
। জুয়েল হাওলাদার, শরণখোলা (বাগেরহাট): খুলনা রেঞ্জে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়ন, মাদক ও সন্ত্রাসবিরোধী কার্যক্রম জোরদার এবং সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পুলিশি সেবা পৌঁছে দিতে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করে আলোচনায় এসেছেন খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি মোঃ রেজাউল হক। সংশ্লিষ্ট সূত্র, স্থানীয় বাসিন্দা ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে কথা বলে এমন তথ্য জানা গেছে। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই তিনি খুলনা বিভাগের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে পুলিশি সেবায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও পেশাদারিত্ব নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে আসছেন। বিশেষ করে সাধারণ মানুষ যাতে থানায় মামলা বা সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করতে গিয়ে হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়ে মাঠপর্যায়ে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়। স্থানীয়দের ভাষ্য, পুলিশ প্রশাসনের প্রতি মানুষের আস্থা বাড়াতে জনবান্ধব পরিবেশ তৈরিতে গুরুত্ব দিচ্ছেন ডিআইজি রেজাউল হক। অভিযোগ শুনে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া, অনিয়মের বিষয়ে কঠোর অবস্থান এবং ভুক্তভোগীদের সঙ্গে মানবিক আচরণের কারণে তিনি সাধারণ মানুষের কাছে ইতিবাচক ভাবমূর্তি তৈরি করতে সক্ষম হয়েছেন বলে মনে করছেন অনেকে। পুলিশ প্রশাসনের একাধিক সূত্র জানায়, দায়িত্ব পালনে কোনো কর্মকর্তা বা সদস্যের বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতি বা দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিক প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে কঠোর অবস্থানে রয়েছে খুলনা রেঞ্জ প্রশাসন। এতে পুলিশি কার্যক্রমে শৃঙ্খলা ও জবাবদিহিতা আরও শক্তিশালী হয়েছে বলে মত সংশ্লিষ্টদের। এদিকে, মাদক চোরাকারবারি, চোরাচালান, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন সময়ে নেওয়া অভিযানের কারণে অপরাধ নিয়ন্ত্রণে ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে বলে দাবি করেছেন স্থানীয় সচেতন মহল। তাদের মতে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ধারাবাহিক অভিযান ও নজরদারির কারণে অপরাধী চক্রের তৎপরতা অনেকাংশে কমেছে। খুলনার কয়েকজন গণমাধ্যমকর্মী জানান, পেশাগত প্রয়োজনে তথ্য সংগ্রহ কিংবা প্রশাসনিক সহায়তার ক্ষেত্রে ডিআইজি কার্যালয় সহযোগিতাপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। সাধারণ মানুষের অভিযোগ দ্রুত শুনে সমাধানের চেষ্টা এবং সাংবাদিকদের সঙ্গে তথ্যভিত্তিক যোগাযোগ বজায় রাখার বিষয়টিও ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন তারা। এদিকে, সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ডিআইজি রেজাউল হককে ঘিরে বিভিন্ন ফেসবুক পোস্ট ও আইডি থেকে নেতিবাচক প্রচারণা চালানোর অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা ও সচেতন মহলের দাবি, একটি কুচক্রী মহল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ভুয়া ফেসবুক আইডি ব্যবহার করে তার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্নের চেষ্টা করছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়নি। সচেতন মহলের মতে, একজন পেশাদার পুলিশ কর্মকর্তার মূল্যায়ন হওয়া উচিত তার দায়িত্বশীলতা, কর্মদক্ষতা ও জনসেবার ভিত্তিতে। খুলনা রেঞ্জে আইনশৃঙ্খলা উন্নয়ন ও জনবান্ধব পুলিশিং ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে ডিআইজি রেজাউল হকের চলমান কার্যক্রম ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন তারা।।




























