
মো কামরুল হোসেন সুমন,মনপুরাঃপ্রমত্তা মেঘনা নদীর ভাংগনের ফলে ভোলা জেলার মনপুরা উপজেলার মূল ভূ-খন্ড প্রতিনিয়ত আকারে ছোট হয়ে আসছে।এতে প্রতি বছর হাজার হাজার মানুষ তার বসত ভিটা হারিয়ে গৃহহীন হয়ে পড়েছে। হাজার কোটি টাকার সরকারি ও বেসরকারি স্থাপনা, স্কুল, কলেজ, হাট বাজার নদী গর্ভে বিলীন হয়েছে।বেড়িবাঁধ না থাকায় প্রতি বছর বর্ষার মৌসুমে জোয়ারের পানিতে তলিয়ে যায় মনপুরার জনপদ। জলোচ্ছ্বাস ও বন্যায় লবনাক্ত পানি প্রবেশ করে কৃষি উতপাদন ব্যহত করতো। চরম দুর্দশার সাথে দিনপার করতো লাখো মানুষ।সহায় সম্বল হারিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করতো মনপুরাবাসী। ভয়াল মেঘনা নদীর ভাঙ্গনে এবং বন্যা হতে মুক্ত হওয়ার জন্য মনপুরা উপজেলায় ১১১৭ কোটি টাকা ব্যয়ে "ভোলা জেলার মুজিবনগর এবং মনপুরা উপকূলীয় বাধ পুনবার্সন, নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন ও তীর সংরক্ষণ" প্রকল্পটি পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃক বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। প্রকল্পটির আওতায় মনপুরা উপজেলায় ভাঙ্গনে রোধে চারিদিকে বালুভর্তি জিওব্যাগ ও জিও টিউব নদীতে ডাম্পিং করে নদী তীর টেকসই করা হচ্ছে।দ্বীপটির চারদিকে ৫১ কি.মি. টেকসই বেড়িবাঁধ এবং ১১ টি স্লুইজগেট নির্মাণ কাজ চলমান রয়েছে। মনপুরা দ্বীপটি পর্যটন শিল্পে অপার সম্ভাবনাময় এক দ্বীপ।দ্বীপটির দক্ষিনের কোল ঘেঁষে ম্যানগ্রোভ বন রয়েছে। বনে রয়েছে হরিণ সহ অসংখ্য প্রজাতির প্রাণী ও উদ্ভিদ। বিকালের সোনালী আলোতে প্রমত্তা জলরাশির ছলাত ছলাত শব্দ ও উপকূলীয় বনে পাখির কিচিরমিচির শব্দ পর্যটকদের মন বিমোহিত করে। ভাঙ্গন রোধের পাশাপাশি পর্যটন শিল্পে অপার সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে বেড়িবাঁধটিকে মেরিন ড্রাইভে রুপান্তরিত করার পরিকল্পনা গ্রহন করা হয়েছিল। অনুমোদিত প্রকল্প অনুযায়ী বাধের উপরে ৫১ কিলোমিটারে কার্পেটিং এর পিচঢালাই করার ব্যবস্থা রাখা হয়েছিল। সে মোতাবেক দরপত্র আহব্বান করে ঠিকাদার নিয়োগ করা হয়েছিল। বর্তমানে বেরিবাধ নির্মাণের কাজ দৃর্শমান হয়েছে। তবে বিপত্তি বাধে পর্যটন শিল্পের বিকাশে বেড়িবাঁধটিকে কার্পেটিং এর মাধ্যমে মেরিন ড্রাইভে রুপান্তরিত করা ও বাধে নির্দিষ্ট দুরত্বে সোলার লাইট স্থাপন ও ওয়াচ টাওয়ার নির্মাণ নিয়ে।এগুলা নির্মাণে বরাদ্দও মন্ত্রণালয় হতে দেয়া হয়েছিল।ব্যয় সাশ্রয়ের নামে বিগত অন্তর্বতীকালীন সরকার বেড়িবাঁধের কার্পেটিং, সোলার লাইট ও ওয়াচ টাওয়ার স্থাপন কাজ স্থগিতের আদেশ দেন। যা জনগনকে হতাশ করেছে এবং তারা চরম ক্ষোভে ফেটে পড়ছে। টেকসই বাধ না থাকায় মনপুরা উপজেলায় ভালো কোন পাকা রাস্তা নির্মাণ করা হয় নাই।বেড়িবাধে কার্পেটিং করা হলে বন্যা নিয়ন্ত্রণে পাশাপাশি সড়ক যোগাযোগ এবং পর্যটন শিল্পে ব্যাপক অবদান রাখবে বলে ধারনা মনপুরাবাসীর। জনগণের দাবির প্রেক্ষিতে চরফ্যাশন ও মনপুরার সংসদ সদস্য জনাব নুরুল ইসলাম নয়ন পানি সম্পদ মন্ত্রী বরাবর ডিওলেটার মারফত বাধের উপরে পিচঢালাই কার্পেটিং, সোলার লাইট ও ওয়াচ টাওয়ার অনুমোদিত ডিজাইন ও ডিপিপি মোতাবেক বহাল রেখে কাজ বাস্তবায়নের অনুরোধ জানান। সেই প্রেক্ষিতে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় হতে ৪ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করে হয়।কমিটি গত ২০ জুন সরেজমিনে মনপুরা এলাকা পরিদর্শন করেন।পরিদর্শন কালে এলাকার স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও জনসাধারণ উপস্থিত থেকে বেড়িবাধে কার্পেটিং বহাল রেখে কাজ বাস্তবায়নের জোর দাবি জানান। কমিটির আহবায়ক পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রধান প্রকৌশলী (ডিজাইন), ঢাকা কার্পেটিং বহাল রাখার ব্যাপারে এলাকাবাসীকে আশ্বস্ত করেন। এসময় তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ও নির্বাহী প্রকৌশলী সহ বাপাউবো'র সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। তবে বিষয়টি নিয়ে এলাকা বাসীর মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভ রিরাজ করছে। বাজেট বরাদ্দ প্রাপ্তি কাজ শুরু হওয়া এবং স্থানীয় সংসদ সদস্য ডিও লেটার প্রদানের পর আবার কেন কার্পেটিং বাদ দেয়ার জন্য বাপাউবোর কর্মকর্তারা পায়তারা করতেছে সেটার তাদের কাজে বোধগম্য নয় বলে মনে করছেন স্হানীয়রা। এছাড়া বাপাউবো বিস্তারিত সমীক্ষা করে যাচাই বাছাইয়ের মাধ্যমে বেড়িবাঁধে কার্পেটিং কাজ অন্তর্ভুক্ত করেছিলো এবং তা সরকারের প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক একনেক সভায় অনুমোদন লাভ করেছে। সরকারের কাছে এলাকাবাসীর আবেদন পর্যটন ও সড়ক যোগাযোগের সুবিধার জন্য বরাদ্দকৃত কার্পেটিং বহাল রেখে বেড়িবাঁধের কাজ বাস্তবায়নের ব্যবস্থা করা।




























