
।মোতালেব হোসেন, কুমিল্লা।। কুমিল্লার লালমাই উপজেলার জগতপুর গ্রামের বাসিন্দা ও চাঁদপুরের শাহরাস্তি মডেল স্কুলের সাবেক ইংরেজি শিক্ষক মো. ইজাজুল হককে ঘিরে একাধিক মামলার ঘটনায় রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অভিযোগ উঠেছে।ভুক্তভোগী ইজাজুল হকের পরিবারের দাবি, ২০১৯ সালে চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলার সেতরা গ্রামের নাজমুন নাহার মৌসুমীর (হনুফা আক্তার) সঙ্গে পরিচয়ের পর থেকেই বিভিন্ন জটিলতার সৃষ্টি হয়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, মৌসুমী সে সময় স্থানীয় যুব মহিলা লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। নাজমুন নাহার মৌসুমী প্রকাশ হনুফা আক্তার শাহরাস্তি উপজেলার যুব মহিলা লীগের সাধারণ সম্পাদক ও চাঁদপুর জেলার জেলা সদস্য ছিলেন।তারা আরো বলেন, ২০১৯ সালের ১ ডিসেম্বর ইজাজুল হকের বিরুদ্ধে ধর্ষণের মামলা দায়ের করা হয়। ওই বছরের ডিসেম্বরেই তিনি গ্রেপ্তার হন। পরে ২০২০ সালের ১৩ জানুয়ারি দুজনের বিয়ে হয়।তাদের অভিযোগ, বিয়ের পরও ইজাজুল হকের বিরুদ্ধে ধারাবাহিকভাবে আরও একাধিক মামলা দায়ের করা হয়। এর মধ্যে ২০২৩ সালে মাদক ও যৌতুক-সংক্রান্ত মামলা, পরিবারসহ নন-জিআর মামলা এবং ২০২৪ সালের ১২ মে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা রয়েছে।মোট পাঁচটি মামলার মধ্যে বর্তমানে চারটি মামলা চাঁদপুর জেলা আদালতে বিচারাধীন এবং একটি মামলা থেকে তিনি অব্যাহতি পেয়েছেন।এবিষয়ে মুঠোফোনে জানতে চাইলে, নাজমুন নাহার মৌসুমী প্রকাশ হনুফা আক্তার এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ইজাজুল হকের সঙ্গে আমার সম্পর্ক ছিল। পরে আমি বিয়ের কথা বললে তিনি রাজি না হওয়ায় ২০১৯ সালে তার বিরুদ্ধে ধর্ষণের মামলা করি। এরপর তিনি ২০২০ সালে আমাকে বিয়ে করেন। আমি তার বিরুদ্ধে ২০২৩ সালে মাদক ও নারী নির্যাতনের মামলা করি পরে পরিবারসহ একটি নন-জিআর মামলাও করি, এছাড়াও আমি আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলাম এবং ২০০১ সালে ইউপি চেয়ারম্যান পদে ও ২০২৪ সালে শাহরাস্তি উপজেলা পরিষদে মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে নির্বাচনে অংশ নিই। ওই সময় তিনি আমার ব্যক্তিগত ও আপত্তিকর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে আমি তার বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে ও আরেকটি মামলা করি।তবে সংশ্লিষ্ট অভিযোগগুলো বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন থাকায় এ বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।ইজাজুল হকের পরিবারের দাবি ব্যক্তিগত বিরোধ ও রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে এসব মামলা করা হয়েছে। তারা বিষয়টির নিরপেক্ষ তদন্ত এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।





























