
সাআদ মাহমুদ, হালুয়াঘাট (ময়মনসিংহ) উপজেলা প্রতিনিধি মশার উপদ্রব আর ডেঙ্গুর আতঙ্ক—দুটিই যখন মানুষের দৈনন্দিন জীবনে উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে, তখন ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা তৈরির পাশাপাশি পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে নেমেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, হালুয়াঘাট উপজেলা শাখা। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) হালুয়াঘাট পৌর এলাকায় দলটির উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয় পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ কর্মসূচি। কর্মসূচির শুরুতে হালুয়াঘাট জামায়াতে ইসলামীর কার্যালয় থেকে একটি সচেতনতামূলক র্যালি বের করা হয়। র্যালিটি হালুয়াঘাট মধ্যবাজার হয়ে মাছের মহল গিয়ে শেষ হয়। র্যালিতে দলটির নেতাকর্মীরা ডেঙ্গু প্রতিরোধে বিভিন্ন সচেতনতামূলক বার্তা তুলে ধরেন। পরে মাছের মহল এলাকায় পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করেন তারা। এ সময় বাজার ও আশপাশের এলাকায় জমে থাকা ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কারের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ করা হয়। কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী হালুয়াঘাট উপজেলা শাখার আমির আলহাজ্ব মোয়াজ্জেম হোসেন মাস্টার। তিনি বলেন, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ঈমানের অঙ্গ। এই হাদিস যদি আমরা মেনে চলি এবং নিজেদের বাড়িঘর ও আশপাশের পরিবেশ নিয়মিত পরিষ্কার রাখি, তাহলে ডেঙ্গুর প্রকোপ অনেকটাই কমিয়ে আনা সম্ভব, ইনশাআল্লাহ। তিনি আরও বলেন, হালুয়াঘাটে এখন পর্যন্ত ৩৭ জন ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়েছেন। তাই আতঙ্কিত না হয়ে সবাইকে সচেতন হতে হবে এবং ডেঙ্গুর বাহক এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করতে হবে। কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন হালুয়াঘাট পৌর জামায়াতের সভাপতি আসাদুজ্জামান নুর, ৩ নং কৈচাপুর ইউনিয়নের সভাপতি ডা. আবু হানিফ খান, ৪ নং সদর ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মো. আব্দুল মালেক, পৌর সেক্রেটারি সালাউদ্দিন আহমেদ, ৩ নম্বর কৈচাপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী আবু নাঈম খান মানিক, পৌর ছাত্রশিবির সভাপতি নাহিদ হোসেন নিশাদ, পৌর সেক্রেটারি হামজা ইব্রাহিম নিহান এবং ৩ নং কৈচাপুর ইউনিয়ন উলামা বিভাগের সেক্রেটারি মাও. শফিকুল ইসলামসহ স্থানীয় নেতাকর্মীরা। কর্মসূচিতে নেতাকর্মীরা বলেন, শুধু একটি দিনের পরিচ্ছন্নতা অভিযান দিয়ে ডেঙ্গু প্রতিরোধ সম্ভব নয়। এজন্য ব্যক্তি, পরিবার ও সামাজিক পর্যায়ে নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চালিয়ে যেতে হবে। বিশেষ করে বাড়ির আশপাশে জমে থাকা পানি, পরিত্যক্ত পাত্র, ডাবের খোসা, টায়ার ও অন্যান্য জায়গায় যেন পানি জমে না থাকে, সেদিকে সবাইকে নজর দিতে হবে। সচেতনতামূলক এই কর্মসূচির মধ্য দিয়ে সাধারণ মানুষের প্রতি নিজেদের বাড়িঘর, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, রাস্তা ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখার আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে ডেঙ্গুর লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার জন্যও সচেতন করা হয়। স্থানীয়দের অনেকের মতে, ডেঙ্গু প্রতিরোধে এমন পরিচ্ছন্নতা ও জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম নিয়মিতভাবে পরিচালিত হলে মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়বে এবং মশার প্রজননস্থলও অনেকাংশে কমানো সম্ভব হবে।





























