
রাজধানী ঢাকায় চলাচল করা লক্কড়-ঝক্কড় গাড়িগুলো বাংলাদেশে উন্নয়নকে প্রশ্নবিদ্ধ করে বলে মন্তব্য করেছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।
এ প্রসঙ্গে তিনি বলেছেন, যখন বিদেশিরা বাংলাদেশে আসে এবং আমাদের লক্কর-ঝক্কর গাড়ি দেখে, তখন আমাদের খুব লজ্জা হয়। এগুলো প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উন্নয়নকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। পরিবহন মালিকদের এদিকে নজর দিতে হবে।
বৃহস্পতিবার (২১ মার্চ) দুপুরে বনানীতে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) কার্যালয়ে ‘পবিত্র ঈদুল ফিতর ২০২৪ উদযাপন উপলক্ষ্যে সড়কপথে যাত্রীসাধারণের যাতায়াত নির্বিঘ্ন ও নিরাপদ করার লক্ষ্যে প্রস্তুতিমূলক সভা’য় তিনি এ কথা বলেন।
ওবায়দুল কাদের বলেন, পরিবহন মালিক সমিতির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে যে, ঢাকার বাইরে থেকে ফিটনেস বিহীন গাড়ি ঢাকায় ঢোকে। আমি তো বলব বাইরে থেকে সিটিতে লক্কড়-ঝক্কড় গাড়ি কম আসে। বরং সিটিতেই অনেক লক্কড়-ঝক্কড় গাড়ির কারখানা আছে। আমি সেগুলো নিজের চোখে গিয়ে দেখেছি। ঈদের আগে সেগুলোতে রং লাগাতে দেখেছি, যে রং আবার ১০ দিনও থাকে না।
সড়ক পরিবহন মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, এবার ঈদ যাত্রা নির্বিঘ্ন করতে তৈরি পোশাক শিল্প কারখানাগুলো পর্যায়ক্রমে বন্ধ রাখতে হবে। ঘরমুখী মানুষের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে ঈদের সাত দিন আগে থেকে দেশের সব সড়কে নির্মাণকাজ বন্ধ থাকবে। সেইসঙ্গে ঈদের পরের তিন দিনও কাজ বন্ধ থাকবে।
ওবায়দুল কাদের জানান, এবারের ঈদে যানজটের জন্য মহাসড়কগুলোর সম্ভাব্য ১৫৫ স্পট চিহ্নিত করা হয়েছে। ঈদের আগের ৩ দিন ও পরের ৩ দিন মহাসড়কে বন্ধ রাখা হবে ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান ও লরি চলাচল। জাতীয় মহাসড়কে ঈদের আগে ও পরের তিনদিন সংস্কার কাজ বন্ধ রাখা হবে। সেই সঙ্গে তৈরি পোশাক শিল্প কারখানাগুলো পর্যায়ক্রমে বন্ধ রাখতে হবে।
তিনি বলেন, তিন চাকার পর মহাসড়কে সবচেয়ে বড় উপদ্রব মোটরসাইকেল। এ নিয়ে নীতিমালা বাস্তবায়ন হচ্ছে না। হাইওয়ে পুলিশের ক্ষমতা আরো বাড়াতে হবে। পাশাপাশি বিআরটিএর সক্ষমতা বাড়াতে হবে। না হলে যতো সিদ্ধান্তই নেওয়া হোক কোনো কাজে আসবে না।
ঈদের আগের তিন দিন ও পরের তিন দিন মহাসড়কে ট্রাক, কাভার্ডভ্যান ও লরি চলাচল বন্ধ রাখা হবে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সচিব এবিএম আমিন উল্লাহ নুরী। আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর বনানীতে বিআরটিএ কার্যালয়ে আয়োজিত প্রস্তুতিমূলক সভায় তিনি এ কথা জানান।
