
আহম্মদ কবির স্টাফ রিপোর্টার, তাহিরপুরঃধীরে ধীরে বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে গ্রামবাংলার সুপরিচিত বিন্না ঘাস(স্থানীয়দের ভাষায় বিন্না ছন)।সুনামগঞ্জ জেলায় অবস্থিত বিশ্ব ঐতিহ্য রামসার সাইট টাঙ্গুয়ার হাওর এলাকা থেকে।এক সময় টাঙ্গুয়ার হাওরের বিভিন্ন রাস্তার ধারে বনবাদাড়ে এই ঘাস প্রকৃতিতে শোভাবর্ধন করত। হাওরাঞ্চলের সৌখিন লোক গুলো তীব্র গরম হতে স্বস্তি নিতে এই ঘাস বা ছন ঘরের ছাউনি হিসাবে ব্যবহার করতো।কিন্তু প্রযুক্তির ছোঁয়ায় ইটপাথর ও ঢেউটিনের দাপটে মানুষ উন্নয়নের পথে দাপিত হয়ে,ঘর নির্মাণে ইটপাথর ও ঢেউটিন ব্যবহারের ফলে,এই ঘাস বা ছনের কদর কমে গেছে।অযত্নে অবহেলায় ঘাস গুলো আর হাওরাঞ্চলের রাস্তার ধারে ও বনবাদাড়ে সচরাচর চোখে পড়ে না।ধীরে ধীরে ঘাস(ছন) গুলো বিলুপ্তি হয়ে যাচ্ছে।এই ঘাস নিয়ে বিভিন্ন গবেষণার তথ্যসুত্রে জানাযায় বিন্না ঘাস কে পাহাড় রক্ষার জাদুর ঘাস বলা হয়।কারণ এর লম্বা শিকড় অল্প দিনেই মাটির নিচে জালের মতো ছড়িয়ে পড়ে। অনেক সময় শিকড় চলে যায় ১০ থেকে ১৪ফুট পর্যন্ত গভীরে। জানাযায় চার থেকে ছয় মাসের মধ্যে মাটিতে বোনা ঘাস ঢাল রক্ষার জন্য প্রস্তুত হয়ে যায়। আবার শীত বা গ্রীষ্ম সব মৌসুমে টিকে থাকতে পারে এই ঘাস।পানি পরিস্কার করতে এবং পানি থেকে আর্সেনিক দূর করে দূষণ কমাতেও এ ঘাস কার্যকর ভূমিকা রাখে।গবেষণার তথ্যসুত্রে জানাযায় এই ঘাস দিয়ে নদীর তীর, পাহাড়ি ঢাল,রাস্তাঘাট সমুদ্র তীরবর্তী এলাকা রক্ষা করা সম্ভব।বিন্না ঘাসের লম্বা মূল বা শেকড় খুব দ্রুত মাটির গভীরে ঢুকে মাটিকে শক্ত করে আঁকড়ে ধরে রাখে।জানাযায় এই ঘাসের সহনশক্তি ইস্পাতের ছয় ভাগের এক ভাগ।অর্থাৎ ছয়টি শেকড় একসঙ্গে জোড়া দিলে সেটি একটি ইস্পাতের মতোই শক্তিশালী হয়ে যায়। ঘাস গুলো প্রচন্ড ঠান্ডা তীব্র গরমে অর্থাৎ প্রতিকূল পরিবেশেও বেঁচে থাকতে পারে।এমনকি লবণাক্ত পানিতেও।স্থানীয়রা জানান একসময় আমাদের এই হাওরাঞ্চলের রাস্তাঘাট,কান্দা ও বনবাদাড়ে ওই বিন্না ছন(ঘাস)সচরাচর দেখা যেতো,এখানকার লোকজন এলাকাভিত্তিক ওই ছন গুলো সংরক্ষণ করে রাখতো।এখন সবাই ঘরের ছাউনিতে ঢেউটিন ব্যবহার করে,তাই ওই ছনের কদর কমে গেছে।তারা জানান ওই বিন্না ছন এর মূল সহ উপরে তুলে ঢেউয়ের আঘাত থেকে বাড়িঘর রক্ষার জন্য বাঁধ দেওয়া হতো।উনারা জানান বর্তমানে যে ফসল রক্ষা বাঁধ দেওয়া হয় ওই বাঁধ গুলোর মাটি ধরে রাখতে যদি এসিব বিন্না ঘাস বা ছন লাগানো হতো অনেকটাই উপকার হতো।টাঙ্গুয়ার হাওর পাড়ের জয়পুর গ্রামের বাসিন্দা প্রবীণ মুরব্বি কপিলনুর মিয়া জানান আমরা আগে ঘরের ছাউনি দিতাম বিন্না ছন দিয়ে কেউ বা আবার হুগল এর ছন কেউ আবার ধানের খড় দিয়ে ঘরের ছাউনি দেওয়া হতো। তবে বিন্নার ছন অনেকটাই টেকসই ছিল একবার ছাউনি দিলে চারপাঁচ বছর চলে যেতো। এখন আর এসব ছন ব্যবহার করা হয় না।ইদানীং হাওর এসব বিন্নার ছন তেমনটা দেখা যায়নি।আগে আমরা যার যার এলাকাভিত্তিক ওই ছন সংরক্ষণ করে রাখতাম।




































