
ওয়াসিম উদ্দিন সোহাগ (স্টাফ রিপোর্টার) দেশে কর্মসংস্থান ও সচেতনতার অভাবে দিন দিন বাড়ছে শিশুশ্রম কেউ মানছেনা আইনের বিধান। নেই কোন নিষেধাজ্ঞা ও আইনের প্রয়োগ।
আজ ১লা মে দিবস উপলক্ষে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে ঘুরে দেখা গেছে শিশুশ্রমের বালাই। কাজকর্মের প্রতিটি পরতে পরতে শিশুশ্রম যেন ঝুঁকে বসেছে। এক্ষেত্রে ১০ থেকে ১৪ বছরের শিশু কিশোরদের সংখ্যাই বেশি। যে বয়সে তারা লেখাপড়া শিখে আলোরপথে এগিয়ে যাওয়ার কথা। সেই বয়সেই কাঁধে নিয়েছে সংসারের ভার। আবার অনেকেই পড়াশোনা বিমুখ হয়ে কাজকে সঙ্গী করে নিয়েছে। অনেক পরিবার বাড়তি আয়ের আশায় শিশুকিশোরকে বিভিন্ন কাজে জড়িয়ে দিচ্ছে। অথচ ১৯৭৩ সালের নুন্যতম বয়স কনভেনশন কাঠামো অনুচ্ছেদ ৩ এর অধীনে বলা আছে ১৮ বছরের কম বয়সী কেউ এমন কোন কাজ করতে পারবে না, যা তাদের নিরাপত্তা স্বাস্থ্য ও নৈতিকতাকে বিপন্ন করে। ১৩ - ১৫ বছরের বয়সী শিশুরা হালকা কাজ করতে পারে যতক্ষণ কাজটি কোন ক্ষতি না করে। ও তাদের শিক্ষাকে বাধাগ্রস্ত না করে। এই কনভেনশনে ১৩ বছরের কমবয়সী শিশুদের কাজ করতে নিষেধ করা হয়েছে। তাড়াইলের বিভিন্ন সড়কে ঘুরে দেখা যায় রিকসা,অটো,টমটম,টেলাগাড়ী চালকের ভূমিকায় শিশু কিশোরদের বিচরণ অধিক। তাদের ড্রাইভিং সম্পর্কে নেই কোন সামান্য শিক্ষা ও অভিজ্ঞতা। জীবন সম্পর্কে নেই কোন ধারণা। তবুও অপরিণত বয়সে তারাই নির্দ্বিধায় চালাচ্ছে গাড়ি। ছোট বড় রাস্তায় নিয়ম নীতিকে তোয়াক্কা জ্ঞান করে চালাচ্ছে বিভিন্ন ভারি পরিবহন। এসকল কিশোররা দ্রুত গাড়ী চালানোকেই পারদর্শীতা মনে করে। এমন কম বয়সের গাড়ীচালক উপজেলার রাস্তা ও অলিগলিতে বেরোতেই অহরহ দেখতে পাওয়া যায়। ফলে প্রতিনিয়তই ঘটছে ছোটবড় অনেক দূর্ঘটনা। হচ্ছে বোকামীর জন্য গাড়ী ছিনতাই। এছাড়াও অপ্রাপ্ত বয়সের এসকল শিশুকিশোরদের দেখা যায় হোটেল রেস্তোরাঁ,,মোদির দোকান, ফার্মেসীসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে বিরামহীন কাজ করে যেতে। অনেক আড়ৎ, মেশিনারিজ ইটভাটাতে ভারি মালামাল টানতেও দেখা যায়। আইনকে ফাঁকি দিয়ে প্রতিষ্ঠানের মালিকরা শিশুকিশোরদের ব্যবহার করে কাজ করাচ্ছে সকালথেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত। অথচ ১৬ বছরের কম বয়সী শিশুদের এক ঘন্টার পারিশ্রমিক ৪০ সেন্ট ও সপ্তাহে ৪০ ঘন্টা কাজ করার বিষয়টিকে মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট সাংবিধানিক রুপ দিয়েছে। তার মানে অপ্রাপ্ত বয়সে এর চেয়ে বেশি সময় কাজ করা কিশোর কিশোরীর জন্য সীমালঙ্ঘন ও নিয়ম বহির্ভুত। গ্রামগঞ্জেে ঘুরে দেখা গেছে অপরিণত বয়সের এসকল শিশুকিশোররা ধনী গৃহস্থ বাড়িতে চুক্তিভিত্তিক চাকরের কাজ করে। ফলে মনিবের ইচ্ছানুযায়ী ভারি মালামাল বহন ও অনৈতিকভাবে দীর্ঘ সময় কাজ করিয়ে থাকে। এরকমভাবে সারাদেশের প্রায় সকল জায়গায় শিশুশ্রম আইন লঙ্ঘিত হচ্ছে। কিন্তু আইনের প্রয়োগ ও সচেতনতার অভাবে এর বিরুদ্ধে কার্যকর কোন ভূমিকা চোখে পড়ছে না।
জাতিসংঘ ২০২১ সালকে শিশুশ্রম নির্মূলের আন্তর্জাতিক বছর হিসাবে ঘোষণা করলেও আমাদের দেশের কিছু শিক্ষিত সম্পদশালী ও সচেতন সমাজ তা আমলে নিচ্ছে না। পারিবারিক অসচ্ছলতার সুযোগ নিয়ে কিশোর কিশোরীদের ভারি ও কঠিন কাজে সম্পৃক্ত করে নিচ্ছে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মালিকরা। এসব প্রতিষ্ঠানের মালিক ও শ্রমিকদের জিজ্ঞেস করে জানা যায়, তারা অভিভাবক বা স্বজনদের সম্মতিতেই এই শ্রমের সাথে জড়িত করেছে। শিশুরাও বলেছে পরিবারের অর্থনৈতিক সমস্যার সমাধানের আশায় তারা শিশুশ্রমে জড়িয়েছে।




































