদালতে দেওয়া মুচলেকায় বিরোধীয় জমি নিয়ে ভবিষ্যতে কোনো দাবি বা হস্তক্ষেপ করবেন না বলে উল্লেখ করেন। পরে আদালত মুচলেকাটি গ্রহণ করে তাঁকে জামিন দেন।আদালতে মুচলেকা দিয়ে জামিন পাওয়ার বিষয়টি নিয়ে গত ৭ সেপ্টেম্বর বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে ‘জমি দখল ও হত্যার হুমকির অভিযোগে মামলা, আদালতে মুচলেকা দিয়ে জামিন বিএনপি নেতা’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হয়। ওই সংবাদ প্রকাশের পরই নুর হোসেনসহ তিন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মানহানি মামলা করা হয়েছে বলে দাবি করেছে সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটি।এ ঘটনায় সোমবার রাতে জরুরি সভা করে সংগঠনটি। পরে সভাপতি আবুল মনসুর মো. মহসিন ও সাধারণ সম্পাদক ইউসুফ বিন হোছাইনের স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে বলা হয়, আদালতে দেওয়া মুচলেকার কপি ও সংশ্লিষ্ট আইনজীবীর বক্তব্যের ভিত্তিতে সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে। সংগঠনটির দাবি, এ ধরনের তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ সাংবাদিকতার দায়িত্বের অংশ।বিবৃতিতে আরও বলা হয়, সংবাদ প্রকাশের কারণে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলা স্বাধীন সাংবাদিকতার ওপর চাপ সৃষ্টির শামিল। তাই ১০ কোটি টাকার মানহানি মামলাটি প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়।সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির নেতারা বলেন, সত্য ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশের কারণে সাংবাদিকদের হয়রানি বা চাপ প্রয়োগ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। মামলা প্রত্যাহার না হলে পরবর্তী সময়ে কঠোর কর্মসূচি নেওয়ারও হুঁশিয়ারি দেন তাঁরা।জরুরি সভায় সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির নেতৃবৃন্দের পাশাপাশি চকরিয়া প্রেসক্লাবের সভাপতি আবদুল মজিদ ও সাধারণ সম্পাদক নাজমুল সাঈদ সোহেল উপস্থিত ছিলেন।

























