
সাআদ মাহমুদ, হালুয়াঘাট প্রতিনিধি: ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট পৌর মার্কেট ও উত্তর বাজার এলাকায় সার ও কীটনাশক বিক্রির দোকানে অভিযান চালিয়ে মেয়াদোত্তীর্ণ কীটনাশক মজুদ ও বিক্রির দায়ে দুই প্রতিষ্ঠানকে মোট ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬) কৃষি বিপণন আইন, ২০১৮ অনুযায়ী এবং মোবাইল কোর্ট আইন, ২০০৯-এর আওতায় হালুয়াঘাট পৌর মার্কেট এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে সার ও কীটনাশক বিক্রির বিভিন্ন দোকানে পণ্যের মেয়াদ, মজুদ ও বিক্রির বিষয়গুলো পরিদর্শন করা হয়। অভিযানকালে মেসার্স আর.আর. ট্রেডার্স, হালুয়াঘাট উত্তর বাজার, হালুয়াঘাট, ময়মনসিংহ—প্রতিষ্ঠানটির মালিক হাজী মো. আব্দুর রহিম-এর দোকানসহ দুটি প্রতিষ্ঠানে মেয়াদোত্তীর্ণ কীটনাশক মজুদ ও বিক্রির বিষয়টি শনাক্ত হয়। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠান দুটির প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা করে মোট ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন হালুয়াঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফয়সাল আহমদ। এ সময় উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মাহবুবুর রহমান উপস্থিত ছিলেন। অভিযানে সার্বিক সহযোগিতা করে হালুয়াঘাট থানা পুলিশ। ‘আমরা সাধারণ কৃষক, মেয়াদ বুঝি না’ অভিযানকে স্বাগত জানিয়ে স্থানীয় কৃষক শফিকুল ইসলাম বলেন, “আমি একজন সাধারণ কৃষক, লেখাপড়া জানি না। দোকানে গিয়ে সার-বিষ নিয়ে আসি। কোনটার মেয়াদ আছে, কোনটার মেয়াদ শেষ—এসব আমরা বুঝতে পারি না। দোকানিরা যদি আমাদের মেয়াদোত্তীর্ণ জিনিস দিয়ে দেয়, তাহলে আমরা তো বুঝতেই পারব না। এতে আমাদের ফসলের ক্ষতি হবে, আমরা আর্থিকভাবেও ক্ষতিগ্রস্ত হব।” তিনি আরও বলেন, “ইউএনও স্যার যেন উপজেলার সব সার ও কীটনাশকের দোকানে এ ধরনের অভিযান পরিচালনা করেন। শুধু একদিন অভিযান করলে হবে না, কিছুদিন পরপর নিয়মিত অভিযান করা দরকার। তাহলে আমাদের মতো সাধারণ কৃষকরা মেয়াদোত্তীর্ণ বা নিম্নমানের কৃষি উপকরণ কিনে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া থেকে রক্ষা পাব।” কৃষকদের অভিযোগ, কৃষি উপকরণ কেনার সময় অনেকেই পণ্যের উৎপাদন ও মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ যাচাই করতে পারেন না। ফলে অসাধু ব্যবসায়ীদের কেউ কেউ সুযোগ নিয়ে মেয়াদোত্তীর্ণ বা অনুপযুক্ত পণ্য বিক্রি করলে কৃষকরা ক্ষতির মুখে পড়তে পারেন। এ কারণে কৃষি উপকরণ বিক্রির দোকানগুলোতে নিয়মিত নজরদারি ও অভিযান প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয় কৃষকরা। উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, কৃষকদের স্বার্থ রক্ষা এবং বাজারে মানসম্মত কৃষি উপকরণের সরবরাহ নিশ্চিত করতে সার ও কীটনাশক বিক্রির প্রতিষ্ঠানগুলোতে তদারকি কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। মেয়াদোত্তীর্ণ, ভেজাল বা অনিয়মের মাধ্যমে কৃষি উপকরণ বিক্রির প্রমাণ পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।





























