
ইয়ার রহমান আনান:কক্সবাজার ব্যুরো
কক্সবাজারের চকরিয়ায় ভুয়া চিকিৎসক, অনুমোদনহীন স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম এবং অনুমতিবিহীন আল্ট্রাসনোগ্রাফি পরিচালনার অভিযোগে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেছে উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ। রোববার (৪ অক্টোবর ২০২৬) উপজেলার মালুমঘাট ও পৌর শহরের বিভিন্ন এলাকায় পরিচালিত এ অভিযানে দুই ব্যক্তি, এক নারী ও দুই ফার্মেসিকে মোট ১ লাখ ৮৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
চকরিয়া উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের সমন্বয়ে পরিচালিত অভিযানে নেতৃত্ব দেন চকরিয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও বিজ্ঞ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শফিউল আলম।
অভিযানকালে মালুমঘাটের মা-মনি হাসপাতালে মো. আলী আকবর খানকে ভুয়া চিকিৎসা ডিগ্রি ব্যবহার করে বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালে সার্জারি করা, বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের (বিএমডিসি) নিবন্ধন না থাকা এবং অ্যানেস্থেশিয়ার কোনো ডিগ্রি না থাকা সত্ত্বেও বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালে অ্যানেস্থেশিয়া দেওয়ার অভিযোগে বাংলাদেশ মেডিকেল ও ডেন্টাল কাউন্সিল আইন, ২০১০-এর বিভিন্ন ধারায় ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।
এ ছাড়া চিরিংগা সরকারি হাসপাতালের পশ্চিম পাশে হুসনে আরা নামের এক নারীকে ধাত্রীবিদ্যার কোনো প্রাতিষ্ঠানিক ডিগ্রি না থাকা সত্ত্বেও নারীদের প্রসবসংক্রান্ত বিষয়ে চিকিৎসকের প্যাডে লিখে দেওয়া এবং অনুমোদনবিহীনভাবে বিভিন্ন ওষুধ লেখার অভিযোগে একই আইনের বিভিন্ন ধারায় ৬০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
সরকারি হাসপাতাল সড়কে রিদুয়ানুল কবির নিশান নামের একজন ডিএমএফকে চিকিৎসকের প্যাডে লিখে অনুমতিবিহীন বিভিন্ন ওষুধ লেখার অভিযোগে বাংলাদেশ মেডিকেল ও ডেন্টাল কাউন্সিল আইন, ২০১০-এর বিভিন্ন ধারায় ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
অন্যদিকে, সোনালী ট্রেডার্স ফার্মেসিকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অনুমোদন ছাড়া আল্ট্রাসাউন্ড মেশিন স্থাপন করে আল্ট্রাসনোগ্রাফি কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগে বাংলাদেশ ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর বিভিন্ন ধারায় ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
একই অভিযোগে সেইফ মেডিসিন কর্নার ফার্মেসিকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয় এবং তা আদায় করা হয়।
অভিযান শেষে দুই ব্যক্তি, এক নারী ও দুই ফার্মেসিকে মোট ১ লাখ ৮৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
অভিযানে সহযোগিতা করেন চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জুনিয়র কনসালট্যান্ট (অ্যানেস্থেশিওলজি) ডা. মো. মামুন-অর-রশিদ চৌধুরী, আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. মিসকাত উদ্দীন আহমদ এবং উপজেলা স্যানিটারি ইন্সপেক্টরসহ সংশ্লিষ্টরা।





























