
“ মোঃ কাওছার আহম্মেদ, গাইবান্ধাঃ গাইবান্ধা সদর উপজেলার ৫ নং বল্লমঝাড় ইউনিয়নের উত্তরধানঘড়া গ্রামে সমিতির নাম ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে সুদ ব্যবসা পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের একাধিক অভিযোগের ভিত্তিতে সরেজমিনে তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে অপমানজনক আচরণ, কটূক্তি ও হেনস্তার শিকার হয়েছেন এক সাংবাদিক। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। জানা গেছে, ঢাকা থেকে প্রকাশিত জাতীয় দৈনিক আলোকিত সকাল ও The Muslim Times পত্রিকার গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি মোঃ কাওছার আহম্মেদ অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে উত্তরধানঘড়া গ্রামের ধানঘড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে ফারুকের চায়ের দোকান সংলগ্ন এলাকায় তথ্য সংগ্রহে যান। এ সময় স্থানীয় বাসিন্দা মৃত খোকা মিয়ার ছেলে বাবু হঠাৎ উত্তেজিত হয়ে সাংবাদিকের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, তথ্য সংগ্রহ চলাকালে বাবু সাংবাদিককে উদ্দেশ্য করে বলেন, “এই গ্রামে সুদ ব্যবসা হয় কিনা সেটা দেখবে প্রশাসন, তুই অনলাইন সাংবাদিক।” এ সময় তিনি আরও অশালীন ভাষায় গালাগাল ও কটূক্তি করেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। ঘটনার পর এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, কোনো অনিয়ম বা অভিযোগের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করা সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্বের অংশ। একজন সংবাদকর্মীকে এভাবে অপমান ও হেনস্তা করা স্বাধীন সাংবাদিকতা এবং মতপ্রকাশের পরিবেশের জন্য উদ্বেগজনক বার্তা বহন করে। সাংবাদিক মোঃ কাওছার আহম্মেদ বলেন, “আমি দীর্ঘদিন ধরে পেশাদারিত্বের সঙ্গে সাংবাদিকতা করে আসছি। সমাজের অসঙ্গতি ও অনিয়ম তুলে ধরাই একজন সাংবাদিকের দায়িত্ব। জনস্বার্থে তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে এ ধরনের আচরণের শিকার হওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক।” এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ, উত্তরধানঘড়া এলাকায় সমিতির নাম ব্যবহার করে কিছু ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে সুদের কারবার পরিচালনা করছেন, যার কারণে অনেক সাধারণ মানুষ আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। বিষয়টি প্রশাসনের মাধ্যমে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। এ বিষয়ে ৫ নং বল্লমঝাড় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জুলফিকার রহমান বলেন, “সাংবাদিকরা সমাজের দর্পণ। তারা জনস্বার্থে তথ্য সংগ্রহ ও সত্য তুলে ধরার কাজ করেন। কোনো সাংবাদিকের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ কাম্য নয়। যদি এলাকায় সুদ ব্যবসা বা অন্য কোনো অনিয়মের অভিযোগ থাকে, তাহলে প্রশাসন তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। একই সঙ্গে সাংবাদিকদের নিরাপদ ও স্বাধীনভাবে কাজ করার পরিবেশ নিশ্চিত হওয়া উচিত। সচেতন মহল মনে করছেন, অভিযোগের সত্যতা উদঘাটনের পাশাপাশি সাংবাদিকদের নিরাপদ ও স্বাধীনভাবে কাজ করার পরিবেশ নিশ্চিত করাও জরুরি। তারা বলেন, “সত্য প্রকাশের পথ রুদ্ধ করতে ভয়ভীতি বা হেনস্তা কোনো সমাধান নয়; বরং এতে সমাজের অনিয়ম আরও আড়ালে থেকে যায়।





























