
বিশেষ প্রতিনিধি: রাজধানীর দক্ষিণখানের আশকোনা এলাকায় শিরিনা আক্তার রিংকি (২২) নামে ফেনী সরকারি কলেজের এক শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) দুপুর ২টার দিকে আশকোনা এলাকার ৫৫০ নম্বর বাড়ির একটি ভাড়া বাসার কক্ষ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় নিহতের স্বামী ওহিদুর নবী অন্তরকে আটক করেছে পুলিশ। নিহত শিরিনা আক্তার রিংকি ফেনী সরকারি কলেজের উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের অনার্স চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। তার ক্লাস রোল নম্বর ২০ এবং রেজিস্ট্রেশন নম্বর ২১২৩০২০৭৮২৮। তার বাবার বাড়ি চট্টগ্রামের মীরসরাই উপজেলার বারৈয়ারহাট তিতা বটতলা এলাকার রাজা মিয়া বাড়িতে। শ্বশুরবাড়ি একই উপজেলার ঝুলনপুর এলাকায়। পুলিশ জানায়, আশকোনার ওই ভাড়া বাসায় স্বামী ওহিদুর নবী অন্তরের সঙ্গে থাকতেন শিরিনা। বৃহস্পতিবার দুপুরে কক্ষের দরজা ভেঙে ঝুলন্ত অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। দক্ষিণখান থানার উপপরিদর্শক (এসআই) জামিল হোসেন জানান, ফ্যানের সঙ্গে ওড়না দিয়ে গলায় ফাঁস লাগানো অবস্থায় শিরিনার মরদেহ ঝুলছিল। ঘটনার সময় তার স্বামী অন্তরও বাসায় ছিলেন। নিহতের গলায় ইউ আকৃতির দাগ পাওয়া গেছে। তবে অন্য কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি বলে জানান তিনি। এদিকে নিহতের স্বজনেরা অভিযোগ করেছেন, শিরিনার সঙ্গে তার শ্বশুরবাড়ির লোকজনের পারিবারিক বিরোধ চলছিল। কয়েক দিন আগে তার গ্রামের বাড়িতে অন্তরের পরিবারের লোকজন হামলা চালিয়েছিল বলেও দাবি করেন তারা। ঘটনার আগের রাতে শিরিনা ও অন্তরের মধ্যে ঝগড়া হয়েছিল বলে জানান স্বজনেরা। নিহতের ভাই আরাফাত আহমেদ অভিযোগ করেন, বিয়ের সময় শিরিনাকে দেওয়া স্বর্ণালঙ্কার অন্তরের মামা ও মামী রেখে দিয়েছিলেন। তিনি আরও দাবি করেন, গত শুক্রবার সন্ধ্যায় অন্তরের পরিবারের লোকজন কয়েক দফা হামলা চালিয়ে হুমকি দিয়েছিল। ওই ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ তাদের কাছে রয়েছে বলেও জানান তিনি। আরাফাত আহমেদ বলেন, তার বোনকে গ্রামের বাড়িতে এবং ঢাকায়ও বিভিন্নভাবে হয়রানি করা হতো। তিনি অভিযোগ করেন, তার বোনকে হত্যা করা হয়েছে। তবে শিরিনার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্তের মাধ্যমে মৃত্যুর কারণ জানা যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।




























