
সপ্তাহের প্রথম কর্মদিবসের সকালে বাংলাদেশের জনবহুল রাজধানী ঢাকার বাতাস “খুব অস্বাস্থ্যকর”। রবিবার (৮ ডিসেম্বর) সকাল ৯টার দিকে একিউআই স্কোর ২৪০ নিয়ে দূষিত বাতাসের শহরের তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ঢাকা।
একিউআই সূচক অনুযায়ী, আজকের বাতাসকে “খুবই অস্বাস্থ্যকর” হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। আজ বিশ্বে সবচেয়ে দূষিত শহরের তালিকায় আছে ভারতের দিল্লি, মিশরের কায়রো এবং পাকিস্তানের করাচি ও লাহোর। শহরগুলো যথাক্রমে ৩৬৯, ২১৩ ও ১৯০ একিউআই স্কোর নিয়ে তালিকার প্রথম, তৃতীয় ও চতুর্থ স্থান দখল করেছে।
বায়ুদূষণের পরিস্থিতি নিয়মিত তুলে ধরে সুইজারল্যান্ডভিত্তিক প্রতিষ্ঠান আইকিউএয়ার। বাতাসের মান নিয়ে তৈরি করা এই লাইভ বা তাৎক্ষণিক সূচক একটি নির্দিষ্ট শহরের বাতাস কতটা নির্মল বা দূষিত, সে সম্পর্কে মানুষকে তথ্য দেয় ও সতর্ক করে।
যখন কণা দূষণের একিউআই মান ৫০ থেকে ১০০ এর মধ্যে থাকে তখন বায়ুর গুণমানকে “মাঝারি” বলে বিবেচনা করা হয়। একিউআই সূচক ১০১ থেকে ১৫০ এর মধ্যে হলে “সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর” হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এ সময় সাধারণত সংবেদনশীল ব্যক্তিদের দীর্ঘ সময় ধরে বাইরে পরিশ্রম না করার পরামর্শ দেওয়া হয়।
১৫১ থেকে ২০০ এর মধ্যে হলে “অস্বাস্থ্যকর” হিসেবে বিবেচিত হয়, ২০১ থেকে ৩০০ এর মধ্যে হলে “খুব অস্বাস্থ্যকর” বলে মনে করা হয়। এছাড়া ৩০১ এর বেশি হলে “বিপজ্জনক” হিসেবে বিবেচিত হয়, যা বাসিন্দাদের জন্য মারাত্মক স্বাস্থ্য ঝুঁকি তৈরি করে।
আজ ঢাকা ও আশপাশের যে তিন স্থানে দূষণ বেশি, এর মধ্যে আছে সাভারের হেমায়েতপুর (২৮৯), ঢাকার মার্কিন দূতাবাস (২৮২) এবং আগা খান একাডেমি (২৭৯)। এই বায়ু যেকোনো মানুষের জন্যই ক্ষতিকর।
বাংলাদেশে একিউআই সূচক পাঁচটি দূষণের ওপর নির্ভরশীল। সেগুলো হলো-বস্তুকণা (পিএম১০ ও পিএম২.৫), এনও২, সিও, এসও২ ও ওজোন। ঢাকা দীর্ঘদিন ধরে বায়ুদূষণজনিত সমস্যায় জর্জরিত। এর বায়ুর গুণমান সাধারণত শীতকালে অস্বাস্থ্যকর হয়ে ওঠে এবং বর্ষাকালে উন্নত হয়।
ওয়ার্ল্ড হেলথ অর্গানাইজেশনের (ডব্লিউএইচও) মতে, বায়ু দূষণের কারণে প্রতি বছর বিশ্বব্যাপী আনুমানিক ৭০ লাখ মানুষের মৃত্যু হয়। বায়ুদূষণে কারণে প্রধানত স্ট্রোক, হৃদরোগ, ক্রনিক অবস্ট্রাকটিভ পালমোনারি ডিজিজ, ফুসফুসের ক্যান্সার এবং তীব্র শ্বাসযন্ত্রের সংক্রমণ থেকে মৃত্যুর হার বাড়ে।







































