
মোঃ কাওছার আহম্মেদ, গাইবান্ধা ঃ তীব্র গরমের সঙ্গে ঘন ঘন লোডশেডিং দুইয়ের জোড়া ধাক্কায় অতিষ্ঠ গাইবান্ধার মানুষ। দিনে গরমে হাঁসফাঁস, আর রাতে বিদ্যুৎ চলে গেলে নেমে আসে অন্ধকার ও গুমোট অস্বস্তি। এই পরিস্থিতিতে স্বস্তির খোঁজে চার্জার ফ্যান ও চার্জার লাইট কিনতে ছুটছেন মানুষ। ফলে জেলার বিভিন্ন বাজারে বেড়েছে এসব পণ্যের বিক্রি। বিদ্যুৎ চলে গেলেই সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থরা। পাশাপাশি বিপাকে পড়ছেন শিক্ষার্থীরাও। রাতে লোডশেডিং হলে পড়াশোনায় ব্যাঘাত ঘটছে, নষ্ট হচ্ছে ঘুম ও স্বাভাবিক জীবনযাত্রার ছন্দ। তাই অনেক পরিবারের কাছে চার্জার ফ্যান ও লাইট এখন আর বিলাসী পণ্য নয়, বরং প্রয়োজনীয় সামগ্রী হয়ে উঠেছে। গাইবান্ধা শহরের এক শিক্ষার্থী বলেন, “গরমের মধ্যে বিদ্যুৎ চলে গেলে পড়াশোনা করা খুব কঠিন হয়ে যায়। বিশেষ করে পরীক্ষার সময় লোডশেডিং হলে ভীষণ সমস্যায় পড়তে হয়। চার্জার ফ্যান থাকায় অন্তত বিদ্যুৎ না থাকলেও কিছুটা স্বস্তিতে পড়তে পারছি।” একজন অভিভাবক বলেন, “দিনের গরম কোনোভাবে সহ্য করা গেলেও রাতে বিদ্যুৎ চলে গেলে সন্তানদের নিয়ে খুব কষ্ট হয়। ছোট বাচ্চারা ঘুমাতে পারে না, কান্নাকাটি করে। তাই বাধ্য হয়েই চার্জার ফ্যান কিনেছি। এখন বিদ্যুৎ চলে গেলেও অন্তত বাচ্চাদের একটু স্বস্তি দিতে পারছি।” গাইবান্ধা শহরের নিউজ মার্কেট এলাকার এক দোকানি জানান, কয়েক দিন ধরে চার্জার ফ্যান ও চার্জার লাইটের ক্রেতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। আগে এসব পণ্য মানুষ মূলত প্রয়োজন অনুযায়ী কিনলেও গরম ও লোডশেডিংয়ের কারণে এখন অনেকেই এগুলোকে জরুরি পণ্য হিসেবে দেখছেন।তিনি বলেন, “আগে যারা এসব পণ্য কিনতে আসতেন, তারা মূলত প্রয়োজনের কারণে কিনতেন। এখন গরম ও লোডশেডিংয়ের কারণে অনেকেই জরুরি প্রয়োজন মনে করে কিনছেন। বিশেষ করে সন্ধ্যার পর বিদ্যুৎ চলে গেলে চার্জার লাইটের চাহিদা বেড়ে যায়। আর গরমের কারণে ছোট-বড় নানা ধরনের চার্জার ফ্যানও ভালো বিক্রি হচ্ছে।” দোকানিদের ভাষ্য, বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার পরপরই চার্জার ফ্যান ও লাইটের চাহিদা সবচেয়ে বেশি দেখা যায়। সামর্থ্য অনুযায়ী বিভিন্ন দামের পণ্য কিনছেন ক্রেতারা। কেউ ঘরের জন্য বড় ফ্যান নিচ্ছেন, আবার কেউ শিক্ষার্থীদের পড়ার টেবিল কিংবা ছোট কক্ষের জন্য কিনছেন ছোট আকারের চার্জার ফ্যান। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, গরমের তীব্রতার সঙ্গে বিদ্যুতের অনিয়মিত সরবরাহ যুক্ত হওয়ায় দুর্ভোগ আরও বেড়েছে। দিনের প্রচণ্ড তাপের পর রাতে লোডশেডিং হলে স্বস্তিতে ঘুমানোও কঠিন হয়ে পড়ে। এতে শিশুদের ঘুমের ব্যাঘাতের পাশাপাশি শিক্ষার্থী ও কর্মজীবীদের দৈনন্দিন কাজেও প্রভাব পড়ছে। সব মিলিয়ে গাইবান্ধায় গরম ও লোডশেডিংয়ের প্রভাব পড়েছে বাজারেও। একদিকে বিদ্যুৎহীনতার অন্ধকার, অন্যদিকে তীব্র গরম দুই সমস্যার তাৎক্ষণিক সমাধান হিসেবে চার্জার লাইট ও ফ্যানের দিকে ঝুঁকছেন মানুষ। ফলে চাহিদার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে এসব পণ্যের বিক্রি। তবে চার্জার ফ্যান-লাইটে সাময়িক স্বস্তি মিললেও গরম ও বিদ্যুৎ-বিভ্রাটের স্থায়ী সমাধান নয় এটি। স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ফিরিয়ে আনতে বিদ্যুৎ সরবরাহ নিরবচ্ছিন্ন করার দাবি স্থানীয় বাসিন্দাদের।





