সচিব বলেন, ঈদে ঘরমুখো মানুষের নির্বিঘ্ন ও নিরাপদ যাতায়াতে ঈদের আগের তিন দিন ও পরের তিন দিন মহাসড়কে ট্রাক, কাভার্ডভ্যান ও লরি চলাচল বন্ধ রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে সকল সড়কে নির্মাণ কাজ বন্ধ থাকবে। সড়ক থেকে নির্মাণ সামগ্রী সরিয়ে রাখতে হবে। ঈদের সাত দিন আগে থেকে ঈদের পর তিন দিন পর্যন্ত সড়কে নির্মাণ কাজ বন্ধ থাকবে।
এদিকে আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতরে গণপরিবহনে বাড়তি ভাড়া আদায়কারীদের গোয়েন্দা সংস্থার মাধ্যমে মনিটরিংয়ের পরামর্শ দিয়েছেন বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সভাপতি মসিউর রহমান রাঙ্গা।
এ প্রসঙ্গে তিনি বলেছেন, কোনো ঈদেই মালিকপক্ষ যাত্রীদের থেকে বাড়তি ভাড়া আদায় করে না। একটি চক্র প্রতি ঈদে বাড়তি ভাড়া আদায়ের কাজটি করে।
মসিউর রহমান রাঙ্গা বলেন, ঈদে মালিকদের থেকে অতিরিক্ত কোনো ভাড়া নেওয়া হয় না। তারপরও প্রতিবার অতিরিক্ত ভাড়ার অভিযোগ আসে। আমাদের আসলে এতো পরিমাণ গাড়ি... যার কারণে সবগুলোকে একসঙ্গে দেখা সম্ভব হয় না। প্রতিবার কিছু অসাধু মানুষ আগেই বেশি করে টিকিট কেটে রেখে দেয়, এরপর ঈদের আগে বেশি দামে বিক্রি করে। এ বিষয়ে গোয়েন্দা সংস্থাকে কাজে লাগালে প্রতিকার পাওয়া যাবে।
তিনি বলেন, এবার অন্যান্য সময়ের তুলনায় রাস্তাঘাট অনেক ভালো হয়েছে। দুই লেনের রাস্তাগুলো এখন চার লেন হচ্ছে। এগুলোতে ব্যবস্থা নিলে আসা করি এই ঈদে যানবাহন চলাচলে সমস্যা হবে না। গতবার ট্রাফিক পুলিশ ড্রোন দিয়ে রাস্তার সার্বিক অবস্থা দেখার ব্যবস্থা করে দিয়েছিল, যে কারণে ক্যামেরায় দেখে সঙ্গে সঙ্গে সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে পেরেছি। এবারও যদি এ রকমটা হয়, তাহলে অনেকটাই সুবিধা হবে।
তিনি আরও বলেন, আমরা দেখি প্রতিবারই রাস্তার পাশে হাটবাজার থাকার কারণে যানবাহন চলাচল করতে সমস্যা হয়। এগুলো বন্ধ করার অনুরোধ। অন্যথায় অন্তত মূল সড়ক থেকে হাটবাজার যেন অন্তত দূরে হয়। তাহলে এবার ঈদে অন্যান্যবারের মতো ভোগান্তি পোহাতে হবে না।
ঈদযাত্রায় সড়ক দুর্ঘটনা প্রসঙ্গে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সভাপতি বলেন, প্রতি ঈদেই রাজধানীতে বাড়তি গাড়ি চলে আসে, যেগুলোর কোনো ফিটনেস থাকে না। এগুলোর কারণেই দুর্ঘটনা বেশি ঘটে। এবার ঈদে যেন এগুলো যেন চলতে না পারে। দুর্ঘটনার আরেকটি কারণ হলো মহাসড়কগুলোতে মানুষ অনেক স্পিডে গাড়ি চালায়, সেই সড়কে নসিমন-করিমন চলাচলের কারণে দুর্ঘটনা দেখা যায়। আগামীতে সমস্যা থাকবে না।







































