
আশিক রেজার কবিতা কেবল শিল্পের প্রয়োজনে নয়, বরং সমাজবাস্তবতার ভিত্তি ও আগামী দিনের পথরেখা জানতে আরও বেশি করে পড়া প্রয়োজন। গতকাল শনিবার (১৫ আগস্ট) রাজধানীর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে কবি ও গবেষক আশিক রেজার নতুন দুটি বইয়ের পাঠোৎসবে বক্তারা এসব কথা বলেন।
'কালের ধ্বনি' আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে আলোচিত বই দুটি হলো কবিতার বই 'ক্লান্ত আগ্নেয়গিরি, আবার ঘুমাও' এবং গবেষণাধর্মী গ্রন্থ 'বিশ্বে বাংলাভাষার প্রতিবেশ'। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটের তৃতীয় তলায় বিকেল ৫টায় শুরু হওয়া এই আয়োজনে সাহিত্যপ্রেমী ও পাঠকদের পাশাপাশি দেশের বিশিষ্ট গবেষক ও লেখকরা অংশ নেন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ইমরান মাহফুজ।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন প্রখ্যাত গীতিকার শহীদুল্লাহ ফরায়েজী। তিনি বলেন, সমাজ বদলের জন্য আশিক রেজার মতো সৃজনশীল মানুষের কাজ দরকার। আমরা আর কত রক্ত দেব এমন প্রশ্ন রেখে সমাজ ও রাষ্ট্রের সংকট নিয়ে সবাইকে বেশি করে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি। প্রধান আলোচকের বক্তব্যে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আসাদুজ্জামান বলেন, বাংলা ভাষা নিয়ে আশিক রেজার কাজ অসামান্য। বিশ্বে বাংলার বর্তমান অবস্থা জানতে তাঁর গবেষণাধর্মী বইটি বেশ কার্যকর ভূমিকা রাখবে। তবে এতে আরও মনোযোগ যুক্ত হলে কাজটি প্রাতিষ্ঠানিকভাবে আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে বলে তিনি মত দেন।
গবেষক কাজল রশীদ শাহীন তাঁর আলোচনায় বলেন, আমরা গণঅভ্যুত্থান করতে পারি কিন্তু সমাজ ও রাষ্ট্রের সংকট মোকাবিলা কিংবা নতুন সমাজ নির্মাণ করতে পারি না। জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানকে নানাভাবে বিশ্লেষণ করা হয়েছে এসব কবিতায়। তাই নতুন রাষ্ট্র নির্মাণে এই কবিতাগুলো আগামীতে আরও প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠবে। সংবিধান বিশেষজ্ঞ আরিফ খান বলেন, আগ্নেয়গিরি ক্লান্ত হয় না। জুলাইয়ের স্পিরিটও ঠিক তেমনই। আশিক রেজা মূলত মানুষের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ ও হতাশাকে শিল্পের আবরণে হাজির করেছেন। অন্যদিকে যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ খান মো. রবিউল আলম বাংলা ভাষার প্রতিবেশ নিয়ে লেখা বইটির গঠনমূলক সমালোচনা করে এতে একটি নির্ঘণ্ট যুক্ত করার পরামর্শ দেন।
অনুষ্ঠানে আরও আলোচনায় অংশ নেন অনার্য মোর্শেদ, ফরিদুল ইসলাম নির্জন, ইবরাহীম নীরব, কবি সানাউল্লাহ সাগর, মীর হেলাল ও রাসেল আবদুর রহমান। এছাড়া অনুষ্ঠানে কবিতা আবৃত্তি করেন আলমগীর ইসলাম শান্ত। সমকালীন রাজনীতি ও মানুষের পুঞ্জীভূত অভিজ্ঞতার ওপর বক্তাদের আলোচনা, কবিতা আবৃত্তি এবং পাঠকদের মতামতের মধ্য দিয়ে উৎসবমুখর এই আয়োজনের সমাপ্তি ঘটে।
শুভ্র/







































