
মো.মুরাদ মৃধা, রাণীনগর নওগাঁর রাণীনগরে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের এক কর্মীকে গ্রেপ্তার করায় পুলিশ এএসআইকে হুমকি দিয়েছে রাসেল আহম্মেদ আশিক নামের এক নেতা। রাণীনগর থানা পুলিশের এএসআই লতিফকে মুঠোফোনে হুমকি দিয়ে গালিগালাজ করেন তিনি।এর আগে গত সোমবার সন্ধ্যায় এসকে নাহিদ (২৬) নামে ছাত্রলীগেরে ওই কর্মীকে গ্রেপ্তার করার পর মঙ্গলবার আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করে পুলিশ। গ্রেপ্তারের পর নাহিদকে মারপিট করার অভিযোগে পুলিশের ওই এএসআই লতিফকে হুমকি দিয়ে গালিগালাজ করেন ছাত্রলীগ নেতা আশিক।আশিক নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের রাণীনগর উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক । আর হুমকির শিকার হওয়া লতিফ রাণীনগর থানার এএসআই হিসেবে কর্মরত আছেন।হাতে আসা দুই মিনিট ৫২ সেকেন্ডের অডিও কল রেকর্ডে শোনা যায়, আশিক পুলিশের এএসআই লতিফকে জিজ্ঞেস করেন মামলা ছাড়া এসকে নাহিদকে কিভাবে গ্রেপ্তার করেছেন। এবং এই গ্রেপ্তারে কে সহযোগীতা করেছে। এছাড়া গ্রেপ্তারের পর নাহিদকে মেরেছেন কেন এই বিষয়ে জানতে চান ছাত্রলীগ নেতা আশিক? এএসআই অস্বীকার গেলে নাহিদের হাতে ও পেটে আঘাত আছে বলে মনে করিয়ে দেয় ছাত্রলীগ নেতা আশিক। এরপর জানতে চায় আপনার চাকরি কত সালে। এক পর্যায়ে উগ্র মেজাজে জানতে চান আপনারা ফাজলামি শুরু করেছেন লতিফ ভাই। আমরা কি এলাকায় ফিরবো না? আপনাকে টেনে আবার রাণীনগরে নিয়ে আসা হবে। আমি ছাত্রলীগের সাধারণ সস্পাদক, জয় বাংলার লোক রাসেল আহম্মেদ আশিক। আপনি গায়ে কেন হাত দিয়েছেন? আপনারা কি উন্মাদ হয়ে গেছেন?এএসআই লতিফকে উদেশ্য করে তিনি আরও বলেন, আপনার এক ঘন্টা সময়, নাহিদকে কে গ্রেপ্তার করায়ছে এই তথ্য দিবেন, না হলে আপনার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিব এবং আমরা কি করতে পারি সেটা দেখিয়ে দিব। আপনার এএসআই হ্যাডার মধ্যে দিয়ে দিবো। ওসিকে বলে দিতে চাইলে তিনি আরও খারাপ ভাষায় ওই মিয়া বলে গালি দেয়। এবং আপনার বাচ্চা কাচ্চা পরিবার নেই বলে মনে করিয়ে দেয় আশিক। কাজেই আপনার সব তথ্য আমাদের কাছে সংগ্রহ, টেনে এনে তোর হ্যাডা পাঠানো হবে (মাদারচুদ)। তুই কার গায়ে হাত দিছিস এটা রাতে চিন্তা করবি বলেও হুমকি দেয় এই আশিক।জবাবে এএসআই লতিফ ওসি স্যারের সাথে কথা বলতে বলেন ছাত্রলীগ নেতা আশিককে। এবং তার সাথে তর্ক করতে চান না জানিয়ে ওসির কাছ থেকে তথ্য নিতে বলেন লতিফ। এবং আপনি হুমকি দিচ্ছেন কেন জিজ্ঞেস করে ওসিকে জানিয়ে দিতে চান। এছাড়া একসময় এএসআই বলেন আমিও দেখছি তোমার নেতাগিরি।জানতে চাইলে হুমকিসহ গালিগালাজ করার বিষয়টি নিশ্চিত করেন এএসআই লতিফ। তিনি মুঠোফোনে বলেন, নাহিদ নামের একজনকে গ্রেপ্তারের কারণে ওসি স্যারসহ আমাকে হুমকি দিয়ে গালিগালাজ করেছে। কার নির্দেশে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এটা জানার জন্য সে গালিগালাজ করেছে। আমার বউ বাচ্চাকে দেখে নিতে চেয়েছে। আর মারধরের বিষয়টি তিনি জানেন না বলে জানান। আর তার হুমকির বিষয়ে ওসি স্যারকে বলা হয়েছে।তবে হুমকি ও গালিগালাজের বিষয়টি জানেন না বলে জানালেন থানার অফিসার ইনচার্জ জাকারিয়া মন্ডল। তিনি মুঠোফোনে বলেন, নাহিদকে গ্রেপ্তারের বিষয়ে কার হাত আছে এই বিষয়ে শুধু লতিফের কাছে জানতে চেয়েছে। কিন্তু হুমকি বা গালিগালাজ করেছে এটা শুনিনি। তবে আমি লতিফের সাথে কথা বলে আইনগত ব্যবস্থা নিচ্ছি।তিনি আরও জানান, তাকে কোনো রকম মারধর করা হয়নি। থানার বাহিরে-ভিতরে ও হাজতখানা সবখানেই সিসি ক্যামেরা আছে। আদালতে অভিযুক্ত বা আসামিদের জিজ্ঞেস করা হয় আঘাত বা কোনো টর্চার করা হয়েছে কিনা। তাই এ ধরনের অভিযোগ সঠিক নয়।উল্লেখ্য, গ্রেপ্তার হওয়া এসকে নাহিদ উপজেলার পূর্ব বালুভরা গ্রামের এসকে হাবিবুর রহমানের ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ঢাকায় একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ছিলেন। সম্প্রতি স্ত্রীর অসুস্থতার খবর পেয়ে তিনি গ্রামের বাড়িতে আসেন। সোমবার বিকেলে পারিবারিক প্রয়োজনীয় কেনাকাটার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হয়ে রাণীনগর রেলওয়ে স্টেশন এলাকায় পৌঁছালে পুলিশ তাকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। পরে পরিবারের সদস্যরা জানতে পারেন, পার্শ্ববর্তী আত্রাই থানায় দায়ের হওয়া একটি মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে জলে হাজতে পাঠানো হয়েছে।নাহিদের স্ত্রী আনিকা আক্তার বলেন, গত সোমবার আটকের সময় নাহিদের শরীরে কোনো আঘাতের দাগ ছিলনা। কিন্তু মঙ্গলবার সকালে যখন দেখা করতে যাই, তখন নাহিদের হাতে, নাকে ও গলায় রক্ত দেখতে পাই। মারধর না করলে রক্ত কিভাবে আসলো। আমি অন্তসত্বা ও অসুস্থ। অনেক অনুরোধ করেও নাহিদকে ছাড়াতে পারিনি। আমার সাথে দেখা করতে এসেছিল। তখনই খবর পেয়ে আটক করে।





























