
মনপুরা-ভোলাঃভোলার মনপুরা উপজেলার একটি প্রভাবশালী চক্র জ্বালানি তেল, নির্মাণসামগ্রী ও চাল-ডালের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় ভোগ্যপণ্য পাচারের প্রতিযোগিতায় নেমেছে এলাকার সেরাং গন। মাছ ধরার ট্রলারের আড়ালে এসব পণ্য প্রতিবেশী দেশ মিয়ানমারে পাচার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।পাচার শেষে ট্রলারগুলো ফিরে আসার সময় নিয়ে আসছে কোটি কোটি টাকার মাদকের চালান।অনুসন্ধানে এই সক্রিয় পাচারকারী চক্রের বর্তমানে ১১জন সদস্যের নাম উঠে এসেছে। তারা হলেন—খলিল মাঝি, , মজিদ মাঝি, নুরইসলাম, মালেক মাঝি, হান্নান মাঝি, নুরনবী মাঝি, সিরাজ মাঝি, রাকিব, জহির সেরাং, আলমগীর মাঝি, আবুল মাঝি ও জাহাঙ্গীর মাঝি।অভিযুক্তরা সবাই মনপুরা উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের বাসিন্দা। পেশায় জেলে হলেও তারা সমুদ্র উপকূল ব্যবহার করে কৌশলে এই পাচার বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছেন দীর্ঘ দিন ধরে।এছাড়াও নতুন আরো কয়েক জন জড়িয়েছে এই চক্রের সাথেে।অনুসন্ধানে জানা যায়, চক্রটি নোয়াখালীর হাতিয়া থেকে জ্বালানি তেল ও ভোগ্যপণ্য সংগ্রহ করে মনপুরার সমুদ্র উপকূল হয়ে রাতের আঁধারে নিঝুম দ্বীপের পূর্ব পাশে অবস্থিত ‘দমার চর’-এ নিয়ে যায়। শুল্ক-কর ফাঁকি দিয়ে প্রতিটি ট্রলার বোঝাই পণ্য মিয়ানমারে খালাস করার বিনিময়ে তারা মোটা অঙ্কের অর্থ পায়। ফিরতি পথে তারা নিয়ে আসে মাদক, যা স্থানীয় ডিলারদের কাছে তিনগুণ দামে বিক্রি করা হয় বলে জানা যায় একাধিক সূত্রে।সূত্রের দাবি, পাচারের এই ধারাটি শুরুতে কয়েকজন শুরু করলেও বর্তমানে এই চক্রের সদস্য রয়েছে দক্ষিণ সাকুচিয়া ইউনিয়নে বেশি । গত চর মাস ধরে সাগরে মাছ ধরার ছদ্মবেশে এই চক্রটি সক্রিয় রয়েছে। পাচারকারী এই চক্রের আরও কিছু সদস্য নতুন যুক্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় এক জেলে জানান, গত ৯ মে দিবাগত রাতে মনপুরার তালতলা এলাকা থেকে মজিদ সেরাং, জহির সেরাং-এর ট্রলার৷ সহ আরো বেশ কিছু ট্রলার এবং ১২ এপ্রিল দিবাগত রাতে জনতা বাজার মৎস্যঘাট থেকে ও কিছু ট্রলার পণ্য নিয়ে যাত্রা করে মিয়ানমারের উদ্দেশ্য। এছাড়া ১৩ এপ্রিল সন্ধ্যায় চরফ্যাশনের সামরাজ মৎস্যঘাট থেকে আলমগীর মাঝি, আবুল মাঝি, মজিদ মাঝি ও জাহাঙ্গীর মাঝির একাধিক ট্রলার মিয়ানমারের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে।বোটের সেরাংদের কাছে তেল বিক্রি না করার বিষয়ে জানতে চাইলে ফুহাদ বলেন, 'আমি দোকানদার তেল বিক্রি করি,মাঝিরা তেল নিয়ে সাগরে মাছ ধরার কথা বলে যদি পাচার করে এটার দায় কি আমি নিব?আমি তাদের কাছে তেল বিক্রি না করলেও অন্য দোকানদার তো বিক্রি করবে!তাছাড়া এ বাজারে আমি একা তো তেল বিক্রি করি না আরো ব্যবসায়ীরা তেল বিক্রি করে। আমি প্রতি সীজনে ৯,১০টি ট্রলার কে তেল দেই।'এবং আমি সেরাংদের কাছে বাকি টাকা পাই, তবে অভিযুক্ত কয়েক জন সেরাং এর মুঠোফোন বন্ধ থাকায় তাদের বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।হাতিয়া কোস্টগার্ড ইতিমধ্যে পাচারকারী চক্রের বেশ কিছু মালামাল ও ট্রলার জব্দ করতে সক্ষম হয়েছে। সাগরের বিভিন্ন চ্যানেলে কোস্টগার্ডের নিয়মিত টহল জোরদার করা দরকার বলে মনে করেন স্হানীয়রা।যেহেতু মনপুরা উপজেলা এটি সমুদ্রপথের বিষয় তাই নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ডের কঠোর নজরদারি প্রয়োজন। কোনো জেলে জড়িত থাকার প্রমাণ পেলে অবশ্যই তাদের আইনের আওতায় আনার আহ্বান করছেন সংশ্লিষ্টরা।'এছাড়া নতুন সদস্যদের নিয়ে থাকবে পরবর্তী নিউজে চোখ রাখুন।





























