
মোঃ কাওছার আহম্মেদ, গাইবান্ধাঃ গাইবান্ধা সদর উপজেলার সুখনগর এলাকায় অবস্থিত সরকারি প্রতিবন্ধী সেবা ও সাহায্য কেন্দ্রে সংঘটিত চাঞ্চল্যকর চুরির ঘটনার দুই মাসেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও এখনো চুরি হওয়া সরকারি মালামাল উদ্ধার কিংবা প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করা যায়নি। এ ঘটনাকে ঘিরে নিরাপত্তা ব্যবস্থার একাধিক অসঙ্গতি ও নথিভুক্ত তথ্য তদন্তের অগ্রগতি নিয়ে নতুন প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। কেন্দ্র প্রধান ক্লিনিক্যাল ফিজিওথেরাপিস্ট মোছাম্মদ ফরিদা ইয়াসমিনের দাখিল করা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, গত ২৬ এপ্রিল দিবাগত রাতে চুরির ঘটনা ঘটে। ঘটনাস্থল পরিদর্শনে দেখা যায়, একটি জানালার গ্রিল আংশিক কাটা, ভবনের ছাদের দরজা খোলা, দ্বিতীয় তলার প্রবেশপথে তালা না থাকা এবং মূল গেটের পকেট গেট খোলা থাকলেও নিচতলার কোলাপসিবল গেটে তালা লাগানো ছিল। সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হলো, ঘটনার সময় সিসিটিভি ক্যামেরা বন্ধ ছিল এবং ক্যামেরার মুখ অন্যদিকে ঘুরিয়ে রাখা হয়েছিল। ফলে চুরির ঘটনার কোনো কার্যকর ভিডিও ফুটেজ পাওয়া যায়নি। চুরি হওয়া সরকারি মালামালের মধ্যে রয়েছে একটি কম্পিউটার, একটি ইউপিএস, একটি আইপিএস ও ব্যাটারি, একটি এইচপি প্রিন্টার এবং একটি ৩২ ইঞ্চি এলইডি টেলিভিশনসহ মোট ছয়টি সরঞ্জাম। এ ঘটনায় গাইবান্ধা সদর থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪৫৭/৩৮০ ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। ঘটনার পর জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশন দায়িত্বরত গার্ড মো. একরামুল ইসলামের বিরুদ্ধে কারণ দর্শানোর নোটিশ জারি করে। নোটিশে ঘটনার রাতে কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার অভিযোগ আনা হলেও লিখিত জবাবে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি জানান, শারীরিক অসুস্থতার কারণে ওই রাতে কর্মস্থলে ছিলেন না এবং তিনি নাইট গার্ড হিসেবে দায়িত্বপ্রাপ্ত ছিলেন না। এদিকে তদন্তকে ঘিরে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে এসেছে। ছোট একটি কাটা গ্রিল দিয়ে কীভাবে বড় আকারের সরকারি মালামাল বাইরে নেওয়া হলো, কেন সিসিটিভি ব্যবস্থা অকার্যকর ছিল, কেন পাশের কক্ষের আরেকটি কম্পিউটার অক্ষত রইল এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার একাধিক স্তরে একসঙ্গে কীভাবে ব্যর্থতা ঘটল—এসব প্রশ্নের এখনো সন্তোষজনক উত্তর মেলেনি। ঘটনাস্থলে উপস্থিত হেলপার নূর ইসলাম দাবি করেন, তিনি নিচতলায় অবস্থান করলেও ঘটনার রাতে কোনো শব্দ শুনতে পাননি। তবে কেন্দ্র প্রধান জানান, ওই রাতে কেন্দ্রে অবস্থানের জন্য হেলপারের কোনো লিখিত অনুমতি ছিল না। এদিকে, গার্ডের বিরুদ্ধে প্রতিষ্ঠানের বাইরে নিজেকে থেরাপিস্ট পরিচয়ে সেবা দেওয়াসহ আরও কিছু অভিযোগ স্থানীয়ভাবে প্রচলিত থাকলেও এসব অভিযোগের বিষয়ে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি এবং স্বাধীনভাবে অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি। জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের পরিচালক এহতেশাম রেজা বলেন, “আমরা বিষয়টি সম্পর্কে অবগত আছি। ঘটনাটি পর্যবেক্ষণে রয়েছে। আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” অন্যদিকে, গাইবান্ধা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, “দ্রুত তদন্ত শেষ করে প্রতিবেদন দেওয়া হবে। সরকারি প্রতিষ্ঠানে সংঘটিত এ চুরির ঘটনার দীর্ঘ সময়েও দৃশ্যমান অগ্রগতি না হওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সচেতন মহল। তাদের দাবি, নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত, সরকারি সম্পদ উদ্ধার এবং ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন করা হোক।





























