
রাজধানীর গাবতলী বাস টার্মিনাল থেকে মানিকগঞ্জ হয়ে সাটুরিয়া ঘাটগামী এসবি লিংক একটি বাসে ওঠেন দুই চাচাতো ভাই আল-আমিন হোসেন ও মেহেদী হোসেন। যাবেন মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া। প্রকৃত ভাড়া ৭৫ টাকা। কিন্তু আসন্ন ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে ও যাত্রীর চাপ বেশি থাকায় সেই ভাড়া আদায় করা হচ্ছে ২০০ টাকা। এই দুইজন ছাড়াও বাসের ভেতরে থাকা আরো প্রায় ১৫-১৬ জন যাত্রীর কাছ থেকে জনপ্রতি ২০০ টাকা করে ভাড়া নেয়া হয়েছে। দেওয়া হচ্ছে না কোনো টিকিটও, আগে এসে আগে বসা ভিত্তিতে বণ্টন করা হচ্ছে আসন।
বুধবার সকালে গাবতলী বাস টার্মিনাল এলাকা ঘুরে এমন চিত্র উঠে এসেছে। গাবতলী বাস টার্মিনালে লোকাল বাসের দৌরাত্ম্য যেন দেখার কেউ নেই। এখানে ঈদ এলেই বাসের বাড়তি ভাড়া আদায় যেন নিয়মে পরিণত হয়েছে।
নিম্ন ও নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারের যাতায়াতের জন্য গাবতলি বাস টার্মিনাল থেকে পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া ফেরিঘাট পর্যন্ত একমাত্র জেলাভিত্তক লোকাল পরিবহন। বিশেষ করে গাবতলী থেকে মানিকগঞ্জ, পাটুরিয়া ঘাট হয়ে ফরিদপুর, রাজবাড়ি, মাগুরা, কুষ্টিয়া, ঝিনাইদহ, মেহেরপুর ও চুয়াডাঙ্গা পর্যন্ত মানুষ খুব সহজেই চলাচল করতে পারেন। ফেরিঘাট পার হয়েও পাওয়া যায় এসব পরিবহন। তবে ঈদের আগে যাত্রীর চাপ থাকায় সুযোগ বুঝে বাড়তি ভাড়া আদায়ের অভিযোগও রয়েছে। গাবতলী রুট ব্যবহার করে নাটোর-রাজশাহী-চাঁপাইনবাবগঞ্জ এলাকার নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য বিভিন্ন লোকাল বাস সরাসরি সেবা দিয়ে থাকে। এসব জেলাভিত্তিক পরিবহন ঈদের আগে সেবা দিয়ে থাকে।
বাস টার্মিনাল ঘুরে, রাজশাহী যাওয়ার অপেক্ষায় গাবতলী পর্বত সিনেমা হল সংলগ্ন ব্রিজের ওপরে অবস্থান করছেন মাজহারুল। তিনি বলেন, ভ্যানে করে বাসাবাড়ি পরিবর্তনের কাজ করি ঢাকায়। ঈদের আগে মানুষ বাসা পরিবর্তন করে না তাই গ্রামের বাড়ি চলে যাচ্ছি আগে। তিনি বলেন, রাজশাহীতে এর আগে ৩০০ টাকা হলেও এখন ৬০০ টাকা চাচ্ছেন গাড়িচালকরা। কিছু বললেই উল্টো কথা শোনানো হচ্ছে।
মাজহারুল বলেন, কয়েকটি গাড়িতে উঠতে চাইনি যদি পরের গাড়িগুলো ভাড়া কম নেই এ আশায়। তবে সেই আশা আর নেই। সব লোকাল বাসগুলোই দ্বিগুণ করে ভাড়া আদায় করছেন। প্রথমে ৫০০ টাকা ভাড়া নিলেও এখন সেটা আরো ১০০ টাকা বাড়তি করে ৬০০ টাকা নিচ্ছেন। তাই বাধ্য হয়ে গ্রামে যেতে হবে। একই অভিযোগ মন্টু, হায়দারসহ আরো কয়েকজনের।
সীমা নামের এক যাত্রী বলেন, মায়ের চিকিৎসার জন্য ঢাকা এসেছিলাম। দূরপাল্লার বাসের টিকিট কাটতে পারিনি, আজ গ্রামের বাড়িতে যাওয়ার জন্য এসেছিলাম। একটু আগে ভাড়া ১৫০ টাকা চাইছিল। এর ফাঁকে একটু সকালের খাবার খেয়ে ফিরে আসতে ১৫ মিনিটের কম সময় লেগেছে। এর মাঝেই ৫০ টাকা ভাড়া বেড়েছে। বাকি দিনগুলোয় কি হয় আল্লাহই ভালো জানেন। একই অভিযোগ দিলেন হাইজুল। তিনি বলেন, রাজমিস্ত্রির কাজ শেষে গ্রামের বাড়ি রাজবাড়ি পাংশায় ফিরে যাবো কিন্তু ভাড়া বেশি চাচ্ছেন।
তিনি বলেন, এর আগে ১২০ টাকায় চলে এসেছি, আজ ১৮০ টাকা চাওয়া হচ্ছে। আমরা দূরপাল্লার গাড়িতে উঠতে পারি না ভাড়া বেশি হওয়ায়, এখানেও দেখি ভাড়া বেশি চাওয়া হচ্ছে।
তবে সেলফি পরিবহনের এক চালক জাহিদুল ইসলাম খান রনি বলেন, অন্যান্য সময় পাটুরিয়া পর্যন্ত সাধারণত ১৫০ টাকা ভাড়া থাকে। এখন কিছুটা বেশি নেয়া হচ্ছে, এটা প্রতি ঈদেই হয়। আর ঈদের আগে যাত্রীদের চাপ বেশি থাকায় সবার কাছ থেকেই পাটুরিয়া ঘাট পর্যন্ত ভাড়া রাখা হয়। কেউ যদি ধামরায় অথবা মানিকগঞ্জ, সাটুরিয়া যেখানেই নামুক না কেন, ভাড়া শেষ গন্তব্য স্থল ঘাট পর্যন্তই রাখা হয়।







































