
মোঃ কাওছার আহম্মেদ, গাইবান্ধা ঃ সরকারি সেবার মান নিয়ে সাধারণ মানুষের অভিযোগ নতুন নয়। বিশেষ করে ভূমি অফিসকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরে দালালচক্র, হয়রানি ও ভোগান্তির নানা অভিযোগ শোনা গেছে। তবে সেই চিরচেনা চিত্র থেকে বেরিয়ে এসে গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার ভাতগ্রাম ভূমি অফিস এখন সাধারণ মানুষের কাছে একটি আস্থার নাম হয়ে উঠেছে। আর এই ইতিবাচক পরিবর্তনের কেন্দ্রে রয়েছেন ভাতগ্রাম ভূমি অফিসের দায়িত্বশীল ভূমি কর্মকর্তা শরিফুল ইসলাম সেলিম।সেবাগ্রহীতাদের অভিযোগ নয়, এখন শোনা যাচ্ছে প্রশংসার কথা। নামজারি, খারিজ, ভূমি উন্নয়ন কর, রেকর্ড সংশোধনসহ বিভিন্ন কাজে প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ ভাতগ্রাম ভূমি অফিসে আসছেন। তাদের দাবি, আগের তুলনায় এখন অনেক দ্রুত, সহজ এবং স্বচ্ছভাবে সেবা পাওয়া যাচ্ছে। সবচেয়ে বড় বিষয় হলো দালালের মাধ্যমে নয়, সরাসরি অফিসে এসেই প্রয়োজনীয় কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব হচ্ছে। সেবা নিতে আসা স্থানীয় বাসিন্দা মো. আব্দুল কুদ্দুস বলেন,আমি জমির নামজারির কাজ নিয়ে অফিসে এসেছিলাম। কোনো দালালের শরণাপন্ন হতে হয়নি। কর্মকর্তা নিজেই প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিয়েছেন। খুব অল্প সময়ের মধ্যেই কাজের অগ্রগতি দেখতে পেয়ে আমি সত্যিই মুগ্ধ।" অপর সেবাগ্রহীতা মোছা. রওশন আরা বেগম বলেন, সরকারি অফিসে গিয়ে এত সুন্দর ব্যবহার আগে খুব কমই পেয়েছি। এখানে কেউ বাড়তি টাকা চায় না, কেউ ঘুরায়ও না। নিয়ম অনুযায়ী কাজ করে দেয়। সাধারণ মানুষের জন্য এটি অনেক বড় স্বস্তির বিষয়।" স্থানীয় কৃষক মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, "আগে ভূমি অফিসে যেতে ভয় লাগত। মনে হতো দালাল ছাড়া কোনো কাজ হবে না। কিন্তু এখন পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন। শরিফুল ইসলাম সেলিম স্যার দায়িত্ব নেওয়ার পর অফিসের পরিবেশ অনেক বদলে গেছে। সচেতন নাগরিকদের মতে, ভাতগ্রাম ভূমি অফিসে বর্তমানে যে সেবাবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে, তা সরকারি সেবাখাতে একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত। সাধারণ মানুষের সঙ্গে আন্তরিক আচরণ, দ্রুত সেবা প্রদান এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার কারণে মানুষের আস্থা দিন দিন বাড়ছে। এ বিষয়ে ভূমি কর্মকর্তা শরিফুল ইসলাম সেলিম বলেন,ভূমি সেবা মানুষের মৌলিক নাগরিক সেবার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাই জনগণকে হয়রানি নয়, সহযোগিতা করাই আমাদের দায়িত্ব। আমি সবসময় চেষ্টা করি সেবাগ্রহীতারা যেন দালাল ছাড়াই সরাসরি অফিসে এসে নিয়ম অনুযায়ী দ্রুত ও স্বচ্ছ সেবা পান। তিনি আরও বলেন, ভাতগ্রাম ভূমি অফিসকে শতভাগ দালালমুক্ত ও হয়রানিমুক্ত রাখতে আমরা বদ্ধপরিকর। কোনো ব্যক্তি যদি অনিয়ম, দুর্নীতি বা হয়রানির শিকার হন, তাহলে সরাসরি অভিযোগ করতে পারেন। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।" স্থানীয়দের ভাষ্য, সরকারি সেবাকে জনবান্ধব করতে হলে ভাতগ্রাম ভূমি অফিসের মতো উদ্যোগ দেশের অন্যান্য অফিসেও ছড়িয়ে দেওয়া প্রয়োজন। তাদের মতে, দায়িত্বশীলতা, সততা ও জনগণের প্রতি আন্তরিক মনোভাব থাকলে সরকারি অফিসও মানুষের ভরসার জায়গা হয়ে উঠতে পারে। দালালমুক্ত সেবা, স্বচ্ছ কার্যক্রম, দ্রুত নিষ্পত্তি এবং সেবাগ্রহীতাদের প্রতি মানবিক আচরণের মাধ্যমে ভাতগ্রাম ভূমি অফিস আজ একটি ব্যতিক্রমী উদাহরণ। আর এই পরিবর্তনের নেতৃত্বে থাকা ভূমি কর্মকর্তা শরিফুল ইসলাম সেলিমকে ঘিরে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা ও আস্থা ক্রমেই বাড়ছে।




























